[gtranslate]

স্ত্রী ডিভোর্স দেওয়া বছরে পর বছর ধরে নিজ বাড়িতে শিকলবন্দী তুহিন


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৬, ২০২১, ৬:১৮ অপরাহ্ণ / ১২০
স্ত্রী ডিভোর্স দেওয়া বছরে পর বছর ধরে নিজ বাড়িতে শিকলবন্দী তুহিন

 

আরিফুল ইসলাম মুরাদ( স্টাফ রিপোর্টার বরগুনা)

 

স্ত্রী ছেড়ে চলে যাওয়ায় মানষিক ভারসাম্য হাড়িয়ে ৫ বছর ধরে নিজ ঘরে শিকলবন্দী হয়ে আছেন জয়নাল হোসেন তুহিন (২৯) নামের এক যুবক। তুহিন বরগুনা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের সুরেশ্বর বাজার এলাকার আবদুল জব্বারের ছেলে।

 

জানা যায়, ২০১৭ সালের সময়ে নিজের পছন্দে বরগুনার পশ্চিম হেউলিবুনিয়া গ্রামের

মেয়ে ময়না আক্তারকে বিয়ে করে তুহিন। বিয়ের পর তুহিন মা,বাবা, স্ত্রী নিয়ে আনন্দেই দিন কাটাচ্ছিলো। বিয়ের কিছুদিন পর বরগুনা মা কম্পিউটার নামের একটি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি করে কিন্তু সংসার চালাতে একটু হিমসিম খাচ্ছে তাই বরিশালে একটি দোকান কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি। চাকরির সুবাদে তুহিনকে বরিশালেই থাকতে হত। মাসে একবার করে বাড়িতে আসত স্ত্রী, মা-বাবার কাছে। এমন করেই দিন যাচ্ছিল তুহিনের।

 

হঠাৎ একদিন তুহিনের স্ত্রী ময়না কোন কারন ছাড়াই তুহিনকে ডিভোর্স দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। এখবর জানতে পেরে তুহিন বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে দরজা জানালা বন্ধ করে আসবাবপত্র ভাংচুর করতে থাকে। পরে স্বজনরা দরজা ভেঙে অজ্ঞান অবস্থায় তুহিনকে উদ্ধার করে। এরপর থেকেই তুহিন অস্বাভাবিক আচরন করতে শুরু করে। মানুষ দেখলে কামড়ে দিতে চায়। তারপর থেকেই শিকলে বাঁধা পড়ে যায় তুহিনের জীবন।

প্রথমে জ্বীনের আচড়ে অস্বাভাবিক আচরন করছে ভেবে একেরপর এক ওঝার শরণাপন্ন হন তুহিনের বাবা মা। ওঝার পরামর্শে পুনরায় বিয়ে করান তুহিনকে। তবুও সুস্থ্য হয়নি তুহিন। আর স্বামী পাগল হওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীও থাকছে বাপের বাড়ি গিয়ে। অসচ্ছল, দরিদ্র হওয়ায় চিকিৎসাও করাতে পারেনি মা বাবা। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল তুহিন। তার এই অবস্থায় না খেতে পেয়ে পথে বসেছে পরিবারটি।

 

তুহিনের মা সুফিয়া বেগম জানান, টাকার অভাবে আমার পাগল ছেলের কোন চিকিৎসা করাতে পারছিনা। সরকার এত মানুষকে সহায়তা দেয়, আমাদের কি চোখে পড়েনা। আমার ছেলেকে পাবনা চিকিৎসা করাতে চাই সরকার আমাদের দিকে একটু নজর দিক। তুহিনের আমার আরো জানান

ছাড়া পেলে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, মানুষজন কামড়ে দেয় তাই শিকলে বেঁধে রাখতে হয়।

 

গত ৫ বছরে কোন ধরনের সরকারি সহায়তা পায়নি তুহিন। এমনটাই জানিয়েছেন তুহিনের বাবা।

 

তুহিনের বাবা আবদুল জব্বার আমাদের কে বলেন, আমার ৪ মেয়ে ২ ছেলে। মেয়েরা সবাই শশুরবাড়ি থাকে। আর বড় ছেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে আালাদা থাকে।

আমার ছোট ছেলে তুহিন ৫ বছর ধরে পাগল। এমন অবস্থায় লোকজনের কাছ থেকে খাবার চেয়ে এনে জীবন চালাই। আমার ছেলে মেয়েদে বেশি অথ সম্পদ নেই যে তুহিনে চিকিৎসা চালাবে। এখন পর্যন্ত কোন প্রকার সরকারি বেসরকারি কোন সহায়তাই পাইনাই। এরকম চললে বেশিদিন বাঁচা সম্ভব হবেনা।

 

এবেপারে বরগুনা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রথমে তাকে চিকিৎসা করাতে হবে। চিকিৎসার রিপোর্টে যদি তার মানষিক রোগ ধরা পরে তাহলে আমরা তাকে কার্ড দেব। কার্ডের মাধ্যমে তাকে ভাতার আওতায় আনা হবে। এরপর থেকে প্রতিবছর সময়মত তিনি ভাতা পেয়ে যাবেন।