[gtranslate]

প্রবাসীদের সংকট উত্তরণ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সন্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। 


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২২, ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ / ৯২
প্রবাসীদের সংকট উত্তরণ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সন্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। 

 

মোঃ হামজা শেখ

সরকারী হিসেব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ বাংলাদেশি নাগরিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী হিসেবে অবস্থানরত আছেন, যদিও বেসরকারি হিসেবে প্রায় দুই কোটি। যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ। কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতায়, জীবন ও জীবিকার তাগিদে, উচ্চশিক্ষা ও উন্নত জীবনযাপনের লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক এই বাংলাদেশি নাগরিক তাদের শ্রম ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে উপার্জিত বিপুল পরিমান বৈদেশিক অর্থ বাংলাদেশে প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীরা যেখানে ১৮.২০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছে, সেখানে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪৭৭.৭৭ কোটি বা ২৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। রেমিট্যান্স হলো দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি এবং উন্নয়নের ভিত্তি, স্বপ্নের সোনালি সোপান ও অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বৈদেশিক সম্পদ অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হলো রেমিট্যান্স। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে পাওয়া উন্নয়ন সহায়তার চেয়ে এর ভূমিকা ও গুরুত্ব অনেক বেশি এবং বেসরকারি ঋণ সংস্থান ও পোর্টফোলিও ইকুইটি প্রবাহের চেয়েও অনেক বেশি স্থিতিশীল। অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিট্যান্সের অবদান মোট জিডিপির ১২ শতাংশ এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রবাসী এসব শ্রমিক যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাচ্ছেন, তা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের অর্ধেক। তৈরি পোশাকের পরে অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থান, যা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। প্রবাসীদের কারণে এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণে আছে। রেমিট্যান্স একই সঙ্গে দেশের বেকার সমস্যা ও কর্মসংস্থান নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তা ছাড়া জনশক্তি রপ্তানির ফলে বিরাটসংখ্যক জনগণের দৈনন্দিন চাহিদা ও খাদ্যসামগ্রীও স্থানীয়ভাবে জোগাড় করতে হচ্ছে না। সারা বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশী বাংলাদেশি, যারা সার্বিকভাবে আমাদের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।

প্রতিটি প্রবাসী বাংলাদেশি জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সকল নাগরিক অধিকারের পূর্ণ প্রাপ্যতা থাকলেও প্রকৃত অর্থে প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকেরা তাদের ন্যায্য নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সকল বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুযোগ, সুবিধা, নাগরিক অধিকার, স্বার্থ সংরক্ষণ, প্রাপ্য অধিকার আদায়, সংরক্ষণ, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা এবং সেই সাথে সকল প্রবাসী ও প্রবাসীদের পরিবারের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহ সকল ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত করা সরকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশী প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ এর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে

অনলাইনে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ কবীর হোসেন ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্র বরাবর তুলে ধরেন।

১০ দফা দাবিঃ

১/ প্রবাসে মারা যাওয়া সকল বাংলাদেশী নাগরিকদের মৃতদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে নিতে হবে।

২/ প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটাধিকার চাই।

৩/ বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি বন্ধ চাই।

৪/ প্রবাসীদের জন্য যুগপোযোগী দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন ও পেনশন সুবিধা চাই।

৫/ পাসপোর্ট সংশোধনের সুযোগসহ দালালমু্ক্ত পাসপোর্ট ও দূতাবাস সেবা চাই।

৬/ প্রবাসী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন চাই।

৭/ জাতীয় বাজেটে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চাই।

৮/ বিদেশে কাগজপত্র বিহীন প্রবাসীদের বৈধকরণে সরকারের সহযোগিতা চাই।

৯/ বিদেশে প্রবাসীদের জন্য পর্যাপ্ত বাংলাদেশী দূতাবাস ও শ্রম কল্যাণ উইং চাই।

১০/ অভিবাসন ব্যয় ১ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ও প্রবাস ফেরতদের কর্মসংস্থান, সুদমুক্ত পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধা চাই।

প্রবাসীদের সংকট উত্তরণ শীর্ষক আলোচনা শেষে সন্মানিত বিশিষ্টজনকে সন্মাননা প্রদান করা হয়।

প্রবাসী অধিকার সন্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ হচ্ছেনঃ

১/ ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিষ্ঠাতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

২/ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ

৩/ মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম-বীর প্রতীক

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ

৪/ সাদেক আহমেদ খান

বীর মুক্তিযোদ্ধা

৫/ ইশতিয়াক আজীজ উলফাত

বীর মুক্তিযোদ্ধা

৬/ নাঈম জাহাঙ্গীর

বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রেসিডিয়াম সদস্য, ভাসানী অমুসারী পরিষদ

৭/ মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম

বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

৮/ চৌধুরী আকবর হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার, বাংলা ট্রিবিউন

৯/ ঝুমুর বারী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক – একাত্তর টেলিভিশন

১০/ সাবিনা ইয়াসমিন পুথী

সাংবাদিক, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

১১/ মিরাজ হোসেন গাজী

সিনিয়র রিপোটার, বাংলা ভিশন

১২/ রোজিনা ইসলাম

সিনিয়র সাংবাদিক, প্রথম আলো

১৩/ ড. আসিফ নজরুল

অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৪/ ড. দিলারা চৌধুরী

লেখক ও গবেষক।

১৫/ মাহমুদুর রহমান মান্না

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও আহবায়ক, নাগরিক ঐক্য

১৬/ শরিফুল হাসান

প্রধান সমন্বয়ক, ব্রাক অভিবাসন প্রোগ্রাম

১৭/ শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু

মহাসচিব, ভাষানী অনুসারী পরিষদ।

১৮/ ড. রেজা কিবরিয়া

অর্থনীতিবিদ ও আহবায়ক, গণ অধিকার পরিষদ।

১৯/ নুরুল হক নুর

প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ ও সদস্য সচিব, গণ অধিকার পরিষদ

২০/ প্রকৌশলী মোঃ কবীর হোসেন

সভাপতি, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ

২১/ বিপ্লব কুমার পোদ্দার

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরি