[gtranslate]

স্ত্রী রোখসানাকে হত্যার দায়ে স্বামী শামসুজ্জামান বাবুর গ্রেফতারের দাবীতে থানা ঘেরাও করেছে এলাকাবাসীঃ


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৩, ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ / ২৫
স্ত্রী রোখসানাকে হত্যার দায়ে স্বামী শামসুজ্জামান বাবুর গ্রেফতারের দাবীতে থানা ঘেরাও করেছে এলাকাবাসীঃ

আবু তালেব,স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বেতগাড়ী ইউনিয়নের চারআনি শেরপুর গ্রামের তফেল উদ্দিনের মেয়ে রোখসানা পারভীন (৩৬) কে হত্যা করেছে তার স্বামী শামসুজ্জামান বাবু (৩৯)। শামসুজ্জামান বাবু গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের শান্তিপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। স্ত্রী রোখসানাকে হত্যার দায়ে স্বামী শামসুজ্জামান বাবুকে গ্রেফতারের দাবীতে গঙ্গাচড়া মডেল থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী। শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭ঃ৩০ ঘটিকায় গঙ্গাচড়া মডেল থানার সামনে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ শত জন এলাকাবাসী রোখসানার হত্যাকারী স্বামী শামসুজ্জামান বাবুকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সেখানে উপস্থিত হয়। উপস্থিত এলাকাবাসী গঙ্গাচড়া মডেল থানার গেট ঘেরাও করে রাখে। এলাকাবাসীরা বলেন,রোখসানাকে তার স্বামী শামসুজ্জামান বাবু গত ১৪ জানুয়ারি সকালে বিষ পান করিয়ে হত্যা করেছে। সে কারণে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় যার মামলা নং-১৮ । যদিও পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে চায় নি কিন্তু পরে মামলাটি নেয়। মামলা করার পর ২৪ ঘন্টা হয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। আসামীরা এখনো স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই আমরা আজ থানা ঘেরাও করেছি। আমাদের দাবি আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সকল আসামীকে গ্রেফতার করতে হবে। আর যদি তা না হয় আমরা রংপুরে প্রেস কন্ফারেন্স করবো, ডিসি মহোদয়ের কাছে স্মারক লিপি পাঠাবো। রোখসানা খুব ভালো মানুষ ছিলো, আমাদের সকলের কাছে অত্যান্ত প্রিয় ছিলো। তার হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। কথা বলা হয় রোখসানার পিতা তফিজ উদ্দিনের সাথে। মেয়ে রোখসানার মৃত্যু সম্পর্কে তিনি বলেন, গত ১৮ বছর পূর্বে গংগাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের শান্তি পাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের পুত্র শামসুজ্জামান বাবু (৩৯) এর সাথে আমার কন্যা রোখসানার ইসলামী শরীয়া মোতাবেক বিবাহ হয়। তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স ১৬ বছর অন্যজনের বয়স ৮ বছর। কিন্তু গত এক বছর থেকে আমার জামাই গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভূটকা গ্রামে রোস্তম আলীর মেয়ে রিংকি (১৯) এর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। আমার মেয়ে বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বারণ করলে সে আমার মেয়েকে কারণে-অকারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে এবং ৫-৭ দিন পূর্বে আমার মেয়েকে না জানিয়ে রিংকিকে বিয়ে করে নিয়ে আসে। আর আমার মেয়ে তার প্রতিবাদ করলেই ঝগড়ার মাধ্যমে বিষ পানের ঘটনা ঘটে এবং আমার মেয়ে মারা যায়। পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার না করায় গ্রামবাসীর সাথে আমরা ও এসেছি তার গ্রেফতারের দাবি নিয়ে। এ বিষয়ে কথা বলা হয় গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ দুলাল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, গত ১৫ তারিখ রাতে তারা মামলা করার জন্য আসে। এজাহার কপিতে অনেক ভূল থাকায় আমি তার সংশোধন করা সহ সার্বিক সহযোগিতা করি। এজাহারের কপি সংশোধন করতে অনেক রাত হলে তারা চলে যায়। পরের দিন বেতগাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাইমিনুল ইসলাম মারুফ সাহেবের মাধ্যমে কথা বলে তাদের ডেকে আনি। তারা আসলে মামলাটি নেয়া হয় এবং আমরা আসামীদের কে গ্রেফতারের কাজ শুরু করি। আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের আটক করা যায়নি। আমরা সার্বিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করা যায়। মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বেতগাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাইমিনুল ইসলাম মারুফের সাথে কথা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অফিসার ইনচার্জ মহোদয় আমাকে ফোন দিলে আমি মোবাইলে কন্ফারেন্স কলের মাধ্যমে বাদীর পরিবারের লোকের সাথে কথা বলাই এবং তারা থানাতে গেলে তিনি মামলাটি নেন। আমি নিজেও অফিসার ইনচার্জ মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি তিনি সার্বিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য।