[gtranslate]

জগন্নাথপুরে পূরণ হয়নি আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা, মেয়াদ শেষ 


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : মার্চ ১০, ২০২৩, ৩:২৭ অপরাহ্ণ / ২৩
জগন্নাথপুরে পূরণ হয়নি আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা, মেয়াদ শেষ 

হুমায়ূন কবীর ফরীদি, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

জগন্নাথপুরে আমন ধান এর বাম্পার ফলন হলেও ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। সরকারি ভাবে ৫ শত ৯৯ মেট্রিকটন আমন ধান সংগ্রহ করতে চাইলেও মাত্র ৭ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। যা তুলনামুলক ভাবে অনেক কম। অথচ ধান সংগ্রহের মেয়াদ শেষ। জানা গেছে, বিগত ২০২২ সালের ২৪ শে নভেম্বর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় আনুষ্ঠানিক ভাবে আমন ধান সংগ্রহ উদ্বোধন করা হয়।এই ধান সংগ্রহের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি সনের ২৮ শে ফেব্রুয়ারী শেষ হলেও পরবর্তীতে আবার বর্ধিত করা হয় আরো এক সপ্তাহ। সর্বশেষ ৭ ই মার্চ বর্ধিত সময় শেষ হলেও কাঙ্ক্ষিত আমন ধান সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। জগন্নাথপুর উপজেলা সদর খাদ্য গুদামের আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ শত ৬২ টন। তমধ্যে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৭ টন। আর রানীগঞ্জ খাদ্য গুদামের আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১শত ৩৭ টন হলেও এক মুষ্টিও সংগ্রহ হয়নি। এ ব্যাপারে ১০ মার্চ জগন্নাথপুর উপজেলা সদর খাদ্য গুদাম এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক সুত্রধর মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, আমি নতুন এসেছি। আমার আগে ছিলেন শিমলা রায়। আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি ছিলনা।তবুও সম্ভব হয়নি। রানীগঞ্জ খাদ্য গুদাম এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, অনেক চেষ্টা করেও আমন ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা আমাদের কাছে ধান বিক্রি করেননি। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক ও ধান ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ১১২০ টাকা দামে ১ মণ ধান ক্রয় করছেন। যা বাজারে অনেক বেশি। ছোট ধান প্রতি মণ ১৪০০ টাকা ও বড় ধান ১২/১৩ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে প্রান্তিক কৃষকেরা বাজারের তুলনায় কম দামে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেননি। একেতো দাম কম। তার উপর সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে গেলে ধান বারবার শুকালেও তাদের চাহিদা অনুযায়ী শুকানো হয়না। ধান গুদামে নিয়ে ফেরত নিয়ে আসতে হয়।কৃষি কার্ড, কৃষি তালিকা, ব্যাংক একাউন্ট সহ নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। আর বাজারে ধান বিক্রি করলে এসব ঝামেলা পোহাতে হয়না। যার ফলে দুরদুরান্তের কৃষকেরা সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে চায়না। তাছাড়া এবার দেশের নামকরা বেশ কিছু কোম্পানি কৃষকদের মাড়াই করা ধান উচ্চ মূল্যে ক্রয় করেছেন। এর প্রভাব পড়েছে সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে। তাই আগামী বোরো মৌসুমে সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে স্থানীয় বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে আমন ধানের মতো বোরোধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা।