[gtranslate]

বসবাসের অযোগ্য আশ্রয়ণ প্রকল্প দেড়যুগেও সংষ্কার হয়নি


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৭, ২০২১, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ / ১২৬
বসবাসের অযোগ্য আশ্রয়ণ প্রকল্প দেড়যুগেও সংষ্কার হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার বরগুনা, আরিফুল ইসলাম মুরাদ

নির্মাণের দেড়যুগেও সংষ্কার হয়নি বরগুনার সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ৩৭টি ব্যারাক। সংস্কারের অভাবে ভূমিহীন ও হতদরিদ্রদের আবাসনের লক্ষে নির্মিত এসব ঘর এখন বসবাসের চরম অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পয়নিস্কাশন সমস্যাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এখন এসব আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, মাথাগোঁজার বিকল্প কোন ঠাঁই না থাকায় একরকম বাধ্য হয়েই বসবাস করছেন তারা। ফলে বসবাসকারীরা আশ্রয়ণ ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র। অতিদ্রুত সংস্কারের দাবি এখানকার বসবাসকারীদের।

জানা যায়, ২০০২ সালে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৩৭টি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে বরগুনা সদরে ১৫টি, পাথরঘাটায় ৮টি, আমতলীতে ৬টি, তালতলীতে ৬টি এবং বেতাগী উপজেলায় ২টি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর এসব ব্যারাকে ১৮০৯টি ভূমিহীন হতদরিদ্র পরিবারের মাথাগোঁজার ঠাঁই হয়। কিন্তু নির্মাণের দীর্ঘ বছর পরেও অবকাঠামোগত সংস্কার না হওয়ায় অধিকাংশ ব্যারাক বসবাস অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি কিছু কিছু ব্যারাক এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে, যখন-তখন ঘটতে পারে প্রানহানির মত দুর্ঘটনা।

দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরে এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় প্রতিটি ঘরের টিনের চাল ফুটো ও মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে সব খসে পড়ছে। চালের ওপর পলিথিন দিয়ে তার ওপর ইট, কাঠ, মাটি দিয়ে কোনোরকম বৃষ্টির পানি থামানোর চেষ্টা করে থাকতে হয় বসবাসকারীদের। কিন্তু যখনই বৃষ্টি হচ্ছে তখনই ঘরের ভেতরে পানি পড়ছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় হলে ঘরের চাল ও বেড়ার পচে নষ্ট হওয়া কাঠও খসে নিচে পড়ছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের সংগঠনের সভাপতিরা জানান, আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে মাথা গোঁজার ভাঙাচোরা ঘর, বাথরুম, কল। এগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে।

সংস্কারের অভাবে অনেক ঘরে থাকার মতো অবস্থা নেই। এ কারণে আশ্রয়ণের অনেক বাসিন্দা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান, মুঠোফোনে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাসিন্দাদের উন্নত জীবনযাপনের জন্য জরুরিভাবে আশ্রয়ণের ব্যারাকগুলো দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হবে।