[gtranslate]

স্বামীর জীবনের নিরাপত্তা চাই: মাহি


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : মার্চ ১৮, ২০২৩, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ / ২৪
স্বামীর জীবনের নিরাপত্তা চাই: মাহি

মোঃ আঃ রহিম জয়, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাসহ দুটি মামলা করানো হয়েছে দাবি করে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি নিজের স্বামীর নিরাপত্তা চেয়েছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। শনিবার (১৮ মার্চ) রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারামুক্ত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।   গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মাহি বলেন, ‘একটি চক্র আমাদের জায়গা দখলের চেষ্টা করছিল। পুলিশ কমিশনার তাদের সহায়তা করেছেন। তার কারণেই আমরা জমি নিয়ে সঠিক সমাধান পাইনি।’পুলিশের আচরণে মনে হয়েছে আমি যুদ্ধাপরাধী: মাহি নিজের সঙ্গে হওয়া পুলিশের আচরণকে যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে হওয়া আচরণের মতো তুলনা করেছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। গাজীপুরের মেট্রোপলিটনের এক কর্মকর্তার চাওয়ায় তার সঙ্গে এমন আচরণ হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি। শনিবার (১৮ মার্চ) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার ও কারাগারে যাওয়ার পর জামিন পান মাহি। রাতে ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে তাকে স্বজদের হাতে তুলে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা কারাগারের সুপার মো. আনোয়ারুল করিম। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহি বলেন, ‌‌‘আমার সঙ্গে জেলা কারাগারের কর্মী ও বন্দিরা ভালো ব্যবহার করেছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে তারা মানুষ। তারা জানেন কীভাবে একজন প্রেগন্যান্ট নারীকে সম্মান দিতে হয়। তবে ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে কারাগারে নেয়া পুলিশ সদস্যরা আমার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, মনে হয়েছে আমি যুদ্ধাপরাধী। আমাকে এক বোতল পানি দিতেও তারা এক ঘণ্টার বেশি সময় নিয়েছে।’   তিনি বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার আমাদের জমি দখলের বিষয়ে অভিযোগ দিতে গেলে কোনো সহায়তা করেননি। উল্টো তিনি আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। বিরোধী পক্ষের হয়ে তিনি আমাদের জায়গা দখলে সহায়তা করতে চেয়েছেন। নয়তো তিনি আমাদের জিডি গ্রহণ করতেন, বা সঠিক তদন্তের ব্যবস্থা করতেন।’ কারামুক্ত হয়ে যা বললেন নায়িকা মাহি সকালে গ্রেফতার এবং দুপুরে কারগারে পাঠানোর পর বিকেলে মেলে জামিন আদেশ। এরপর রাতে মুক্তি মেলে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির। মাহিকে নিয়ে এভাবেই নানা নাটকীয়তায় কাটে শনিবার (১৮ মার্চ) দিনটি। রাতে গাজীপুর কারাগার থেকে মুক্তির পরপরই সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নায়িকা। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে মাহি বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন নয়, আমার অভিযোগ ছিল ব্যক্তি বিশেষের ওপর। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই দেশে ফিরে এসেছি।’ এদিকে গাজীপুর জেলা কারাগারের সুপার মো. আনোয়ারুল করিম বলেন, ‘আমরা জামিনের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে কারাফটকে এনেছি। পরে ৭টা ৫০ মিনিটে তার স্বজনরা এলে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। এর আগে বিকেলে জমি দখল ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় কারাগারে পাঠানোর সাড়ে তিন ঘণ্টা পর চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে জামিন দেন আদালত। গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন জামিন আদেশ দেন। প্রেগনেন্সি ও সেলিব্রেটি বিবেচনায় আদালত এ আদেশ দেন বলে জানান মাহির আইনজীবী আনোয়ার শাহাদাত সরকার। তিনি বলেন, তার মক্কেল আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই মামলা হওয়ার পরও দেশে চলে এসেছেন। এর আগে দুপুরে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ইকবাল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে মাহিকে গাজীপুর জেলা কারাগারে নেয়া হয়। এদিন দুপুর ১২টার দিকে জিএমপির সদস্যরা হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে মাহিকে গ্রেফতার করেন। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মাহিয়া মাহি সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এর আগে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া মাহি সৌদি আরবের মক্কা শহর থেকে শুক্রবার (১৭ মার্চ) ভোরে ফেসবুক লাইভে আসেন। লাইভে স্বামী রকিব সরকারের গাড়ির শোরুম ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ করেন। মাহি দাবি করেন, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে ‘সনিরাজ কার প্যালেস’ নামে তার স্বামীর একটি গাড়ির শোরুম রয়েছে। সেই শোরুমে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা তার শোরুমের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা শোরুমের বিভিন্ন আসবাব, দরজা-জানালার কাঁচ, টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করেছে। শোরুমের সাইনবোর্ডও খুলে ফেলেছে। দুর্বৃত্তরা তার অফিসকক্ষ তছনছ করে টাকাপয়সা লুট করে নিয়ে গেছে।ইসমাইল হোসেন ওরফে লাদেন ও মামুন সরকারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন মাহি। এর আগে ফেসবুকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ’ নেয়ার অভিযোগ তোলেন মাহি। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে মাহিয়া মাহি ও রকিব সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে পুলিশ। শুক্রবার রাতে বাসন থানার এসআই রোকন মিয়া বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এছাড়া জমি দখলের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে হুকুমের আসামি করে আরও একটি মামলা করেন স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন।