[gtranslate]

ময়মনসিংহ বিভাগে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াই


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৯, ২০২১, ৪:১০ অপরাহ্ণ / ১৫৮
ময়মনসিংহ বিভাগে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

 

প্রচেষ্টা নিউজ ডেস্ক:

ময়মনসিংহ বিভাগের ৮৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪৩ টিতে নৌকার জয়ী । বাকি ৪২ টিতে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তিন জেলা তিনটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে স্বতন্ত্র ১১, নৌকার ১৪ প্রার্থী জয়ী

তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা ও ত্রিশাল উপজেলার ২৭টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ১৪টিতে আওয়ামী লীগ, ১১টিতে স্বতন্ত্র এবং একটিতে লাঙল প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। ত্রিশালের রামপুর ইউনিয়নের ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দা শারমিন সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, দিনভর শান্তিপুর্ণ ভোট শেষে নৌকা প্রতীক নিয়ে পাঁচজন এবং সতন্ত্র থেকে পাঁচজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এদের মধ্যে কাশিমপুর ইউনিয়নে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার নৌকা প্রতীকে ১১ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. ইফতেখার রছুল চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১০ হাজার ৩৪১ ভোট।

কুমারগাতা ইউনিয়নে মো. আকবর আলী নৌকা প্রতীকে ১২ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনিসুর রহমান চশমা প্রতীকে পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬১৭ ভোট।

বাশাঢী ইউনিয়নে উজ্জল কুমার চন্দ নৌকা প্রতীকে ১০ হাজার ৯৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মনজুর রশিদ সরকার চশমা প্রতীকে পেয়েছেন চার হাজার ১২৯ ভোট।

ঘোগা ইউনিয়নে শরীফ আহমেদ নৌকা প্রতীকে নয় হাজার ১১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. কামরুজ্জামান লেবু আনারস প্রতীকে পেয়েছেন আট হাজার ৭৫৩ ভোট।

তারাঢী ইউনিয়নে মো. মনিরুজ্জামান নৌকা প্রতীকে সাত হাজার ২০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ মো. মোজাহিদ পেয়েছেন ছয় হাজার ২৮৪ ভোট।

বড়গ্রাম ইউনিয়নে মো. জাহান আলী ঘোড়া প্রতীকে সাত হাজার ৩৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সিদ্দিকুজ্জামান নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ছয় হাজার ১২৪ ভোট।

দুল্লা ইউনিয়নে হোসেন আলী আনারস প্রতীকে ছয় হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন চার হাজার ৫৭৯ ভোট।

মোনাকোন ইউনিয়নে মো. শহিদুল ইসলাম আনারস প্রতীকে সাত হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সুলতান মাহমুদ মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ছয় হাজার ৭০৪ ভোট।

দাওগাঁও ইউনিয়নে খন্দকার মো. জামাল উদ্দিন বাদশা অটোরিকশা প্রতীকে ১১ হাজার ২৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা আব্দুল লতিফ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন সাত হাজার ৯৫ ভোট।

খেরুয়াজানী ইউনিয়নে মো. হারুন অর রশিদ টেবিল ফ্যান প্রতীকে পাঁচ হাজার ১১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমিনুল ইসলাম চশমা প্রতীকে পেয়েছেন চার হাজার ১৭৫ ভোট।

 

এদিকে, ত্রিশাল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আয়নাল হক বলেন, উপজেলায় ছয়টিতে নৌকা, পাঁচটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। একটির ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ীরা হলেন- ধানীখোলায় মামুনুর রশিদ সোহেল, আমিরাবাড়ীতে হাবিবুর রহমান হাবিব মাস্টার, কানিহারীতে শহিদুল্লাহ মন্ডল, ত্রিশালে জাকির হোসেন, সাখুয়ায় ডা. আজিজ এবং বালিপাড়ায় গোলাম আহমেদ বাদল। বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন- বৈলর ইউপিতে খন্দকার মশিউর রহমান শাহানশাহ, কাঁঠাল ইউপিতে নূরে আলম সিদ্দিকী আলম, হরিরামপুর ইউপিতে আবু সাঈদ, মঠবাড়ী ইউপিতে আ. কুদ্দুস মন্ডল এবং মোক্ষপুর ইউপিতে সামসুদ্দিন।

