[gtranslate]

সংলাপ নয় আন্দোলনে মনোযোগ বিএনপির


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : মার্চ ২৭, ২০২৩, ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ / ২০
সংলাপ নয় আন্দোলনে মনোযোগ বিএনপির

সাংবাদিক জয়

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দল এবং জোট। প্রতিটি কর্মসূচিতেই এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রতিনিধিদেরকেও বিএনপি এবং জোটের নেতৃবৃন্দ সুস্পষ্টভাবে বলছেন যে, বর্তমান সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া কোন নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবেন না। এজন্য সরবার আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সেই সরকারই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে, তাদের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। বিএনপি যখন তাদের দাবিতে অনড় রয়েছে এবং দাবি আদায়ে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে একের পর এক কর্মসূচি পালন করছে তখন বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলোকে আলোচনায় বসতে চিঠি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। গত বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তিনি এ চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন আপনাদের (বিএনপি) দ্বারা প্রত্যাখাত হলেও মনে করে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃবৃন্দের সাথে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক না হলেও, অনানুষ্ঠানিক আলোচনা ও মতবিনিময় হতে পারে। যদিও বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বিরোধীতা করে আসছে বিএনপি। দলটি এই নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় প্রেসিডেন্টের ডাকা সংলাপে অংশগ্রহণ করেনি। তাদের সঙ্গে সমমনা দল ও বাম কয়েকটি দলও আলোচনায় অংশ নেয়নি। পরবর্তীতে হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর গত বছর জুলাই মাসে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে। এটিও বর্জন করে বিএনপিসহ ৯টি দল। এমন পরিস্থিতিতে ফের সংলাপের ডাককে নতুন ষড়যন্ত্র কিংবা কৌশল হিসেবে দেখছে বিএনপি। ক্ষমতাহীন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোন সংলাপের প্রয়োজনীয়তাই দেখছে না দলটি। তারপরও ইসির চিঠি রাজনৈতিকভাবে বিশ্লেষণের কথা ভাবছেন দলটির নেতারা। এজন্য আজ দলের স্থায়ী কমিটির সভায় ইসির প্রস্তাবের বিষয়ে সদস্যদের মতামত চাওয়া হবে। তারপরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা নিয়ে আমরা সোমবার স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। তবে ইসির ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কোনো ক্ষমতা আছে নাকী? সে পারবে এই প্রশাসনকে সোজা করতে? পারবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংকট একটাই। সেই সংকট হচ্ছে, নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার কে থাকবে? নির্বাচনকালীন সময়ে যদি আওয়ামী লীগ থাকে, এই সরকার থাকে তাহলে এই নির্বাচন কোনোদিনই সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ হতে পারবে না- এটা প্রমাণিত। শুধু জাতীয় সংসদ নয়, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও। তাই আসল জায়গাটা হচ্ছে, নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে। তা না হলে অন্য কোনো কিছুতে কাজ হবে না এবং দেশের মানুষ মেনে নেবে না। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, আজ স্থায়ী কমিটির সভায় ইসির চিঠি নিয়ে দুই রকম প্রস্তাবনা আসতে পারে। এর একটি হচ্ছে- স্থায়ী কমিটির সদস্য কেউ কেউ ইসির চিঠির ডাকে সাড়া দিয়ে বৈঠকে বসার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করবেন। তাদের যুক্তি হলো- ইতিবাচকভাবেই নেতিবাচক বিষয় তুলে ধরা। তারা ইসিতে মধ্যম সারির নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে চান এবং ইসির সঙ্গে বৈঠকে যেসব প্রস্তাব দেয়া হবে তার কোনটিই যে ইসি পালন করতে পারবে না সেটি সকলকে জানাতে চান। তবে স্থায়ী কমিটির আরেকটি পক্ষ ইসির সঙ্গে সংলাপের কঠোর বিরোধীতা করবেন। তাদের যুক্তি হচ্ছে- যে ইসি গঠনের শুরু থেকেই আমরা বিরোধীতা করছি, যাকে আমরা স্বীকারই করি না তাদের সঙ্গে কিসের সংলাপ। এটি স্থায়ী কমিটি আলোচনারই কোন প্রয়োজন নেই বলে তারা মনে করেন। এখন নির্বাচন কমিশন কোন মূখ্য বিষয় না, মূখ্য বিষয় হচ্ছে সরকারের পদত্যাগ। তাই সেই দাবি আদায়ে আন্দোলন বেগবান করার কথা ভাববে দলটি। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যে নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচন করার সামর্থ নেই তাদের সঙ্গে সংলাপ করে কি হবে? সংলাপের কোন প্রশ্নই আসে না। তাদের সঙ্গে যতবারই সংলাপ করা হবে তার কোন ফল আসবে না। বরং কালক্ষেপণ হবে। বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কেউই এখন নির্বাচন কমিশন কিংবা নির্বাচন নিয়ে ভাবতে নারাজ। তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সারতে চায়। অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশ-পরিস্থিতি প্রয়োজন সেটা কি তারা করতে পেরেছে বা আগামীতে করতে পারবে? প্রশাসনের ওপর বর্তমান সরকারের একচেটিয়া কর্তৃত্ব এবং সেই প্রশাসনের উপর নির্ভর করে নির্বাচন কেমন হবে? এর আগে যিনি দলীয় নেতার মতো কথা বলতেন সেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার সঙ্গে বিএনপি সংলাপ কজরেছে, ফলাফল হয়নি। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সংলাপ করেছে কিন্তু কোন ফলাফল হয়নি। বরং ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়ে গেছে। তাই আলোচনা বা সংলাপে আস্থা নেই বিএনপি নেতাকর্মীদের। দলটির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এখন আমাদের কাছে নির্বাচন কমিশন কোন মূখ্য বিষয় না, মূখ্য হচ্ছে সরকারের পদত্যাগ। নির্বাচন কমিশন বা নির্বাচন নিয়ে আলোচনার কোন সুযোগ নেই। এসবের কোন গুরুত্ব নেই। আলোচনা হতে পারে সরকারের পদত্যাগের পর, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার নিয়ে, কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে সেসব নিয়ে। তিনি বলেন, ইসি চিঠি দেয়ার পরপরই আমরা দলের পক্ষ থেকে আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছি। যুগ্ম মহাসচিব এড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, নির্বাচন কমিশনের যদি আন্তরিকতা থাকেও তাও তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। কারণ সরকার প্রশাসন ও নির্বাচন কাঠামো এমনভাবে দলীয়করণ করেছে যে, ইসি যত ভালো হোক তারা কিছুই করতে পারবে না। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের