[gtranslate]

তাহিরপুরের শিমুল বাগানে দিনব্যাপী বসন্ত বরণ উৎসব


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৩, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ / ২৬
তাহিরপুরের শিমুল বাগানে দিনব্যাপী বসন্ত বরণ উৎসব

প্রচেষ্টা নিউজ ডেস্ক:

ভালবাসা দিবস ও ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে ফাগুনের আগুন লেগেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর শিমুল বাগানে। যাদুকাটা নদীর তীর, চারদিকে ধু-ধু বালুচর। তার মাঝখানে একশ বিঘা জমি জুড়ে রয়েছে শিমুল বাগান। বাগান তো নয়, যেন শিমুলের রাজ্যত্ব। সেখানে শিমুল গাছের ডালে ডালে রক্তিম ফুল ফুটে আছে। ফুলের এই রক্তিম আভা বাতাসে দোল খাচ্ছে। সারিবদ্ধভাবে লাগানো গাছে ফুটে থাকা শিমুলের লাল পাপড়িতে সাজানো প্রকৃতির এই রূপ-রঙই বলে দিচ্ছে আজ বসন্ত। বসন্তের আগমন উপলক্ষে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে প্রতি বছর দেশি বিদেশি পর্যটক ভিড় জমে এ বাগানে। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আজ মঙ্গলবার ১৪ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও পহেলা বসন্ত উপলক্ষে আগত পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এ দিনটিকে আরও মনমুগ্ধকর করতে শিমুল বাগানে দিনব্যাপী বসন্ত বরণ উৎসবের আয়োজন করেছে জেলার শিল্পকলা একাডেমি সুনামগঞ্জের জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বসন্তকে ঘিরে নাচ, গান, চিত্র অংকন ও কবিতার বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান রনি, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তৌফিক আহমেদ, বাগান মালিক মরহুম জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিন, আফতাব উদ্দিন, সেলিম বেগম সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, ও উত্তর বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া প্রমূখ। বসন্ত-ভালোবাসায় একাকার এমন একটি দিনকে বরণ করতে শিমুল বাগানের তুলনা হয়না বলে জানান শিমুল বাগানে আগত প্রকৃতিপ্রেমীরা। তারা বলেন, শিমুলের এই অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি নাচ, গান ও কবিতার বর্ণাঢ্য এমন আয়োজনের মাধ্যমে বসন্ত বরণ আসলেই মনমুগ্ধকর। বসন্তকে উপভোগ করতে বারবার এই জাদুকাটা নদীর তীরে ফিরতে চান ঘুরতে আসা এই প্রকৃতিপ্রেমীরা। বাগান মালিক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিন ও আফতাব উদ্দিন বলেন, আমাদের বাবা আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন শখের বসে প্রায় ২৪ বছর আগে এই শিমুল বাগানটা তৈরি করেছিলেন, জেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য ১ নং ওয়ার্ডের সেলিনা বেগম বলেন আমার বাবা এই বাগানটি শখের বসে করেছিলেন, এই বাগানে ৩ হাজার শিমুল গাছ ও ১ হাজার লেবু গাছ আছে। যাদুকাটা নদীর পশ্চিম পারে একশ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেন শিমুল বাগান। বাগানটিতে সারিবদ্ধভাবে ৩ হাজার শিমুলের চারা রোপণ করেন। সেই গাছ এখন পুষ্প পত্র পল্লবে পেখম মেলেছে। আর এই নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা ভিড় করছেন যাদুকাটা নদীর তীরে। প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছেন শত শত দর্শনার্থী। সেই সঙ্গে স্থানীয়রাও প্রতিদিন বিকেলে সময় কাটান শিমুল ফুলের রক্তিম আভার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তিনি আরোও বলেন, আমরা বর্তমানে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একটা নকশা প্ল্যান করা হয়েছে, যেন পর্যটকরা এবং শিশুরা আনন্দ আরও বেশি উপভোগ করতে পারে। দেশ বিদেশ থেকে ঘুরতে আসেন পর্যটকরা। তাই পর্যটকদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বসন্ত বরণে শিমুল বাগান দেশের অন্যতম একটি স্থান। বাগান সহ তাহিরপুরে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সেখানে আগত পর্যটকদের সু্যোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে প্রশাসনের পক্ষে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।