[gtranslate]

তাহিরপুরের বড়ছড়া জয়বাংলা বাজারে রমজানেই নিত্যপণ্যে আগুন, দিশেহারা ক্রেতারা


Abdul Mannan প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ / ২৮
তাহিরপুরের বড়ছড়া জয়বাংলা বাজারে রমজানেই নিত্যপণ্যে আগুন, দিশেহারা ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বড়ছড়া জয়বাংলা বাজারে পবিত্র রমজান শুরু হতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। পহেলা রমজান বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামই বেড়েছে, ফলে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
একদিন আগে যে কলা ১৫ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে, সেই একই কলা এখন ৩০–৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যে লেবু ২০ টাকা হালি ছিল, তা এখন প্রতি পিস ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা/কিরা ৫০ টাকা কেজি, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা কেজি। পাশাপাশি আলু, বেগুন, টমেটো, শিম, পুঁইশাকসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে—কাঁচাবাজারে যেন আগুন জ্বলছে।
ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ খেজুরের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। নিম্নমানের খেজুর ২৫০ টাকা কেজি হলেও একটু ভালো মানের খেজুর ৬০০ থেকে ১০০০–১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আঙুর ও আপেলের দামও এতটাই বেশি যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই সেগুলো কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
অন্যদিকে স্থানীয় হোটেলগুলোতে ডালের বড়া, ছানা, বুন্দিয়া ও জিলাপি প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কোনো ধরনের কার্যকর মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।
ক্রেতারা বলেন, “রমজান রহমতের মাস। এ মাসে ব্যবসায় সততা, ন্যায্য মূল্য ও মানবিকতা প্রত্যাশা করি। কিন্তু বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
এদিকে সীমান্তবর্তী এ বাজারকে ঘিরে আরও একটি অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু বোঙ্গারু ব্যবসায়ী বড়ছড়া জয়বাংলা বাজার থেকে মাছ, তরকারি, মোরগসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে ভারতে পাচার করছেন। এতে স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং দাম বাড়ছে।
ক্রেতা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে অবৈধভাবে কোনো পণ্য সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাচার না হয়।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত দিয়ে পণ্য পাচার বন্ধ করা গেলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং কিছুটা হলেও দামে স্বস্তি ফিরতে পারে।