[gtranslate]

সিলেট চেম্বারের গোলটেবিল বৈঠকে এহছানে এলাহী-৪১ সালের মধ্যে দেশ সমৃদ্ধশালী হবে


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩১, ২০২২, ৪:২৬ অপরাহ্ণ / ২৩
সিলেট চেম্বারের গোলটেবিল বৈঠকে এহছানে এলাহী-৪১ সালের মধ্যে দেশ সমৃদ্ধশালী হবে

মুফিজুর রহমান নাহিদ স্টাফ রিপোর্টারঃ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এহছানে এলাহী বলেছেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সকলকে পরিবর্তন হতে হবে। আমাদেরকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে নিজের কাজটি ঠিকমত করতে হবে। সবাই নিজ দায়িত্ব ঠিকমত পালন করলে কোথাও কোন সমস্যা থাকবেনা। বঙ্গবন্ধুর কথার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সোনার বাংলাদেশ গঠনের জন্য সোনার মানুষ লাগবে।

শনিবার, দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট সার্কিট হাউজে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে আয়োজিত বৃহত্তর সিলেটের আঞ্চলিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে রূপকল্প-২০৪১ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হবে। তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বাংলাদেশীগণকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের কাজের উপযোগী ফিল্ড এখানে তৈরী করতে হবে। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হয়, এ সংখ্যাকে ২২ লক্ষে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের কাজ শুরু হয়েছে, আমরা আশাবাদী ২টি সার্ভিস লেনসহ ৬ লেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বা বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নে আজকের সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সরকারের মধ্যে থেকে আমরা শুধুমাত্র সিলেটের আলোকে চিন্তা করতে পারি না, আমাদেরকে সমগ্র দেশ নিয়ে চিন্তা করতে হয়। তবে সিলেটের যেকোন সমস্যাবলী সমাধানে তিনি তার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সভায় মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন স্কিল্স এন্ড এমপ্লয়মেন্ট এর সিনিয়র পলিসি অফিসার ও বিনিয়োগ বোর্ড, বাংলাদেশ এর সাবেক পরিচালক ড. এম এমদাদুল হক বলেন, ভৌগলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যতার কারণে সিলেট বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। সিলেট অঞ্চলের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং সিলেটকে এগিয়ে নিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিলেটের যেসব কর্মকর্তাগণ রয়েছেন তাদেরকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, একসময় সচিবালয়ে সিলেটের প্রচুর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে সিলেটীদের মধ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় এবং মানসম্মত শিক্ষার অভাবে প্রশাসনে সিলেটের কর্মকর্তাদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, সরকারী বিভিন্ন সেবাকে সহজ করতে সেবা বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। উন্নত বিশ্বে সরকারী সংস্থাগুলোর স্থানীয় অফিসসমূহ বাংলাদেশের তুলনায় অনেক শক্তিশালী। কারণ রাজধানী থেকে কোন নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা ততটা অনুধাবন করা যায় না। তিনি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বা বৃহত্তর সিলেটের আঞ্চলিক উন্নয়নে নর্থ-ইস্ট কমিশন ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এনসিপিডি) বা রিজিওনাল প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (আরপিডিএ) নামে একটি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব করেন।

সভায় বক্তাগণ বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নে সময়োপযোগী গোলটেবিল বৈঠকটি আয়োজনের জন্য দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনা অপরিহার্য্য। সেই সাথে সিলেটের লোকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিদেশ গমনের প্রবণতাকে পরিবর্তন করতে হবে। কারণ গত কয়েকবছরে বিপুল পরিমান শিক্ষার্থী দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় সিলেট দিন দিন মেধাশূণ্য হয়ে পড়ছে। তাদেরকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরে দেশে ফিরে এসে দেশের জন্য কাজ করার প্রতি উৎসাহ দিতে হবে। এছাড়াও বক্তাগণ ঢাকা-সিলেট হাই স্পীড ট্রেন চালু, সিলেটে বিশ্বমানের ইউনিভার্সিটি, নার্সিং ইন্সটিটিউট ও ট্রেনিং সেন্টার চালু, কৃষিখাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সিলেট-চট্টগ্রাম হাইওয়ে নির্মাণ, নতুন বিসিক শিল্প নগরী স্থাপন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, সিলেট থেকে বিদেশে স্কীল্ড কর্মী প্রেরণ, জালালাবাদ এসোসিয়েশন ও সিলেট সমিতি সহ সিলেটের সামাজিক সংগঠনগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি, সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার ও আইটি ইউনিভার্সিটি স্থাপন সিলেটে পর্যটকসংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিমানের ভাড়া হ্রাসকরণ সহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, সিলেটের সম্ভাবনার আলোকে সিলেটের জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি সিলেট থেকে সরাসরি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে তাজা শাক-সবজি ও ফলমূল রপ্তানির লক্ষ্যে সিলেটে প্যাকিং হাউজ ও সার্টিফিকেশন ল্যাব নির্মাণ, শিল্প খাতে সিলেটকে এগিয়ে নিতে সিলেটে নতুন বিসিক শিল্প নগরী স্থাপন, জকিগঞ্জ বর্ডার দিয়ে ভারত থেকে বাঁশ আমদানির অনুমতি প্রদান, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সিলেটের ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন, ভোলাগঞ্জ স্থল শুল্ক স্টেশনে ইমিগ্রেশন চালু সহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মাসুম আহমদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোঃ খায়রুল আমীন, সাবেক যুগ্ম সচিব জাফর রাজা চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ সাইফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বদরুল হক, সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, শাবিপ্রবির প্রফেসর ড. ফজলে এলাহী মোঃ ফয়সল, এমসি কলেজের প্রফেসর শেখ মোঃ নজরুল ইসলাম, বিডা সিলেট