[gtranslate]

রংপুর বিভাগে ১৩৩ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৩ টিতে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী।


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৮, ২০২১, ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ / ৪৯৩
রংপুর বিভাগে ১৩৩ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৩ টিতে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী।

 

নিজস্ব প্রতিবেদন:

গত রোববার (২৬ ডিসেম্বর) রংপুর বিভাগের ৮ টি জেলার ১৬ উপজেলার ১৩৩ ইউনিয়নের নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী মোট= ৬৩ টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আর বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন ৬৬ টি ইউপিতে। স্বতন্ত্র থেকে মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াত, জাতীয়পার্টি ও বিএনপির কর্মী ও সমর্থক রয়েছেন, সহিংসতার কারণে ৪টি ইউনিয়নের ফলাফল স্থগিত রয়েছে।

১. পঞ্চগড়

১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিতে নৌকা ও ৩টিতে স্বতন্ত্র।

চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পঞ্চগড়ের বোদা ও আটোয়ারী উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিতে নৌকা ও ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রর্থী বিজয়ী হয়েছেন। বোদা উপজেলার ৯টি ও আটোয়ারী উপজেলার একটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার (২৬ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে পঞ্চগড় জেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেন নির্বাচনের ফলাফল বেসরকারি ভাবে ঘোষণা করেন।

বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন- বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আব্দুর জব্বার (নৌকা) প্রতীকে ৮৭৮৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাবিব আল আমিন (চশমা) প্রতীকে ৫৮৮৭ ভোট পেয়েছেন।

বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাহেব আলী (চশমা) প্রতীকে ৭২১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ আবু (নৌকা) প্রতীকে ২৫১০ ভোট পেয়েছেন।

বোদা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অখিল চন্দ্র ঘোষ (মোটরসাইকেল) প্রতীকে ৪২৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মশিউর রহমান (নৌকা) প্রতীকে ৪০৭০ ভোট পেয়েছেন।

কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আব্দুর মোমিন (নৌকা) প্রতীকে ৮৪১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফজলার রহমান (আনারস) প্রতীকে ৭২৩৯ ভোট পেয়েছেন।

বড়শশী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আব্দুর রহিম (চশমা) প্রতীকে ৫৩৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মউর রহমান (নৌকা) প্রতীকে ৪৮৯০ ভোট পেয়েছেন।

মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আবু আনছার মো. রেজাউল করিম (নৌকা) প্রতীকে ৫৩৩৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সারোয়ার হোসেন প্রধান (চশমা) প্রতীকে ৪৫৭০ ভোট পেয়েছেন।

চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নজরুল ইসলাম প্রধান (নৌকা) প্রতীকে ৬৬০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাজ্জাদুল করিম (মোটরসাইকেল) প্রতীকে ৫০৬১ ভোট পেয়েছেন।

সাকোয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাফিজুর রহমান (নৌকা) প্রতীকে ৬৩৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোজাফর রহমান (ঘোড়া) প্রতীকে ৪৪৮৩ ভোট পেয়েছেন।

পাঁচপীর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অজয় কুমার রায় (নৌকা) প্রতীকে ৪৬৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হুমায়ুন কবির প্রধান (ঘোড়া) প্রতীকে ৪৫৯০ ভোট পেয়েছেস।

আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেলোয়ার হোসেন (নৌকা) প্রতীকে ৪৭৬৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইদুর রহমান (মোটর সাইকেল) প্রতীকে ৩৮০৩ ভোট পেয়েছেন।

রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপুর্ণভাবে ভোট দেন ভোটাররা।

উল্লেখ, বোদা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঝলোইশালশিরি ইউনিয়নে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী মৃত্যুবরন করায় ওই ইউনিয়নে নির্বাচন ৬ষ্ঠ ধাপে আগামী ৩১ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে।

