[gtranslate]

জামালগঞ্জে সেতু না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই চলছে নদী পারাপার


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : মে ১৫, ২০২৪, ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ / ১০
জামালগঞ্জে সেতু না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই চলছে নদী পারাপার

স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ শাহীন  আলম।

সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সুরমা নদীর উপর সেতু না থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা যোগে পারাপার করছে এ এলাকার মানুষ। সময়ে সময়ে জোড়ালো দাবি জানিয়ে আসলেও কোন কাজে আসেনি।

উপজেলার জামালগঞ্জ সদর, সাচনা বাজার, ফেনারবাঁক, বেহেলী, ভীমখালী ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের ২ শতাধিক গ্রামের প্রায় ২ লাখ মানুষের বসবাস। প্রতিদিনেই কেনাকাটা বা বিভিন্ন দাফতরিক কাজের জন্য এপার-ওপার যাতায়াত করতে হয়। মাঝখানে সেতু না থাকায় প্রতিদিনেই পড়তে হয় নানান সমস্যায়। এছাড়া জেলার সাথে অন্যান্য উপজেলা গুলোর একমাত্র পথ এটি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরা। যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রসবকালীন মা-শিশুরা চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছে বলে দাবি অনেকের। এ ছাড়া উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রী কলেজ, জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ মাদ্রাসা। প্রতিদিনেই পারাপার করতে হয় শতশত ছাত্র-ছাত্রী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, পথচারী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুরমা নদীর উপর ব্রীজ না থাকায় জন্মের পর থেকেই আমরা খুব কষ্ট করে যাতায়াত করছি। আমাদের বাবা-দাদারাও এই কষ্ট করে গেছেন। আমাদের ছেলে-মেয়েরাও কষ্ট করে স্কুল, কলেজে যাতায়াত করছে। রাতে কেউ অসুস্থ হলে দুর্ভোগের-তো সীমাই নাই। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে স্থানীয় সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর সু-নজর কামনা করেন তাঁরা।

পথচারী নেহার দেবনাথ বলেন, আমি প্রতিদিন সাচনা বাজার থেকে জামালগঞ্জে কর্মের তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। বিশেষ করে ব্যাংক-বীমা, থানা, উপজেলা নির্বাহী অফিস ও হাসপাতালে নদীর ওপারে পাড় হওয়া প্রতিনিয়ত দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী পার হতে অনক্ষেণ সময় অপক্ষো করতে হয়, জরুরী প্রয়োজনে ফেরী পারাপার করতে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া রাত্রী বেলায় নৌকার জন্য জরুরী রোগী নিয়ে ফেরী ঘাটে বসে থাকতে হয়।

উপজেলা শ্রমিকলীগের সহ সভাপতি রেজুয়ান আহমদ চৌধুরী আলম বলেন, প্রতিদিন নদী পারাপারে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, দ্রæত ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানাই।

উপজেলা খেলাঘর আসর সভাপতি আলী আক্কাস মুরাদ বলেন, আমরা আসলে সাচনা বাজার ফেরী পারাপার নিয়ে অনেক দূর্ভোগে আছি। জনদূর্ভোগে প্রতিদিন নদী পারাপারে মানুষ ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এখানে যদি ব্রীজ হয় তাহলে আমাদের এলাকা সার্বিক উন্নয়ন হবে এবং আন্তার্জাতিকভাবে আমরা ঢাকা থেকে জামালগঞ্জে যে যোগাযোগটা সহজ ও সুন্দর হবে। সুরমা নদীর ওপরে এই ব্রীজটি আমাদের জামালগঞ্জবাসীর অনেক দিনের প্রত্যাশা, আমরা চাই যে জামালগঞ্জের ব্রীজটা সুন্দর ও সঠিকভাবে দ্রæত সময়ের মধ্যে হয় আমরা জামালগঞ্জবাসী আন্তরিকভাবে দাবি জানাই।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জামালগঞ্জ-সাচনাবাজারের মাঝখানে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় সাংসদ এডভোকেট রনজিত চন্দ্র সরকার এ প্রতিবেদককে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতু নির্মাণের বিষয়ে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সেতু নির্মাণের জন্য সব ধরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

