[gtranslate]

পর্যটন নগরী তাহিরপুর, নেই যাতায়াতের সুবিধা, ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৬, ২০২৩, ৬:১২ অপরাহ্ণ / ৪০
পর্যটন নগরী তাহিরপুর, নেই যাতায়াতের সুবিধা, ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম পর্যটন সম্ভাবনাময় জনপদ তাহিরপুর। জেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অপরিমেয় সৌন্দর্যের লীলাভূমি তাহিরপুর উপজেলায় রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী, বারেক টিলা, সীমান্তের ওপারে মেঘালয় পাহাড় ও নীলাদ্রি লেকের মতো মনোরম দর্শনীয় স্থান। এর পাশাপাশি নতুন পর্যটন কেন্দ্র লাল শাপলার বিকি বিলও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ক্রমে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কুলঘেষা এই জনপদকে যেন নিজ হাতেই নৈসর্গিক অপরূপ দৃশ্যবলিতে সাজিয়েছে প্রকৃতি। তবে জেলা শহরের সঙ্গে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে না উঠায় এই সৌন্দর্য উপভোগে আগ্রহী হন না অনেকেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কপথের উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য মানসম্মত আবাসিক হোটেল ও স্বাস্থ্যসম্মত রেস্তোরাঁ গড়ে তুললে তাহিরপুর হতে পারে দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন ‘হাব’। তাহিরপুরের নান্দনিক সৌন্দর্য দেখতে এসে পর্যটকরা মেঘালয় সীমান্ত সংলগ্ন দেশের বৃহত্তম শিমুল বাগান, শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রী লেক), টাঙ্গুয়ার হাওর, লাকমা ছড়া, চাঁনপুর ঝর্ণা, বড়গোপ টিলা (বারেক টিলা), যাদুকাটা নদী ছাড়াও হাওর, সীমান্তে বসবাসকারী পরিবার এবং আদিবাসীদের জীবনযাপন দেখে মুগ্ধ হন। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে প্রবাহিত তাহিরপুরের সীমান্ত নদী যাদুকাটার একদিকে ভারত সীমান্তের উঁচু সবুজ পাহাড়, মধ্যে ছোট ছোট টিলা আর নিচে শান্ত স্বচ্ছ জলরাশি। নদীটির পাশেই রয়েছে তাহিরপুরের আরেক পর্যটন স্থান বারেকের টিলা। বারেকের টিলার পাশ দিয়ে প্রবহমান যাদুকাটা নদীর ধু-ধু বালু আর চকচকে স্বচ্ছ নীলাভ পানি আচ্ছন্ন করবে যে কোনো ভ্রমণপিয়াসীকে। তবে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্তে¡ও শুধু যোগাযোগের কারণে যাদুকাটা ও বারেকের টিলা পর্যটন এলাকা হিসেবে বিকশিত হতে পারেনি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে পর্যটকরা সহজে আসতে পারতেন। সরকারও প্রচুর রাজস্ব পেত বলে মনে করে সচেতন মহল। সুনামগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে সদ্য বয়ে যাওয়া পাহাড়ি পানির ঢল এবং ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হয়ে উঠেছেন রাস্তা ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় এলাকাবাসী। প্রতিদিনই রাস্তার দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্যে গালমন্দ করছেন তারা। এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি হবে কবে জানতে চায় এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। এমনি একটি এলাকা সুনামগঞ্জের অবহেলিত জনপদ তাহিরপুর। স্বাধীনতার ৫২ বছর পার হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ছোয়া তেমন ভাবে লাগেনি এমন অনেক জায়গা রয়েছে। অথচ এ উপজেলা থেকে সরকার প্রচুর পরিমান রাজস্ব পাচ্ছে প্রতি বছর। যে সরকার এসেছে তারাই নিজেদের আখের গোঁচাতেই ব্যাস্থ থাকে যার ফলে এ উপজেলার দিকে কারো নজর নেই যেন দেখার কেউ নেই। তবে বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় মোটামুটি বেশ কিছু রাস্তার কাজ হলেও সেগুলোর পরবর্তীতে চলাচল অনুপযোগী হলে আর নতুন করে সংস্কার করা হচ্ছে না এতে রাস্তা পরিণত হচ্ছে মরণ ফাদে এরকম ভাবেই তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাওঁ বাশতলার একটি রাস্তা তৈরি হয়েছে মরন ফাদে। উপজেলার ব্যাবসা বানিজ্যের প্রান কেন্দ্র বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, দক্ষিন বড়দল, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন, ৩টি