২. ঠাকুরগাঁও

২০টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতে আ.লীগ ও ৬ টি সতন্ত্র।

ঠাকুরগাঁও: সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২০টি ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গত রোববার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ১৮০টি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২০টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতে আ.লীগ, একটিতে আ.লীগের বিদ্রোহী ও ৫টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন।

এর মধ্যে ১নং রুহিয়া ইউনিয়নে আ.লীগের প্রার্থী মনিরুল হক বাবু নির্বাচতি হন, ২নং আখানগরে মো. রোমান বাদশাহ (আ.লীগ), ৩নং আখানগরে সুব্রত কুমার বর্মন (আ.লীগ), ৫নং বালিয়ায় জুলফিকার আলী ভুট্টু (স্বতন্ত্র), ৬নং আউলিয়াপুরে মো. আতিকুর রহমান নজরুল (আ.লীগ), ৭নং চিলারং এ মো. ফজলুর রহমান (আ.লীগ বিদ্রোহী), ৮নং রহিমানপুরে আব্দুল হান্নান হান্নু (স্বতন্ত্র), ৯নং রায়পুরে মো. নুরুল ইসলাম (আ.লীগ), ১০নং জামালপুরে এসএম মুসতাক (স্বতন্ত্র), ১১নং মোহাম্মদপুরে মো. সোহাগ হোসেন (আলীগ), ১২নং সালন্দরে মো. ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী (স্বতন্ত্র)।

এছাড়া ১৩নং গড়েয়ায় মো. রইছ উদ্দিন সাজু (আ.লীগ), ১৪নং রাজাগাঁওয়ে মো. খাদেমুল ইসলাম সরকার (আ.লীগ), ১৫নং দেবীপুর ইউনিয়নে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল (আলীগ), ১৬নং নারগুন ইউনিয়নে মো. সেরেকুল ইসলাম (আ.লীগ), ১৭নং জগন্নাথপুরে মোস্তাফিজুর রহমান লিটন (স্বতন্ত্র), ১৮নং শুখানপুকুরী ইউনিয়নে আনিসুর রহমান (আ.লীগ), ১৯নং বেগুনবাড়ী ইউনিয়নে মো. বনি আমিন সরকার (আ.লীগ), ২০নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নে অনিল কুমার সেন (আ.লীগ) ও ২১ নং ঢোলারহাট ইউনিয়নে অখিল চন্দ্র রায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।

৩. দিনাজপুর

দিনাজপুরে ২১ ইউপির ১০টিতে আ’লীগ, ও স্বতন্ত্র ১১।

দিনাজপুর: দিনাজপুরে ৪র্থ ধাপে রোববার (২৬ ডিসেম্বর) কাহারোল, বীরগঞ্জ ও খানসামা উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ নির্বাচনে দিনাজপুরের ২১ ইউপির মধ্যে ১১টিতেই হেরেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা।

বাকিগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহী, সাধারণ (কোনো দলের নন) চারজন ও বিএনপির ছয় নেতা বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনের ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম প্রামাণিক।

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত চারজন ও স্বতন্ত্র দুইজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

কাহারোল উপজেলার ১নং ডাবোর ইউনিয়ন পরিষদে ৯৯০১ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সত্যজিৎ রায় নির্বাচিত হয়েছেন।২নং রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সঞ্জয় কুমার মিত্র ৪৮০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।৩নং মুকুন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান সরকার লিমন চশমা প্রতীক নিয়ে ৯৮০৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।৪নং তারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু শাহীন মো. মনোয়ারুজ্জামান ৮৩৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মানিক অটোরিকশা প্রতীকে ৫৭১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।৬নং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আাতাউর রহমান বাবুল ৮৬২৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

