[gtranslate]

লেখাপড়া করার শর্তে বিয়েতে রাজি হয়েছে


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৮, ২০২১, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ / ১১২
লেখাপড়া করার শর্তে বিয়েতে রাজি হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক:

এসএসসির গণ্ডি পার না হতেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছে স্কুলছাত্রী জেসমিনকে। পারিবারিক অসচ্ছলতা আর করোনা মহামারির দেড় বছর বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বধূ সাজতে হয় তাকে। তবে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার শর্তে বিয়েতে সম্মতি দেয় সে। এখন বধূ হলেও শর্তানুসারে স্কুল খোলার দিন থেকেই নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে জেসমিন। স্কুলজীবনেই বিয়ের মতো প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও লেখাপড়া করে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখছে সে।

জেসমিন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে গোবিন্দাসী পূর্ব পাড়া গ্রামের মৃত আবু হানিফ ও জাকিয়া বেগম দম্পতির মেয়ে।

ছয় বছর আগে জেসমিনের বাবা মারা যান। তিন ভাইবোনের মধ্যে তারা দুই বোনই বড়। ভাই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। এ কারণে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েন জাকিয়া বেগম। তবে এ সমস্যায় এগিয়ে আসেন জেসমিনের বড় খালা। খালু সরকারি চাকরির সুবাদে অন্যত্র থাকায় বড় খালা জেসমিনদের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন ও তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। এক পর্যায়ে বড় বোনের বিয়ে হয়ে যায়। এরই মধ্যে চলে দুই ভাইবোনের লেখাপড়া। জেসমিন ও তার ভাই দুজনই গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

জেসমিন বলেন, করোনা মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে। পাত্র আর পরিবার ভালো পাওয়ায় আমার মাসহ অভিভাবকরা ২০২০ সালের আগস্ট মাসে আমার বিয়ে দেন। পাত্র উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের মো. নাজিম উদ্দিনের ছেলে শাকিল পারভেজ। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির লোকজন ভালো আর শিক্ষিত হওয়ায় তারা আমার ইচ্ছানুসারে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সম্মতি দেন। এ কারণে স্কুল খোলার দিন থেকেই আমি নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছি। আমার লেখাপড়ার সব খরচ আমার স্বামী বহন করছেন। আমি লেখাপড়া করে বড় হতে চাই।

জেসমিনের স্বামী শাকিল পারভেজ বলেন, পরিবারের পছন্দে স্কুলছাত্রী বিয়ে করেছি। তবে আমি চাই জেসমিন লেখাপড়া করবে। ওর লেখাপড়ার সব সুযোগ-সুবিধা আমি সাধ্যমতো পূরণ করবো।

গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের শুধু জেসমিনই নয়, বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে আমেনা, নূরী খাতুন, স্বর্ণা, শাহিনুর, লাকি, নিলুফা, মিতানূর, দিবাসহ ওই বিদ্যালয়ের ১৭ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে দুজন অন্তঃসত্ত্বা।

স্কুলছাত্রী নূরী বলে, আমার ইচ্ছা না থাকলেও বাবার অসুস্থতার কারণে স্কুলজীবনেই আমাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছে। আমি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে আগ্রহী দেখে আমার স্বামী আপত্তি করেননি। স্বামীর কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পেয়ে স্কুল খোলার দিন থেকেই আমি নিয়মিত ক্লাস করছি। জীবনে নিজে কিছু করার ইচ্ছায় লেখাপড়া চালিয়ে যাবো।

আমেনা বলে, ইচ্ছে না থাকলেও বাবা-মার পছন্দেই আমার বিয়ে হয়েছে। বিয়ে হলেও স্বামীর সম্মতিতেই স্কুল খোলার দিন থেকে আমি নিয়মিত ক্লাস করছি। আমি লেখাপড়া করে বড় হতে চাই।

গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল লতিফ তালুকদার  বলেন, করোনার বন্ধে দেশের অসংখ্য স্কুলছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। আমাদের স্কুলেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। এ স্কুলের ১৭ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর বিয়ে হয়েছে। তবে বিয়ের পরও আমােদের অনেক ছাত্রী স্কুলে আসছে। এটি সত্যিই আশার আলো। আমরাও তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের স্কুলে এখন পর্যন্ত ২৬ জন ছাত্রছাত্রীর (চারজন ছাত্র) বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।