[gtranslate]

শিবগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বিএনপি নেতা আলম মেম্বারের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৪, ২০২৩, ১২:০০ অপরাহ্ণ / ২৫
শিবগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বিএনপি নেতা আলম মেম্বারের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সস্ত্রাসী হামলায় নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার আলম হোসেন (ঝাপড়া) র জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৩ টায় সুন্দরপুর ঝাপড়াপাড়া কবরস্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। এর আগে তার মরদেহ ২৫০ সয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্থানীয় নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুস্তাকুল ইসলাম পিন্টু মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম সহ দলমত নির্বিশেষে এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ জানাজায় অংশ নেয়। উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে শিবগঞ্জে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে ককটেল ফাটিয়ে ও কুপিয়ে আলম হোসেন ওরফে আলম ঝাপড়া (৫০) নামে ওই ইউপি সদস্যকে উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের সুন্দরপুর-নবাব মোড় এলাকায় হত্যার এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলম সুন্দরপুর-ঝাপড়াপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। পুলিশ জানায়, বেলা সোয়া ১টার দিকে আলম হোসেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সুন্দরপুর-নবাব মোড় এলাকায় পৌঁছালে ৭-৮ জনের একটি দল ককটেল ফাটিয়ে তার গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়। এরপর স্থানীয়রা আলমকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ সয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইউপি সদস্যের চাচাতো ভাই কুতুবউদ্দিন বলেন, দুপুর ১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আলম। সন্দরপুরের বাবুপুর এলাকার নবাব মোড়ে পৌঁছালে ৭-৮ জন ককটেল ফাটিয়ে তাকে আটকানোর পর কুপাতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা চলে যায়। পরে অস্ত্রধারীরা চলে গেলে এলাকাবাসী আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ আনোয়ার রফিক বাংলানিউজকে বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে ইউপি সদস্যকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। হাসুয়ার কোপে তার মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। এছাড়া ডান হাতে ও মাথায় একাধিক কোপের চিহ্ন ছিল।নিহত আলমের স্ত্রী জুলেখা বেগম, ভাই বাবু হোসেন ও চাচাত ভাই কুতুবউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় স্থানীয় প্রভাবশালী জেলা পরিষদ সদস্য আবদুস সালামের নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।আবদুস সালামকে সেই অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে, তার মুঠোফোনে বার বার ফোন দেয়া হলেও বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।  শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধুরী জোবায়ের আহমেদ জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে আলমকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কে বা কারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত রোববার (০৯ এপ্রিল) রাতে নৌকায় ভোট করার অভিযোগে ও ব্যবসায়ীক দ্বন্দের জেরে সদর উপজেলার সুন্দরপুরে মনিরুল ইসলামকে ককটেল ফাটিয়ে গতিরোধ করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।