[gtranslate]

প্রধান শিক্ষকের রোষানলে আয়া হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : মার্চ ১৭, ২০২৩, ২:২১ অপরাহ্ণ / ৩৮
প্রধান শিক্ষকের রোষানলে আয়া  হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না

আল আমিন শেরপুর প্রতিনিধি :- 

ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগ্রাম হাফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের রোষানলে পড়ে ওই বিদ্যালয়ের আয়া প্রতিদিন কর্মস্থলে উপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পারছেন না। অন্যদিকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় অসহায় ওই আয়াসহ তার পরিবার আতংকের মধ্যে রয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল শেরপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ওই বিদ্যালয়ের আয়া পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ১ম হয় মোঃ সুজেদা বেগম।একই বছরের ৫ মে নিয়োগ পত্র পেয়ে ১০ মে কর্মস্থলে যোগদান করেন সুজেদা বেগম। যোগদান করার দিন থেকেই আলাদা হাজিরা খাতায় এককভাবে আয়া সুজেদা বেগমের স্বাক্ষর নেন প্রধান শিক্ষক। এমনকি গত ৭ আগষ্ট প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি যৌথ স্বাক্ষরে ওই আয়া সুজেদা বেগমসহ আরো ২ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর এমপিও ভুক্তির জন্য মহাপরিচালক বরাবর অনলাইনে আবেদন করেন।কিন্তু অজ্ঞাত কারনে প্রধান শিক্ষক ১০ আগষ্ট আয়া সুজেদা বেগমের এমপিও আবেদন ফেরত নেন এবং সুজেদা বেগম বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা সত্বেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসলেও আয়া হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পারছেন না। অন্য প্রার্থীর কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক মোটা অংকের টাকা নিয়ে সুজেদাকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি যৌথ স্বাক্ষরে আয়া সুজেদা বেগমকে যোগদানের পর থেকে বিনা অনুমতিতে কর্তব্য কাজে অনুপস্থিত ও তার অষ্টম শ্রেণির সার্টিফিকেট জাল বলে অভিযোগ তুলে সাময়িক বরখাস্ত করার নোটিশ দিয়েছেন। ওই নোটিশে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আয়া সুজেদা বেগম ঝিনাইগাতী হাজী অছিমদ্দিন আমরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় থেকে অস্টম শ্রেণি পাশ করেছেন মর্মে ওই বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলছুম প্রত্যয়ন দিয়েছেন। মুলত বেশী টাকার লোভে পড়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ মুহিবুল্লাহ নিয়োগকৃত আয়াকে চাকুরী থেকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আয়া সুজেদা বেগম জানান, যোগদান করার পর থেকে নিয়মিত যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি।কিন্তু আগষ্ট মাসের ১০ তারিখ থেকে হাজিরা খাতায় আমার স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে না। আমি মানষিক ভাবে দুশ্চিন্তায় আছি। আমি যদি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতাম তাহলে আমার যোগদানের প্রায় ৪ মাস পর প্রধান শিক্ষক সাহেব গত ৭/৮/২০২২ তারিখে অন্য দু’জন কর্মচারীর সাথে আমার এমপিওভুক্তির জন্য মহাপরিচালক বরাবর আবেদন অনলাইনে প্রেরন করেছেন কেন ? এতেই বুঝা যায় যোগদানের পর থেকেই আমি আমার কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত রয়েছি। প্রধান শিক্ষক মোঃ মুহিবুল্লাহ বলেন, আয়া সুজেদা বেগমের অষ্টম শ্রেণির সার্টিফিকেট জাল বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে এবং যোগদানের পরদিন থেকেই কর্তব্যকাজে অনুপস্থিত রয়েছেন।এজন্য তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্থ করা হয়েছে।  ঝিনাইগাতী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, গত আগষ্ট মাসের ৭ তারিখ আয়া সুজেদা বেগমসহ তিন জন নব সৃষ্ট পদে কর্মচারীর এমপিও ভুক্তির আবেদন করেন যৌথভাবে বনগ্রাম হাফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান মোঃ মুহিবুল্লাহ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল কুদ্দুস। পরে কি কারনে প্রধান শিক্ষক আমার দপ্তর থেকে আয়া সুজেদা বেগমের আবেদন ব্যাক করান তা বুঝতে পারিনি। শেরপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রেজুয়ান আহম্মেদ বলেন, ওই বিদ্যালয়ের আয়া পদে মোঃ সুজেদা বেগমের এমপিও ভুক্তির আবেদনের হার্ড কপি আমি পেয়েছি।তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নোটিশের কপি ও জবাবের কপিও পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।