৪র্থ ধাপের নির্বাচনে বীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে নয়টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার ১নং শিবরামপুর ইউনিয়ন পরিষদে ৮১৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সত্যজিৎ রায় কার্তিক।২নং পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাক আহমেদ মানিক ১১২১৫ ভোট পেয়ে নির্বচিত হয়েছেন।৩নং শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মতিয়ার রহমান মতি ৮৮৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।৪নং পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা তহিদুল ইসলাম মাস্টার মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৬৩৫৬ ভোট পেয়ে নির্বচিত হয়েছেন।৫নং সুজালপুর ইউনিয়ন পরিষদে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম মাস্টার ৪৯১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোপাল দেব শর্মা ৭৩১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।৯নং সাতোর ইউনিয়ন পরিষদে ৫৯৭৩ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেন রাজা নির্বাচিত হয়েছেন।১০নং মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে বিএনপি নেতা শাহিনুর রহমান চৌধুরী শাহিন ৭২৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।১১নং মরিচা ইউনিয়ন পরিষদে ৭৪৮৪ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী হেলাল নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত একজন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চার বিএনপি নেতা এবং অরাজনৈতিক এক ব্যক্তি বিজয়ী হয়েছেন।উপজেলার ১নং আলোকঝাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী খলিলুর রহমান আনারস প্রতীকে ৬৫০২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।২নং ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩৬৪৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন টেলিফোন প্রতীকের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বাবুল।৩নং আঙ্গারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫৪৫১ ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহমেদ শাহ্।৪নং খামারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক চৌধুরী ৬৬৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।৫নং ভাবকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে ৯৩১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা রবিউল আলম তুহিন।

৬নং গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চশমা প্রতীকে বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন লিটন ৭৩৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

৪. গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় ১৮ ইউপির ৪ আ.লীগ, ১৩ সতন্ত্র, স্থগিত ১।

গাইবান্ধা: চতুর্থ দফায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে গাইবান্ধার দুই উপজেলায় ১৭ ইউপির মধ্যে মাত্র চারটিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা।

এছাড়া পাঁচ ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও চারটিতে বিএনপি নেতারা জয় পেয়েছেন।

বাকি চার ইউপির একটিতে জামায়াত নেতা এবং তিনটিতে সাধারণ (কোনো রাজনৈতিক দলের নয়) স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

রোববার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের পর গণনা শেষে রাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর নির্বাচন কার্যালয় থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ওই দিন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ১৬ ও পলাশবাড়ী উপজেলায় দুই ইউপিতে ভোট হয়। তবে নির্বাচনী সহিংসতার জেরে গোবিন্দগঞ্জের এক ইউপিতে ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় জয় পাওয়া আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হলেন- কামদিয়া ইউনিয়নে মোশাহের হোসেন চৌধুরী বাবলু, কাটাবাড়িতে জোবায়ের হোসেন গোলাপ, দরবস্ততে আ র ম শরিফুল ইসলাম জজ ও শালমারা ইউপিতে আনিছুর রহমান।

তবে দলের মনোনয়ন না পেয়ে গোবিন্দগঞ্জে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) হয়ে লড়ে জয় পেয়েছেন তালুককানুপুর ইউনিয়নে আব্দুর রহমান মাস্টার, নাকাইতে খ ম সাজু, ফুলবাড়িতে আনিছুর রহমান শিবলু ও মহিমাগঞ্জে আনোয়ারুল ইসলাম।

এ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী বিএনপি নেতারা হলেন রাখালবুরুজ ইউপিতে হাসানুর রহমান চৌধুরী ডিউক, রাজাহারে রফিকুল ইসলাম মাস্টার, কোচাশহরে জহুরুল হক জাহিদ ও হরিরামপুরে আজহারুল ইসলাম বিপ্লব।

এছাড়া শাখাহার ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর কবির, সাপমারায় শাকিল আকন্দ বুলবুল ও গুমানীগঞ্জে মাছুদুর রহমান মুরাদ স্বতন্ত্র হয়ে লড়ে জয় পান।

অপরদিকে পলাশবাড়ী উপজেলার দুই ইউপির মধ্যে বরিশাল ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) হয়ে জয় পেয়েছেন মো. রফিকুল ইসলাম সরকার ও কিশোরগাড়ীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন জামায়াত নেতা মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক।

