[gtranslate]

শহরের চেয়ে গ্রামে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা বেশি


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৪, ২০২২, ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ / ২৯
শহরের চেয়ে গ্রামে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা বেশি

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ জেলায় বিদ্যুৎ যন্ত্রণা শহরে যেমন তেমন, গ্রামে একেবারে অসহ্য অবস্থা। বিদ্যুৎ সংকটে পড়া সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলের হাট বাজারের দোকানিরা পড়েছেন আরও বেশি বেকায়দায়।

সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের বড় হাট জামালগঞ্জের সাচনা বাজারের ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বললেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা বাড়তে থাকে। রাতে আরও বেশি কষ্ট। তিনি জানালেন, মঙ্গলবার বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না সাচনা বাজারে। সাতটায় বিদ্যুতের দেখা মিললেও নয়টায় আবার আধাঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ ছিল না। এরপর দিলেও ১১ টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অন্ধকারে ছিল বাজার। বুধবার সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল। ১০ টায় নেবার পর বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না।

বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার এই বিবরণের সঙ্গে একমত পোষণ করলে ব্যবসায়ী স্বপন রায়ও। স্বপন রায় বললেন, গেল এক মাস হয় দিনে গড়ে সাত-আট ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।

সাচনা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আসাদ আল আজাদ বললেন, গেল এক মাস ধরে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে অবস্থা আরও খারাপ হয়।

সাচনাবাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ থেকে। সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম সুদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন বিদ্যুৎ ঘাটতির কথা স্বীকার, বিদ্যুৎ মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন অক্টোবরের পর এই অবস্থা থাকবে না। তিনি জানান, বুধবার সকাল সাতটায় পাঁচ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ কম অর্থাৎ চাহিদা ছিল ৩৭ মেগাওয়াট পেয়েছেন ৩২ মেগাওয়াট ওই ঘণ্টায় লোডশেডিং হয়েছে পাঁচ মেঘাওয়াট। এরপর ১০ টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোড শেডিং করতে হয় নি। কিন্তু বেলা ১১ টায় ৩৭ মেঘাওয়াটের চাহিদার স্থলে ২৪ মেগাওয়াট এবং ১২ টায় একইভাবে ২৪ মেগাওয়াট পাওয়ায় প্রতি ঘণ্টায় ১৩ মেঘাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। বেলা একটায় ৩৮ মেগাওয়াটের চাহিদা থাকলে পাওয়া গেছে ২৪ মেগাওয়াট। ওই ঘণ্টায় ১৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। জামালগঞ্জের সাচনাবাজারে চাহিদার অর্ধেক পরিমাণ বিদ্যুৎ সরকরাহ হচ্ছে বলে দাবি তার।

পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ করা বিদ্যুৎ এলাকার মধ্যে কেবল জামালগঞ্জ বা সাচনা বাজার নয়। অন্য এলাকায়ও একই ধরণের ভোগান্তি আছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রেও সুনামগঞ্জ জেলা শহরের চেয়েও প্রত্যন্ত উপজেলায় সরবরাহ কম।

জেলার শাল্লা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বললেন, আমরা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সরবরাহ করা বিদ্যুৎ পাই। দিনে এবং রাতে মিলে কখন কত বেলা লোডশেডিং হয় লিখে রাখি নি। তবে গত এক মাস হয় গড়ে আট ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাই না আমরা। বন্যার সময় শাল্লায় ১০ দিন বিদ্যুৎ ছিল না। কিছু এলাকায় দেড় মাসের বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় নি।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানালেন, মঙ্গলবার সকাল ১০ টা পর্যন্ত জেলার কোথাও লোড শেডিং করতে হয় নি তাদের। ওই সময় চাহিদা ছিল সাত থেকে সাড়ে সাত মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ, সেই পরিমাণ পাওয়াও গেছে, এজন্য লোডশেডিং করতে হয় নি। কিন্তু ১১ টা থেকে দুইটা পর্যন্ত চাহিদার চেয়ে এক থেকে আড়াই মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাওয়ায়, সেই পরিমাণে বিভিন্ন ফিডারে সিডিউল করে লোডশেডিং করতে হয়েছে।

বুধবার যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে, বৃহস্পতিবারও প্রায় একই পরিমাণে বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে বলে জানালেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। পল্লী বিদ্যুতের জিএম সুদীপ কুমার বিশ্বাস জানালেন, বৃহস্পতিবার তিনি আরও কম লোড পেয়েছেন। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার চাহিদার ৪০ ভাগেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং আরও বাড়াতে হয়েছে।

 

সূত্র: সুনামগঞ্জের খবর।