[gtranslate]

মুক্তাগাছায় সড়কে নিম্নমানের ইট ও মাটি ব্যবহার করায় কাজ বন্ধের নির্দেশ


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ / ১০৩
মুক্তাগাছায় সড়কে নিম্নমানের ইট ও মাটি ব্যবহার করায় কাজ বন্ধের নির্দেশ

ছবি সংগৃহীত

 

 

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ, মুক্তাগাছা:  হেরিংবোন বোল্ড (এইচবিবিকরণ) সড়ক নির্মাণে বালুর পরিবর্তে মাটি ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করায় নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণ কাজ করায় এলাকাবাসী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগে অভিযোগ করেন। তারাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির তার নিজের ইটভাটা থেকে এ নিম্নমানের ইট রাস্তায় ব্যবহার করছে বলে জানান এলাকাবাসী।

অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) তদন্তে নামেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ময়মনসিংহ। তদন্তে সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন স্থানীয় প্রশাসন। এমনকি নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয় প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামীণ মাটির রাস্তা টেকসই করণের লক্ষ্যে হেরিংবোন বোল্ড এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলা শহর থেকে মুক্তাগাছা-পিয়ারপুর সড়কে ১১ কিলোমিটার দূরে তারাটি ইউনিয়নের শশা বেপারী পাড়া জামে মসজিদ মোড় থেকে কান্দাপাড়া হারুন মাস্টারের বাড়ী পর্যন্ত ৫৮১ ফুট কাঁচা রাস্তা নির্মাণে নিন্মমানের ইট, রাস্তার মাটি নামমাত্র খুড়ে বালু না দিয়েই তার ওপর ইট বসানো হচ্ছে। যা একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে ইট খসে পড়বে।

রাস্তা নির্মাণে ব্যবহৃত ইট গুলো কোন গ্রেডে পরে না। স্থানীয় এলাকাবাসী নির্মাণকৃত রাস্তার ইট হাত দিয়ে ভেঙ্গে দেখান। তারাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তার নিজের ইট খালা থেকে এ নিম্নমানের ইট রাস্তায় ব্যবহার করছে বলে জানান এলাকাবাসী।

সোমবার থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। এতে ব্যবহার করা হয়েছিল নি¤œমানের ইট। এক ফুট গভীর করে বালি ফেলানোর কথা ছিল, সেখানে বালি না ফেলে, ফেলানো হয় মাটি। কাজের একক তদারকি করেন সংশ্লিষ্ট তারাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির।

প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহা গাজী। তাকে না জানিয়েই নি¤œমানের কাজ শুরু করেন চেয়ারম্যানের লোকজন। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কাছে এ ধরণের অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অেিযাগের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের লোকজন যান পরিদর্শনে।

অনিয়মের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন তারা। এমনকি সড়ক থেকে নিম্নমানের ইট ওঠিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয় প্রকল্প বাস্তবাযনের সাথে জড়িতদের।

এলাকার বাসিন্দা আনসার আলী বলেন, একদম নিম্নমানের ইট দিয়ে সড়কটির ইটের সলিং করা হয়েছিল। হাত দিয়ে চাপ দিলেই ভেঙ্গে যায় ইট। এছাড়া সড়কে বালি ফেলানোর কথা ছিল, সেখানে বালু ফেলা হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাজটি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় তারা বেশ খুশি হয়েছেন।

প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য সাহা গাজী বলেন, তিনি যে প্রকল্পের সভাপতি, তিনি জানেন না। বুধবার রাতে ইউপি সচিব নজরুল ইসলাম তাকে ফোনে জানান সে ওই প্রকল্পের সভাপতি। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির তত্বাবধানেই কাজটি করা হচ্ছিল। এর বাইরে তিনি আর কিছুই জানেন না বলে জানান।

সংশ্লিষ্ট তারাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ দেখায়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছার ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মনসুর বলেন, তদন্তে অনিয়ম প্রমানিত হওয়ায় কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সড়কে বসানো ইটও সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের উপস্থিতিতে কাজ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল বিভাগের উপ-পরিচালক গালিব খান বলেন, এ ধরনের নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না, জড়িতদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে হলে স্বচ্ছতা থাকতে হবে।