৫. কুড়িগ্রাম 

কুড়িগ্রাম ২১ইউপির ৮টিতে আ.লীগ, ১০সতন্ত্র,স্থগিত ৩।

চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে কুড়িগ্রামের ৩ উপজেলায় ২১ ইউনিয়নের মধ্যে ১৮টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ টিতে আওয়ামীলীগ, ২ টিতে বিএনপি’র স্বতন্ত্র, ৩ টিতে জাতীয় পার্টি, ৫ টিতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছে।

চতুর্থ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। একটিতে আওয়ামীলীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থী সমান ভোট পাওয়ায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।৬টির মধ্যে ৩ টিতে আওয়ামীলীগ, ২টিতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং অপর একটিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। বিজয়ীরা হলেন রাজারহাট সদর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী এনামুল হক (নৌকা) চাকিরপশা ইউনিয়নে আব্দুস সালাম (নৌকা) , ছিনাই ইউনিয়নে সহকারি অধ্যাপক সাদেকল হক নুরু (নৌকা) ও নাজিমখান ইউনিয়নে আব্দুল মালেক পাটওয়ারী নয়া (নৌকা)।

এছাড়াও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে আব্দুল কুদ্দুছ প্রামাণিক (মটর সাইকেল), বিএনপির প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন উমর মজিদ ইউনিয়নে আহসানুল কবির আদিল (ঘোড়া)। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে আওয়ালীগ প্রার্থী তাজুল ইসলাম ও আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর হোসেন (মটর সাইকেল) সমান সমান ভোট পাওয়ায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।অপরদিক নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশি ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী মাহফুজার রহমান মুকুল (নৌকা)।অন্যদিকে উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টির ফলাফল ষোষণা করা হয়েছে। দুইটি ইউনিয়নের ভোট স্থগিত রয়েছে।

স্থগিতকৃত ইউনিয়ন দুটি হলো দুর্গাপুর ও তবকপুর। ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ অনিয়মের ঘটনায় দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৪টি ও তবকপুর ইউনিয়নে একটি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। ফলাফল ঘোষণা করা ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে আওয়ামীলীগ, ৪টিতে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী, ৩টিতে জাতীয় পাটি।

বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নে বিএনপি’র ( স্বতন্ত্র) প্রার্থী আতাউর রহমান, হাতিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের শায়খুল ইসলাম নয়া, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের আশাদুজ্জামান খন্দকার, পান্ডুল ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির আমিনুল ইসলাম, বজরা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুম, গুনাইগাছ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী মোখলছুর রহমান, দলদলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের লিয়াকত আলী, ধরনীবাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী আমিনুল ইসলাম, ধামশ্রেনী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী রফিকুল ইসলাম, সাহেবের আলগা ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির আব্দুল বাতেন, বেগমগন্জ ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির বাবলু মিয়া।

৬. রংপুর

১৯ ইউনিয়নের মধ্যে ৮ টি আওয়ামী, সতন্ত্র ১১।

চতুর্থ ধাপে ইউপি নির্বাচনে রংপুরের বদরগঞ্জ ও গঙ্গাচড়া উপজেলার ১৯ ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৮ জন লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৩ জন এবং অন্যান্য প্রতীক নিয়ে ৮ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয় বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। পরে গণনা শেষে রাতে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

