[gtranslate]

বিশিষ্ট কবি ও কথা সাহিত্যিক জুবাইদা গুলশান আরা হেনা।


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ৬, ২০২৩, ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ / ২৯
বিশিষ্ট কবি ও কথা সাহিত্যিক জুবাইদা গুলশান আরা হেনা।
  • ধর্ষিতা মাগো আমার!
    জুবাইদা গুলশান আরা হেনা
  •  
  • কে তোমার বস্ত্র কেড়ে নেয়
    অসম্মান করার জন্য,
    শিক্ষা সেবা সাহিত্য সেবা দিয়ে
    যতোটুকু ভালোবাসা সম্মান পেয়েছি
    সবটুকু উৎসর্গ করছি
    ধর্ষিতা মাগো তোমার জন্য!
  • দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে
    ধর্মান্ধ কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের ভয়ে
    বাবা- মা তাদের ৭১ এ সম্ভ্রমহারা
    মেয়েটিকে গ্রহণ করেনি!
    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন,
    সবাইকে বলে দাও,
    ওদের পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান,
    ঠিকানাঃ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর।
    তবেই তিনি জাতির পিতা!
  • তাঁদের তিনি বীরাঙ্গনা হিসাবে
    সম্মানিত করেছিলেন।
    পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য কন্যা
    দেশরত্ন শেখ হাসিনা এই বীরাঙ্গনাদের
    মুক্তিযোদ্ধা নামে স্বীকৃতি দিয়েছেন,
    দায়িত্ব নিয়েছেন।
  • আজ জাতির পিতা বেঁচে থাকলে
    এই ধর্ষিতা মেয়েটিকেও
    নিজের সন্তানের পরিচয় দিতেন!
  • মাদার তেরেসা যুদ্ধ শিশুদের
    সেবা যত্ন করে দেশে -বিদেশে
    সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার
    পরিবেশ করে দিয়েছিলেন।
  • সাহসিকা সমাজকর্মী ও কবি সুফিয়া কামাল ধর্ষিতাদের সামাজিকভাবে বেঁচে থাকার
    ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করেছেন।
    আমরা ভুলে যাইনি ডঃ নীলিমা ইব্রাহিমের
    “আমি বীরাঙ্গনা বলছি। “
  • এই মহামানবদের হেঁটে চলা পথে
    হাঁটতে গিয়ে ধর্ষিতা মাগো
    তোমাকে ভালোবাসতে শিখেছি।
  • পৃথিবীর ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস,
    মানুষের জন্মের ইতিহাস,
    আদম হাওয়ার ইতিহাস,
    পশু- পাখি, গরু- ছাগল,হাঁস – মুরগী
    সব জন্মপ্রদান প্রক্রিয়া একই।
  • একটা হিংস্র জীবও মিলনের আগে
    লেজ নেড়ে তার সাথীকে
    ভালোবাসা জানায়।
  • স্রষ্টা নারীর শারীরিক কিছু
    অলংকার দিয়ে যেমন সৃষ্টি করেছেন
    পক্ষান্তরে তাঁকে সম্মান দেয়ার
    ব্যবস্থাও করে রেখেছে সমাজ সংসার।
    এর বাইরে গেলে পতন অনিবার্য।
  • ভালোবেসে নারী পুরুষ মিলন স্বর্গীয় অনুভূতি!
    একদল হায়েনা যেটাকে নরকে পরিনত করে।
    ফেসবুকে উঠেছে কবি, সাহিত্যিক,
    মানবতাবাদীদের প্রতিবাদের ঝড় ।
  • অনেক নারী প্রতিবাদে কালো
    প্রোফাইল পিকচার দিয়েছে।
    এটা প্রতিবাদের একটা প্রতীক।
    বিসর্জন দিয়েছি রাতের ঘুম
    আর চোখের জল।
    অনেকদিন কাঁদতে চেয়েছি
    কিন্তু পারিনি!
    আর এখন চোখের জলে
    মোবাইলের কীবোর্ড ধরতে পারিনি।
  • ধর্ষকের কোন জেন্ডার নেই,
    কোন জাত নেই, ওদের মা নেই,
    বোন নেই, সমাজ নেই,
    সামাজিক পরিচয় নেই,
    চাকুরির পরিচয় নেই,
    ব্যবসায়িক অবস্থান নেই।
    একটাই পরিচয় ওরা ধর্ষক।
    ৫ বছরের শিশু থেকে
    ৭২ বছরের বৃদ্ধাও
    ওদের কালোথাবা থেকে
    বাঁচতে পারেনা।
    ওরা অপকর্ম করার জন্য
    রাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকে।
  • কুকুরের সাথে ওদের
    তূলনা করা যায়না।
    কারণ কুকুরের একটা জাত আছে।
    ওরা প্রভুভক্ত, ওরা পাহারা দেয়।
    ওরা নিকৃষ্ট খাবার খেয়ে
    উৎকৃষ্ট কাজটি করে।
    আর ধর্ষক উৎকৃষ্ট খাবার খেয়ে
    নিকৃষ্ট কাজটি করে।
  • ধর্ষকরা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে
    অসম্মান করে,
    ওরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে
    অসম্মান করে।
    ওরা দেশরত্ন শেখ হাসিনার
    সমস্ত অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
    আবার এরা গভীর ষড়যন্ত্রও করে।
  • বাংলামা’র পবিত্রতা নষ্ট করার
    ধৃষ্টতা মানুষ সহ্য করছে না।
    স্তম্ভিত নারী সমাজ।
    কঠিন প্রতিবাদে জেগেছে পুরুষ!
    ওরাযে পুরুষের মর্যাদা নষ্ট করেছে।
    ধর্ষককে পুরুষ বললে পুরুষকে
    অসম্মান করা হয়।
    ওরা ধর্ষক!
    শুধুই ধর্ষক।
  • হায় বেগমগঞ্জ!
    এ লজ্জা কোথায় রাখবে!
    কোথায় মুখ লুকাবে!
    কোথায় ছিলে তোমরা!
    হায়েনাগুলো যখন পালাক্রমে
    একজন নারীকে ছিন্নভিন্ন করে
    সম্ভ্রম লুণ্ঠন করেছিলো!
    এখানেই শেষ নয়!
    তার গোপন অংগ টর্চ দিয়ে
    ক্ষত বিক্ষত করেছিলো!
    কি ভয়ংকর!
    কি পৈশাচিক!
    কি নির্মম!
    ওদের ঘৃণা জানানোর মতো আর
    কোন শব্দ আমার অভিধানে নেই।
    সারাবাংলার ১৭ কোটি মানুষ
    তোদের নামের উপর আজীবন থুথু ফেলবে।
    পাবলিক টয়লেটের প্রতীক
    হওয়া উচিৎ তোদের ছবি দিয়ে।
  • চিড়িয়াখানায় একটা সেলে
    তোদের রাখা উচিৎ,
    প্রতিদিন দর্শনার্থীরা টিকেট কেটে
    ওদের মুখে থুথু ফেলবে।
    সেলটির নাম হবে রাক্ষস সেল।
    এরপর সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়ে
    পৃথিবী থেকে ইতিহাসের
    আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা উচিৎ।
  • ওদের এমন শাস্তি হওয়া উচিৎ
    যাতে করে আমরা খবরের কাগজে
    ফেসবুকে টিভির খবরে
    আর কোনদিন এমন খবর
    না শুনতে পাই।

দক্ষিণ বিশিল, মিরপুর
তারিখ ঃ ০৬/১০/২০২০।

————