[gtranslate]

ধর্ষণের চেষ্টার শাস্তি যে এরকম আজব হতে পারে তা না শুনলে বিশ্বাস হবে না।


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ / ২২৯
ধর্ষণের চেষ্টার শাস্তি যে এরকম আজব হতে পারে তা না শুনলে বিশ্বাস হবে না।

ছবি সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক:

ধর্ষণের চেষ্টায় অভিযুক্তের আজব শাস্তি! ৬ মাস ধরে ধুতে হবে মহিলা পোশাক? ঘরে বাইরে তোলপাড়…

বিহার: ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের শাস্তি কী হওয়া উচিত তাই নিয়ে তর্কের শেষ নেই। অনেকেই মনে করেন একমাত্র মৃত্যু দণ্ডই এর শাস্তি। আবার ভিন্ন মত পোষণ করেন অনেকে। তাঁদের মতে ধর্ষণকারীকে ফাঁসি দিলেও বোধহয় আক্রান্ত মহিলার যন্ত্রণা কম হবে না। দিল্লি নির্ভয়া কাণ্ডে দেখা গিয়েছে, অপরাধের বহু বছর পর চার দোষী সাব্যস্তকে ফাঁসি দেওয়া হয়। ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগেও কড়া শাস্তির নজির রয়েছে দেশে। কিন্তু ধর্ষণের চেষ্টার শাস্তি যে এরকম আজব হতে পারে তা না শুনলে বিশ্বাস হবে না।

বিহারের (Bihar Court) মধুবনী এলাকার এক আদালতে এক ব্যক্তিকে তারই গ্রামে এক মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। এই মামলায় এক নজিরবিহীন রায় শুনিয়েছে। এক অভিনব শাস্তির (Rape case Punishment) কথা বলেছে আদালত। মধুবনী আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তিস্বরূপ আগামী ৬ মাস তার গ্রামের সব মহিলাদের পোশাক ধুয়ে ইস্ত্রি করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত ওই ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করলেও এই চরম শাস্তির কথা রায়ে জানিয়েছে।

বিহারের ঝাঁঝরপুর আদালতের(Bihar Court) অতিরিক্ত জেলা বিচারক অভিনাশ কুমার এই শর্তে অভিযুক্তের (Rape case Punishment) জামিন মঞ্জুর করে যে সে আক্রান্ত মহিলা সহ গ্রামের সব মহিলার পোশাক ধুয়ে ইস্ত্রি করে দেবে ওই ব্যক্তি, তাও বিনামূল্যে। জানা গিয়েছে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ২০ বছরের লালন কুমার সাফি পেশায় ধোপা। ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে তাকে এ বছরের এপ্রিলে হেফাজতে নেওয়া হয়।

এই মামলার শুনানিতে (Bihar Court) অভিযুক্তের আইনজীবী সওয়াল করেন তার মক্কেলের বয়স মাত্র ২০ বছর এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হোক। আইনজীবীরা আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার পেশাগত যোগ্যতায় সমাজসেবা করতে ইচ্ছুক। মঙ্গলবার আদালত তাকে জামিন দেয়। মহিলাদের পোশাক ধোয়া ও ইস্ত্রি (Rape case Punishment) ছাড়াও আদালত অভিযুক্তকে ১০ হাজার করে দু’‌টি বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেছে।

যদিও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে এবং পুলিশের তদন্তের কাজও শেষ এই মামলায়। দুই পক্ষের মধ্যে নিষ্পত্তির আবেদনও করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে এই ৬ মাসের পরিষেবা সম্পূর্ণ হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রাম পঞ্চায়েত বা অন্য কোনও সরকারি অফিসারের কাছ থেকে তার এই বিনামূল্যে পরিষেবার শংসাপত্র দেওয়া হবে।

ঝাঁঝরপুরের এডিজে অভিনাশ কুমার অতীতেও অবশ্য এমনই বহু অদ্ভুত শাস্তির রায় শুনিয়েছেন। এ বছরের আগস্টেও লকডাউনে স্কুল খোলা নিয়ে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক শিক্ষককে নির্দেশ দেন গ্রামের সব শিশুদের বিনামূল্যে লেখাপড়া শেখাতে হবে। তবে ধর্ষণের চেষ্টার শাস্তি এতটা লঘু হওয়ায় অনেকেই বিচারকের ওপর ক্ষুব্ধ।

সূত্র: নিউজ ১৮ বাংলা