বেসরকারী ফলাফল অনুযায়ী নির্বাচিতরা হলেন-৬ নং রাধানগর ইউনিয়নে আবু বক্কর (চশমা), ৭ নং গোপীনাথপুর ইউনিয়নে মাহামুদুল হাসান সুমন (আনারস), ৮ নং রামনাথপুর ইউনিয়নে শওকত আলী (মোটরসাইকেল), ৯ নং দামোদরপুর ইউনিয়নে আজিজুল হক (নৌকা), ১০ নং মধুপুর ই্উনিয়নে নুর আলম ভুট্টু (নৌকা), ১১ নং গোপালপুর ইউনিয়নে সামছুল হক (ঘোড়া), ১২ নং কুতুবপুর ইউনিয়নে মোস্তাক আহমেদ (ঘোড়া), ১৩ নং কালুপাড়া ইউনিয়নে শহিদুল হক মানিক (আনারস), ১৪ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে শান্ত চৌধুরী (নৌকা) এবং ১৫ নং লোহানীপাড়া ই্উনিয়নে ডলু শাহ্ (নৌকা)। ভোট গননা শেষে তাদের বেসরকারীভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৪টি আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে, ৩টিতে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এং ২টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন বলে বেসরকারীভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে জানা গেছে।

৭. লালমনিরহাট

১২টি ইউনিয়নের ৯টিতে আওয়ামী ও ৩টিতে স্বতস্ত্র।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯টিতে আওয়ামী লীগ ও ৩টিতে স্বতস্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ ভোট গ্রহণ চলে। দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে এ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

বিজয়ীরা হলেন- বড়খাতা ইউনিয়নে আবু হেনা মোস্তফা জামাল সোহেল (নৌকা), গড্ডিমারী ইউনিয়নে অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল (নৌকা), সিঙ্গিমারী ইউনিয়নে মনোয়ার হোসেন দুলু (নৌকা), টংভাঙ্গা ইউনিয়নে সেলিম হোসেন (নৌকা), সির্ন্দুনা ইউনিয়নে খতিব উদ্দিন (স্বতন্ত্র), পাটিকাপাড়া ইউনিয়নে মজিবুল আলম সাদাত (নৌকা), নওদাবাস ইউনিয়নে ফজলুল হক (নৌকা), গোতামারী ইউনিয়নে মোনাব্বেরুল হক মোনা (স্বতন্ত্র), ভেলাগুড়ি ইউনিয়নে শফিকুল ইসলাম মন্ডল (নৌকা), ফকিরপাড়া ইউনিয়নে ফজলার রহমান খোকন (স্বতস্ত্র) ও সানিয়জান ইউনিয়নে হাসেম তালুকদার (নৌকা)।হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

৮. নীলফামারী

১২টি ইউনিয়নের ৩টিতে আওয়ামীলীগ, সতন্ত্র ৯।

চতুর্থ ধাপে রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৭টি ও সৈয়দপুর উপজেলার ৫টি সহ ১২টি ইউনিয়নে ভোটের ফলাফলে তিনটিতে আওয়ামীলীগ, একটিতে জাকের পার্টি, ৬টিতে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ও ২টিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

রবিবার রাতে ভোট গননা শেষে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষনা করেন সংশ্লিষ্ট রির্টানীং অফিসারগন। নির্বাচিতরা হলেন ডিমলা সদর ইউনিয়নে আবুল কাশেম সরকার (নৌকা) ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে আনোয়ারুল হক সরকার (নৌকা), পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ সরকার (আনারস), নাউতারা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী আহমেদ ইমতিয়াজ মনি (আনারস) খালিশা চাপানি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী শহিদুজ্জামান সরকার(ঘোড়া),ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র একরামুল হক চৌধুরী (ঘোড়া), বালাপাড়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র জাহেদুল ইসলাম (আনারস) বিজয়ী হয়েছেন।

সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নির্বাচিতরা হলেন বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের শাহজাদা সরকার(নৌকা), কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে জাকের পার্টির নাঞ্চু হাসান চৌধুরী (গোলাপ ফুল), কামারপুকুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী আনোয়ার হোসেন সরকার(মটর সাইকেল), খাতা মধুপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী মাসুদ রানা পাইলট(মটরসাইকেল)ও বোতলাগাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী মনিরুজ্জামান জুন(ঘোড়া) নির্বাচিত হন।