[gtranslate]

বাংলাদেশর প্রখ্যাত ভাস্কর শামীম শিকদার এর মৃত্যুতে  খুলনা আর্ট একাডেমি গভীরভাবে শোকাহত।


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : মার্চ ২৩, ২০২৩, ৩:১৬ অপরাহ্ণ / ১৯
বাংলাদেশর প্রখ্যাত ভাস্কর শামীম শিকদার এর মৃত্যুতে   খুলনা আর্ট একাডেমি গভীরভাবে শোকাহত।

আহমেদ হোসাইন (ছানু)বিশেষ প্রতিনিধি৷৷ 

শামীম শিকদার-একজন বাংলাদেশী প্রখ্যাত ভাস্কর। তিনি ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভাস্কর্য বিভাগের একজন অধ্যাপক ছিলেন।চিংগাশপুর গ্রাম, মহাস্থানগড়,বগুড়ায় জন্ম ২২ আগস্ট ১৯৫২ সালে। ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ মার্চ ২০২৩ মঙ্গলবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। জন্ম তারিখ অনুযায়ী ৭০ বছর আমাদের মাঝে তিনি বেঁচে ছিলেন। তারপর তিনি চির বিদায় নিলেন। তিনি নিজের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করতে কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছিলেন শামীম সিকদার। দেশে ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রায় এক সপ্তাহ লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। কোনভাবেই তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।সৃষ্টিকর্তা তার আয়ু হয়তো এই পর্যন্তই নির্ধারিত করেছেন। বাংলাদেশে এবং দেশের বাইরে অসংখ্য কৃতিত্ব রেখে গিয়েছেন ।গুনী শিল্পী একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাস্কর শামীম সিকদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সাবেক অধ্যাপক। এই গুণী শিল্পী যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করতেন সেগুলো হলো সিমেন্ট, ব্রোঞ্জ, কাঠ, প্লাস্টার অব প্যারিস, কাদা, কাগজ, স্টীল ও গ্লাস ফাইবার মাধ্যমে কাজ করেন। প্রখ্যাত কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা সিরাজ সিকদার তার আপন বড় ভাই।শিক্ষা জীবনে শামীম শিকদার ৩ বছরের একটি কোর্স সম্পন্ন করেন ভাস্কর্যের ওপরে। ঢাকার বুলবুল ললিতকলা একাডেমী থেকে ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত। এই কোর্সটির শিক্ষক ছিলেন মিস্টার সিভিস্কি যিনি একজন বিখ্যাত ফ্রেঞ্চ ভাস্কর। লন্ডনের স্যার জন স্কুল অব কাস থেকে তিনি একটি সনদ অর্জন করেন ১৯৭৬ সালে। ১৯৯০ সালে চীনে মিস্টার লি ডুলি নামের একজন বিখ্যাত ভাস্করের সাথে কাজ করেন এক বছরের মতো। কর্মজীবনে শামীম শিকদার ১৯৮০ সালে শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন । ১৯৮৬ সালে সহকারী অধ্যাপকের দায়িত্ব লাভ করেন। সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পান ১৯৯৩ সালে। এরপর ১৯৯৯ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ভাস্কর শামীম শিকদার চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়েছেন।  ৮ বছর আগে তিনি ইংল্যান্ড চলে যান। বিখ্যাত কর্ম ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এস সিতে অবস্থিত স্বোপার্জিত স্বাধীনতা শিরোনামের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। তার সহকারী ছিলেন শিল্পী হিমাংশু রায়। ভাস্কর্যটির মূল বেদিতে আছে একাত্তরের বিভিন্ন ঘটনার চিত্র। ১৯৮৮ সালের ২৫শে মার্চ এটি স্থাপন করা হয়। স্বামী বিবেকানন্দের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন ১৯৯৪ সালে যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে অবস্থিত। ২০০০ সালে স্বাধীনতার সংগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য উদ্যানে বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিদের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। ইস্কাটনে অবস্থিত জাতীয় ভাস্কর্য গ্যালারিতে নির্মাণ করেন তিনি যেখানে আছে বিশ্বের অন্যান্য ব্যক্তিদের ভাস্কর্য , বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু ও ভয়ংকর রাজাকারদের ভাস্কর্য। জাতীয় ভাস্কর্য গ্যালারির প্রাথমিক কাজ শেষ হওয়ার পর নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি খুলে দেওয়া হয়েছিল দর্শনার্থীদের জন্য। শুরুতে সকাল-সন্ধ্যা সবার জন্য খোলা থাকত। পরে নানা কারণে এটা বন্ধ হয়ে যায়। এখন দিন-রাতই দরজা বন্ধ থাকে। তবে আগ্রহীরা গ্যালারির বাঁ পাশের দরজায় নক করলে ঢুকতে দেওয়া হয়। ‘স্ট্রাগলিং ফোর্স’ ১৯৮২ সালে নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ‘একটি মধুর স্বপ্ন’ ভাস্কর্যটি চারুকলা ইনসস্টিটিউটে রাখা আছে যা ১৯৮৩ সালে নির্মিত। আশা ও উদ্দীপনার একটি পাখি নামের ভাস্কর্যটি ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত। মাদার তেরেসা চ্যারিটি হাসপাতালে স্থাপিত হয়েছে ১৯৯৪ সালে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তার নির্মিত ভাস্কর্য আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনোয়ার পাশায় তার নির্মিত অনেক ভাস্কর্য আছে। তার সম্পর্কে বাংলাদেশের সকল শিল্পীরাই জানেন । আমি একজন ছবি প্রেমী মানুষ খুলনা বিভাগে খুলনা আর্ট একাডেমি নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করি এই প্রতিষ্ঠানের ছোট ছোট শিশুদের ছবি আঁকার প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করি ।২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল থেকে চারুকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভর্তি কোচিং ভর্তি শুরু করি। কোচিং পরিচালনা করতে শিল্প-সাংস্কৃতিক বিষয়ে অসংখ্য প্রশ্ন পড়াতে হয়। শিক্ষার্থীদের সেজন্য শামীম শিকদারের জীবনী নিয়ে প্রত্যেকটা ব্যাচে পাঠদান দিয়ে থাকি। আমার শিক্ষার্থীরা সবাই অবাক হয় যখন শোনে তিনি একজন নারী শিল্পী। শামীম শিকদার তিনি পুরুষ বলেই সবাই জেনে থাকে এটাই স্বাভাবিক তার নাম শুনে কেউ বুঝতে পারবে না তিনি একজন নারী। খুলনা চারুকলা ভর্তি কোচিং থেকে বাংলাদেশ তথা ভারত সকল চারুকলায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের ২১৬জন শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পেয়েছে ।তাদের সকলেরই এই মহান শিল্পীর জীবনী পড়ে চান্স পেতে হয়েছে। তাই আমরা গুনি শিল্পীর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ।তার রেখে যাওয়া পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং সকল চারু শিল্পী ভক্তবৃন্দরা যেন এই শোক কাটিয়ে পরিবারের সবাই সুস্থ থাকেন।শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর শোক জ্ঞাপন করছি।

শোক বার্তায়

চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক

খুলনা আর্ট একাডেমি৷