শুল্ক ষ্টেশন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,৩ টি কলেজ ও ছোট ছোট অর্ধশতাধিক গ্রামের জনসাধারন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। এ বছর পাহাড়ি ডলে চারাগাওঁ বাসতলা সহ উপজেলার ভিন্ন স্থানে বড় বড় ভাঙ্গন থাকায় এখন যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হতে বসেছে। চারাগাওঁয়ের এ রাস্তাটি দিয়ে এ উপজেলা ছাড়া ২টি উপজেলার মানুষের যাতায়াত হয় বেশি বিশম্বরপুর, ধর্মপাশা তাই বর্তমানে এ রাস্তটি কাটা হয়ে দাড়িয়েছে উপজেলা গুলোর জনগনের। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ন তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক হয়ে লালঘাট, বাঁশতলা, বাগলি রাস্তা চলাচলে অযোগ্য হয়ে পরেছে। জরুরী বিত্তিতে কোন রোগীকে যানবাহনে করে হাসপাতালে যাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও উপজেলা বিভিন্ন সড়কে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। সর্বস্তরের চলাচলকারী জনসাধারন, শিক্ষক, ছাত্র- ছাত্রী, অবিভাবকগন বলেন-এই রাস্তাটি খুবেই গুরুত্বপূর্ন বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের সবাইকে। গুরুত্বের সাথে জরুরী বৃত্তিতে সংস্কার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবী জানাই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে। চারাগাওঁ বাজারের ব্যবসায়ীরা সহ স্থানীয় এলাকাবাসী জানান চারাগাওঁ বাঁশতলা রাস্তাটি আসা যাওয়ায় একমাত্র রাস্তা ভাঙ্গা ছোড়া থাকায় যাতায়াতে মালামাল পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আর অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। কলাগাওঁ গ্রামের আজাহারুল নামের একজন জানায়, আমরা এ রাস্তা দিয়ে সুনামগঞ্জে বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রায় দৈনিক যেতে হয়। খুব দ্রুত কতৃপক্কের কাছে আকুল আবেদন জানাই যেন আমাদের এ সমস্যা সমাধান করেন। সুনামগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা মোঃ মাসুক মিয়া বলেন বিগত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের সংস্কার এবং যাদুকাটা নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে এ উপজেলার পর্যটন স্পটগুলো দেশ-বিদেশের সৌন্দর্য পিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে।  সুনামগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা  এডভোকেট রিপন চন্দ্র দাস  বলেন রাস্তাঘাট নাজুক থাকায় তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর, বারেক টিলা, যাদুকাটা নদী ও শহীদ সিরাজ লেকে আসতে অনেক ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানান। সরকার প্রতি বছর এই এলাকা থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে তার তুলনা এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে না, এমন মনোমুগ্ধকর পর্যটন এলাকার রাস্তাঘাট উন্নত করে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ রাখতে পদক্ষেপ নেয়া উচিত সরকারের। বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা কাশেম ভূঁইয়া বলেন বড়ছড়া ছাড়াগাঁও বাগলী যাতায়াতের তেমন কোন সুবিধা নাই, সরকার এই রাস্তা দিকে নজর দেওয়ার দরকার মনে করি। কয়লা আমদানি কারক গ্রুপের সভাপতি হাজী আলকাছ খন্দকার বলেন, তাহিরপুর উপজেলার প্রধান স্থলবন্দর বড়ছড়া, ছাড়াগাঁও, ও বাগলী, কিন্তু যাতায়াতের তেমন কোনো অসুবিধা নেই, এছাড়াও তাহিরপুর উপজেলা একটি পর্যটন নগরী, প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এই এলাকায় ঘুরতে আসে, কিন্তু রাস্তাঘাটের তেমন কোন সুবিধা না থাকায় অনেক কষ্ট করে আসতে হয়, যদিও আসার পর এই সুন্দর প্রকৃতি দেখে সব কিছু ভুলে যায়, কিন্তু আবারো তেমন কষ্ট করে জেলা শহরে যেতে হয়। এমতাবস্থায় পর্যটন এলাকার রাস্তাঘাট উন্নত করে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ রাখতে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।