[gtranslate]

বরগুনার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নাদিরা সবুবের বাসা তাক করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।  


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৫, ২০২১, ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ / ১১৩
বরগুনার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নাদিরা সবুবের বাসা তাক করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।  

 

স্টার রিপোর্টার আরিফ ইসলাম মুরাদ:

বরগুনার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নাদিরা সবুবের বাসা তাক করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

এমপি নাদিরা সবুরের পরিবারে দাবি, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন নজরদারি রাখতে নাদিরা সবুরের বাসার দিকে তাক করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করিয়েছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পাথরঘাটা ডিগ্রি কলেজের প্রধান ফটকের উত্তর দিকের বিদ্যুতের খুঁটিতে সাদা একটি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ওই ক্যামেরার সামনে সড়কের দক্ষিণ দিকে এমপি নাদিরার বাড়ি।

এমপি নাদিরার স্বামী প্রয়াত এমপি গোলাম সবুর টুলু ২০০২ সালে এ বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। এদিকে শওকত হাচানুর রহমান রিমন কলেজের বিপরীতে দুলাল কোম্পানির মালিকানাধীন একটি ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন।

রিমনের ভাড়া বাসা থেকে এমপি নাদিরার বাসভবনের দূরত্ব মাত্র ৩০ ফুট।

নাদিরা-টুলুর বড় মেয়ে ফারজানা সবুর রুমকি জানান, সম্প্রতি এ সিসি ক্যামেরাটি তাদের নজরে আসে।

এরপর খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, এটি পৌরসভা বা থানা পুলিশের কেউ স্থাপন করেনি। তবে তাদের ধারণা, তাদের বাসায় নজরদারির জন্য ক্যামেরাটি বরগুনা-২ আসনের এমপি রিমন স্থাপন করিয়েছেন।

এমপি নাদিরার বাসার দিকে তাক করে লাগানো সিসি ক্যামেরা

রুমকি বলেন, আমাদের বাসায় কারা আসা যাওয়া করেন, তা নজরদারি করার জন্যই এমপি রিমন এ ক্যামেরাটি স্থাপন করিয়েছেন। এটি একজন নাগরিকের প্রাইভেসির লঙ্ঘন। আমরা বিষয়টিতে বিব্রত।

এমপি নাদিরা সবুর বলেন, আমার বাসায় নজরদারির জন্য কেউ গোপনে ক্যামেরা লাগাবে, এটা আমার জন্য বিব্রতকর ও আমার গোপনীয়তা সুরক্ষার জন্য হুমকি।

আইনজীবী জাবির হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত। সেই সঙ্গে কারো বাসায় কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ, অনুসন্ধান সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি কখনোই অন্য এক ব্যক্তির গোপনীয়তা, পারিবারিক বিষয়, বাসস্থান বা যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এমনকি আত্মসম্মান নষ্ট হয় এমন কোনো পদক্ষেপও নিতে পারবে না। এরকম হস্তক্ষেপ বা আক্রমণের বিরুদ্ধে আইন সুরক্ষিত করতে প্রত্যেকের অধিকার রয়েছে।

পাথরঘাটা কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ এ রকম কোনো ক্যামেরা স্থাপন করেনি।

পাথরঘাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ ওই ক্যামেরাটি স্থাপন করেনি। কে বা কারা করেছে, তা তাদের জানা নেই।

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বাংলানিউজকে বলেন, ওই ক্যামেরাটি পুলিশ স্থাপন করেনি। বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।

এ ভবনের তিনতলায় থাকেন এমপি রিমন

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বরগুনা-২ আসনের শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, আমার বাসার সামনে রাস্তার দুই দিকে দু’টি সিসি ক্যামেরা বসিয়েছি। কারো বাসার দিকে আমি ক্যামেরা বসাইনি। আমি নিজের নিরাপত্তার জন্য রাস্তা মনিটর করতে ওই দু’টি ক্যামেরা দিয়েছি।

সংসদ সদস্য নাদিরা সবুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা স্রেফ তাদের মনের ভ্রান্তি, আমার সঙ্গে এটা গায়ে পড়ে ঝগড়া করার মতো আচরণ ছাড়া কিছু না।