

নিজস্ব প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুছ ছাত্তার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মধ্যনগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও চামরদানী ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মেহেদী হাসান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চান। এ সময় চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই।
এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে মেহেদী হাসান উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি কার্যালয়ের ভেতরে থাকা ৫-৬টি চেয়ার, একটি টেবিল, গ্লাসসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুছ ছাত্তার বলেন, “বাজেট না থাকার কথা জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসের চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর করেন এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।”
তবে অভিযুক্ত মধ্যনগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এলাকার কয়েকজন আমাকে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক নারীকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ দেন। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে আমি পরিষদে যাই। ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে চেয়ারম্যান নিজেই চেয়ার ভাঙচুর করে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু বলেন, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে সদস্য সচিবের কাছ থেকে শুনেছেন। শিগগিরই দলীয় সভা ডেকে বিষয়টি জেলা কমিটিকে অবহিত করা হবে।
মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহিন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আপনার মতামত লিখুন :