শেরপুর

তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ী উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১০ টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বেশিরভাগ ইউনিয়ন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন । এরমধ্যে ৩ টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং ৭ টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ।

পোড়াগাঁও ইউনিয়নে বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মাওলানা জামাল উদ্দিন ( চশমা ) । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আজাদ মিয়া ( মোটরসাইকেল ) । রাজনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান ( ঘোড়া ) । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সেকান্দর আলী ( আনারস ) । নয়াবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান হয়েছেন ( মোটরসাইকেল ) । তুমুল লড়াই করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডাঃ নূর ইসলাম ( নৌকা ) ।

কাকরকান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন তরুণ স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ামুল কাউসার ( মোটরসাইকেল ) । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত ও একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ তালুকদার মুকুল ( নৌকা ) । নালিতাবাড়ী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী , ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মাস্টার ( নৌকা ) । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক ( চশমা ) । রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুঞ্জুর আল মামুন ( ঘোড়া ) । তুমুল লড়াই করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক , আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ( নৌকা ) ।

মরিচপুরান ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আইয়ুব আলী সরকার ( চশমা ) । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নজরুল ইসলাম ( আনারস ) । যোগানিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল লতিফ ( নৌকা ) । তুমুল লড়াই করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ – প্রচার সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকিজুল ইসলাম তারা ( ঘোড়া ) । বাঘবেড় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সবুর ( নৌকা ) । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ( আনারস ) ।
কলসপাড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মজিদ ( আনারস ) । তুমুল লড়াই করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন শরফুজ্জামান ওরফে শরাফত ( টেলিফোন ) । স্বতন্ত্র প্রার্থী উল্লেখ্য , এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২ নং নন্নী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন চৌধুরী এবং ৫ নং রামচন্দ্রকুড়া মন্ডলিয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ বাদশাকে ।

এইদিকে নকলায় ৯ ইউপির মধ্যে আ.লীগ জিতেছে ৪টিতে

শেরপুরের নকলা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেশিরভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছে ৪টিতে, আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন ৫টি ইউনিয়নে।

বিজয়ীরা হলেন- গনপদ্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শামছুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমীর হামজা মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৬৯ ভোট।

নকলা সদর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবু বকর ছিদ্দিক ফারুক মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৩২৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন; তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকে মো. আনিসুর রহমান সোজা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৬ ভোট।

উরফা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ নুরে আলম (ভূট্টো) চশমা প্রতীকে ৬ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন; তার নিকটতম ও একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রেজাউল হক হীরা নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৮২ ভোট।

গৌড়দ্বার ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শওকত হোসেন খান (মুকুল) নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৫২৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন: তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোবারক হোসেন চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৯৯৫ ভোট।

বানেশ্বর্দী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মাজহারুল আনোয়ার আনারস প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৮১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার জাকির হোসেন চশমা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৬১০ ভোট। আর নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আঞ্জুমান আরা বেগম ২ হাজার ১৩০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। এ ইউনিয়নে কোনো কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পায়নি।

পাঠাকাটা ইউনিয়নে মো. আব্দুস ছালাম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ১৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোবারক হোসেন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৭৯৯ ভোট।

টালকী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাফফর মহিউদ্দিন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ৪৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীক নিয়ে মো. ছায়েদুল হক পেয়েছেন ১ হাজার ৭৩৪ ভোট। আর নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান ১ হাজার ২৭৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। এ ইউনিয়নেও কোনো কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পায়নি।

চর অষ্টধর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানি নৌকা প্রতীক নিয়ে ৭ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন; তার নিকটতম ও একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান আনারস প্রতীকে ৪ হাজার ৮২৪ ভোট পেয়েছেন।

চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান (গেন্দু) আনারস প্রতীক নিয়ে ৭ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন; তার নিকটতম ও একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সাজু সাইদ ছিদ্দিকী নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬ হাজার ৪২৭ ভোট।

জামালপুর:

জামালপুর জেলার দুই উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ১২টিতে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২টিতে বিজয়ী হয়েছেন। অপর একটি ইউনয়নের নির্বাচন বন্ধ ঘোষনা করায় ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফলাফল স্থগিত রয়েছে।

নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়, মেলান্দহ উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে সবগুলোতেই বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, নাংলা ইউনিয়ন পরিষদে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী কিসমত পাশা, ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ছাইদুর রহমান লিটু এবং ঝাউগড়া ইউনিয়ন পরিষদে আঞ্জুমান আরা হেনা বিনা প্রতিদ্বদ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়াও, এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন- দুরমুঠ ইউনিয়ন পরিষদে খালেকুজ্জামান জুবেরী, কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আব্দুস সালাম, শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদে আবু সাঈদ, চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে শাহাদৎ হোসেন ভুট্টো এবং নয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদে মো. শাহাবুদ্দিন।

অপরদিকে, ইসলামপুর উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৫টির ফলাফল ঘোষনা করা হয়েছে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইসলামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদে মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী, গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদে মো. মাকছুদুর রহমান আনসারী, চর গোয়ালীনী ইউনিয়ন পরিষদে মো. শহীদুল্লাহ নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়াও, এই উপজেলায় পলবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং গোয়ালের চর ইউনিয়ন পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুর রহিম নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে এই উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনি সহিংসতার কারনে ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার তিন উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে ২৪টির ফলাফলে বেসরকারিভাবে ৮টিতে নৌকা আর ১৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। পূর্বধলায় ১০টির মধ্যে মাত্র দুটিতে নৌকা বিজয়ী আর ৮টিতেই স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী বিজয়ী।

নেত্রকোনার তিন উপজেলার ২৫ ইউপিতে বিজয়ী যার

কলমাকান্দা উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নের ৭টির গণনায় ৩টি নৌকা, ২টিতে বিদ্রোহী ও ২টিতে বিএনপি। একটির গণনা স্থগিত করা হয়েছে। দুর্গাপুর উপজেলার ৭টিতে নৌকা ৩টি, বিদ্রোহী ৩টিতে ও ১টিতে বিএনপি।

কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউপিতে মো. আব্দুল আলী নৌকা, লেংগুরা ইউপিতে মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া (বিএনপি) স্বতন্ত্র, রংছাতি ইউপিতে মো. আনিসুর রহমান পাঠান (বিএনপি) স্বতন্ত্র, বড় খাপন ইউপিতে শফিকুল ইসলাম (বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র, কলমাকান্দা ইউপিতে মো. আব্দুল আলী বিশ্বাস (বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র, পোগলা ইউপিতে মো. মোজাম্মেল হক নৌকা, কৈলাটি মো. জয়নাল আবেদীন নৌকা।

দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউপিতে শিব্বির আহমেদ তালুকদার নৌকা, কুল্লাগড়া ইউপিতে মো. আব্দুল আওয়াল স্বতন্ত্র (বিএনপি), চন্ডিগড় ইউপিতে এমদাদুল হক স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী), বাকলজোড়া ইউপিতে মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী), দুর্গাপুর ইউপিতে সাদেকুল ইসলাম স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী), বিরিশিরি ইউপিতে মো. রফিকুল ইসলাম রুহু নৌকা, গাওকান্দিয়া ইউপিতে মো. আব্দুর রাজ্জাক সরকার নৌকা।

পূর্বধলা উপজেলায় গোহালা কান্দা ইউপিতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) মো. আনোয়ার হোসেন, হোগলা ইউপিতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) মো. সিরাজুল ইসলাম আকন্দ, ঘাগরা ইউপিতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) এ কে এম মাজাহারুল ইসলাম, বিশকাকুনিতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) আল আমিন, বৈরাটিতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) মুহাম্মদ অনিছুজ্জামান তালুকদার, আগিয়াতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) মো. সানোয়ার হোসেন চৌধুরী, জারিয়াতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) মো. আমিনুল ইসলাম মণ্ডল নান্টু, পূর্বধলায় স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) মো. সিদ্দিকুর রহমান বুলবুল ও খলিশাউড়ায় নৌকা কমল কৃষ্ণ সরকার, নারান্দিয়া নৌকা মো. আব্দুল কুদ্দুস।

কলমাকান্দা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে খারনৈ হচ্ছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা। এই ইউনিয়নের বামনগাঁও মিশনারিজ স্কুলে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের কারণে ওই ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। সেখানে মোট ভোটার ২৫৯২জন।