জামালগঞ্জে সেতু না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই চলছে নদী পারাপার

মো. শাহীন আলম, স্টাফ রিপোর্টার::

সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সুরমা নদীর উপর সেতু না থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা যোগে পারাপার করছে এ এলাকার মানুষ। সময়ে সময়ে জোড়ালো দাবি জানিয়ে আসলেও কোন কাজে আসেনি।

উপজেলার জামালগঞ্জ সদর, সাচনা বাজার, ফেনারবাঁক, বেহেলী, ভীমখালী ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের ২ শতাধিক গ্রামের প্রায় ২ লাখ মানুষের বসবাস। প্রতিদিনেই কেনাকাটা বা বিভিন্ন দাফতরিক কাজের জন্য এপার-ওপার যাতায়াত করতে হয়। মাঝখানে সেতু না থাকায় প্রতিদিনেই পড়তে হয় নানান সমস্যায়। এছাড়া জেলার সাথে অন্যান্য উপজেলা গুলোর একমাত্র পথ এটি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরা। যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রসবকালীন মা-শিশুরা চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছে বলে দাবি অনেকের। এ ছাড়া উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রী কলেজ, জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ মাদ্রাসা। প্রতিদিনেই পারাপার করতে হয় শতশত ছাত্র-ছাত্রী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, পথচারী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুরমা নদীর উপর ব্রীজ না থাকায় জন্মের পর থেকেই আমরা খুব কষ্ট করে যাতায়াত করছি। আমাদের বাবা-দাদারাও এই কষ্ট করে গেছেন। আমাদের ছেলে-মেয়েরাও কষ্ট করে স্কুল, কলেজে যাতায়াত করছে। রাতে কেউ অসুস্থ হলে দুর্ভোগের-তো সীমাই নাই। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে স্থানীয় সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর সু-নজর কামনা করেন তাঁরা।

পথচারী নেহার দেবনাথ বলেন, আমি প্রতিদিন সাচনা বাজার থেকে জামালগঞ্জে কর্মের তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। বিশেষ করে ব্যাংক-বীমা, থানা, উপজেলা নির্বাহী অফিস ও হাসপাতালে নদীর ওপারে পাড় হওয়া প্রতিনিয়ত দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী পার হতে অনক্ষেণ সময় অপক্ষো করতে হয়, জরুরী প্রয়োজনে ফেরী পারাপার করতে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া রাত্রী বেলায় নৌকার জন্য জরুরী রোগী নিয়ে ফেরী ঘাটে বসে থাকতে হয়।

উপজেলা শ্রমিকলীগের সহ সভাপতি রেজুয়ান আহমদ চৌধুরী আলম বলেন, প্রতিদিন নদী পারাপারে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, দ্রæত ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানাই।

উপজেলা খেলাঘর আসর সভাপতি আলী আক্কাস মুরাদ বলেন, আমরা আসলে সাচনা বাজার ফেরী পারাপার নিয়ে অনেক দূর্ভোগে আছি। জনদূর্ভোগে প্রতিদিন নদী পারাপারে মানুষ ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এখানে যদি ব্রীজ হয় তাহলে আমাদের এলাকা সার্বিক উন্নয়ন হবে এবং আন্তার্জাতিকভাবে আমরা ঢাকা থেকে জামালগঞ্জে যে যোগাযোগটা সহজ ও সুন্দর হবে। সুরমা নদীর ওপরে এই ব্রীজটি আমাদের জামালগঞ্জবাসীর অনেক দিনের প্রত্যাশা, আমরা চাই যে জামালগঞ্জের ব্রীজটা সুন্দর ও সঠিকভাবে দ্রæত সময়ের মধ্যে হয় আমরা জামালগঞ্জবাসী আন্তরিকভাবে দাবি জানাই।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জামালগঞ্জ-সাচনাবাজারের মাঝখানে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় সাংসদ এডভোকেট রনজিত চন্দ্র সরকার এ প্রতিবেদককে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতু নির্মাণের বিষয়ে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সেতু নির্মাণের জন্য সব ধরণের পরিকল্পনা রয়েছে।