[gtranslate]

৬ মাস ধরে হাসপাতালে পানি পাম্প বন্ধ ভোগান্তিতে রোগীরা


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৮, ২০২১, ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ / ১২৮
৬ মাস ধরে হাসপাতালে পানি পাম্প বন্ধ ভোগান্তিতে রোগীরা

 

আরিফুল ইসলাম মুরাদ (স্টাফ রিপোর্টার বরগুনা)

 

বরগুনার আমতলীর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের পানি সরবরাহের প্রধান পাম্পটি ৬ মাস ধরে বিকল থাকায় হাসপাতালে আসা রোগী এবং আবাসিক ভবনে বসবাসরত চিকিৎসক নার্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা পানি সমস্যার কারনে পরেছে মহাবিপাকে।

তাছাড়া হাসপাতালে করোনার টিকা নিতে আসা শত শত নারী পুরুষও পর্যাপ্ত পানির অভাবে টয়লেট ব্যবহার করতে পারছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আসমতলী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপতালের পানি সরবরাহের প্রধান পাম্পটি এপ্রিল মাসের ২ তারিখ বিকল হয়ে যায়। এর পর ধীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুনয়েম সাদ নিজ উদ্যোগে ১২ এপ্রিল হাসপাতালের মসজিদের গভীর নলকুপের সাথে একটি বিকল্প সংযোগের ব্যবস্থা করেন। এতে স্বল্প আকারে পানি সরবরাহ হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

বর্তমানে হাসপাতালটিতে প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি

রয়েছে। কিন্তু যে সামান্য পানি সরবরাহ হচ্ছে তা দিয়ে রোগীদের গোসল এবং টয়লেট ব্যাহারের পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের বিঘ্ন ঘটছে। বেশিরভাগ সময়ই রোগী এবং রোগীদের স্বজনরা হাসপাতালের বাহির থেকে বালতি ভরে পানি নিয়ে এসে গোসলসহ টয়লেটের কাজে ব্যবহার করছেন। এছাড়া হাসপাতালের আবাসিক ভবনে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীসহ বসবাসরত চাকুরিজীবিরাও পরেছেন মহাবিপদে।

এখানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য কর্মকর্তাতাদের জন্য রয়েছে ৪টি আবাসিক ভবন। এসকল ভবনে বসবাসরত চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মচারীরা পানির অভাবে তারা ঠিকমত গোসলসহ সাংসারিককাজ

করতে পারছে না। বিকল্প ভাবে যে সামান্য পানি সরবরাহ করা হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে রোগী এবং তাদের সাথে আসা স্বজনরা ঠিকমত গোসল এবং টয়লেট ব্যবহার করতে পারছে না। টয়লেটে পানি কম ব্যবহার করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ব্যাপক হারে। বর্তমানে মহামারি করোনার টিকা নিতে প্রতিদিন শত শত নারী পুরুষ হাসপাতালে আসছেন। পর্যাপ্ত পানির অভাবে তারা ঠিক মত টয়লেট ব্যাহার করতে পারছেন না।

হাসপাতালে ভর্তি বৈঠাকা গ্রামের চন্দ্র ভানু বেগম বলেন, পানির অভাবে ঠিকমত গোসল এবং কাপর চোপর ধুতে পারছি না।

হাসপাতালে ভর্তি পশ্চিম চিলা গ্রামের মশিউর রমান বলেন, পানি সমস্যায় ঠিকমত গোসল এবং বাথরুম ব্যবহার করতে পারছি না।

হাসপাতালের আবাসিক ভবনে বসবাসরত নার্স রেভা, সালমা, মোর্শেদা, আখি বলেন, হাসপাতালের পানি তোলার পাম্প মেশিনটি নষ্ট থাকায় এখন আমরা নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পাই না। বিকল্প ভআবে যে পানি সরবরাহ করা হয় তা দিয়ে আমাদের সাংসারিক কাজের জন্য রান্না

বান্না এবং ধোয়া মোছাসহ বাসা ঠিক ভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা জায় না। বর্তমানে প্রচন্ড গরমে পানির অভাবে খুই কষ্টে আছি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পটুয়াখালীর উপসহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত হালদার বলেন, আমতলী উপজেলায়

পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় পুরাতন পাম্পে পানি উঠছে না। তাই আমতলী হাসপাতালের পানি

সমস্যা সমাধানের জন্য একটি নতুন পাম্প মেশিন বসানোর জন্য চাহিদা দিয়েছি। অনুমোদন

এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ প্রচেষ্টা নিউজ ২৪ ডটকমকে বলেন, হাসপাতালে ৬ মাস ধরে পানি তোলার পাম্পটি নষ্ট হওয়ায় পানি সমস্যা প্রকট আকার ধারন করছে। বিষয়টি একাধিকবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বর্তমানে বিকল্প পদ্ধতিতে আমার নিজ উদ্যোগে হাসপাতালের গভীর নলকুপের সাথে সংযোগ দিয়ে সামন্য পানি সরবরাহ চালু রেখেছি। তাও কখন বন্ধ হয়ে যায়

বলা যায় না।

এ ব্যাপারে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান ,প্রচেষ্টা 24 ডটকমকে জানান, পাম্পের সমস্যার বিষটি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।