[gtranslate]

চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাস্তার কাজে সেলিম ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ 


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : মে ১৫, ২০২৪, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ /
চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাস্তার কাজে সেলিম ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ 

ফয়সাল আজম অপু, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৩ নং ঝিলিম ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের শিমুলতলা আঞ্চলিক সড়ক থেকে সাইফুদ্দিনপাড়া ১২৩০ মিটার মেনটেনেন্স রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে এই রাস্তা হচ্ছে। নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেলিম রেজা কনস্ট্রাকশন এর অনুকূলে কাজ নেওয়া ঠিকাদার মো. সেলিম রেজা। এ কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের নম্বর বিহীন ইট ও মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, এই রাস্তার কাজ তদারকিতে সদর উপজেলার এলজিইডির কর্মকর্তাদের গাফিলতি আছে বলেও অভিযোগ করেন। এলজিইডির ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এই প্রকল্পে মেনটেনেন্স কার্পেটিং কাজের অনুকূলে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সিডিউলের চুক্তি ভঙ্গ করে রাস্তার দুই পাশের কাটা মাটির মিশ্রিত বালি দিয়ে বক্স না করেই নিম্নমানের ইট খোয়াসহ নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করেছে রাস্তায়। এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অনিয়মের অভিযোগের পর কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হলেও, এখনও অনিয়মের মাধ্যমে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়েই ওই কাজ সমাপ্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার মো. সেলিম রেজা।

এ রাস্তায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে কিছু দিনের মধ্যেই রাস্তাটি ভেঙে পানিতে যাবে সরকারি টাকা। কয়েক মাস যেতে না যেতেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে এই সড়ক। ফলে সরকারি বরাদ্দে অবমূল্যায়নের ফলে দুর্ভোগের শিকার হতে হবে এলাকাবাসীদের।

সরেজমিন রোববার (১২ মে) গিয়ে দেখা যায়, সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির বাস্তব চিত্র। বালুর পরিবর্তে কাদামাটি দিয়ে তার ওপর নিম্নমানের পুরোনো ইটের খোয়া ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিম্নমানের ইটের ভাঙা অংশ রাবিশ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সড়কের ধুলো-ময়লা না উঠিয়ে ও পরিস্কার না করেই তার উপরই দায়সারা ভাবে বিটুমিনের প্রলেপ না দিয়ে শুকনো ভাবেই ধুলোর সাথেই পিচ-পাথর ডলে দেয়া হচ্ছে। শুধু তাইনা, অন্য দিকে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও পাথরের সাথে ডাস্টের পরিবর্তে বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। পিচ গলানোর কাজে জালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের কথা থাকলেও পুড়ানো হচ্ছে প্লাস্টিকের জুতা, স্যন্ডেল। যাতে করে তীব্র তাপদাহে পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে। আবাসিক এলাকায় প্লাস্টিক পুড়ানোর গন্ধ ও ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। রাস্তার কাজে স্থানীয়ভাবে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাউকে এসে তদারকি করতে দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা, গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে দেখান, ইটে পা দিয়ে চাপ দিলে তা ভেঙে যাচ্ছে ও পিচ-পাথর দেয়া অংশ হাত দিয়ে টান দিলেই অনায়াসেই উঠে যাচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় আব্দুল মালেক বলেন, ঠিাকাদারকে টেন্ডারের চুক্তি অনুযায়ী কাজ করার কথা বললেও কোনো তোয়াক্কা না করে অনুমোদন বিহীন নিম্নমানের বালি, পিচ ও পাথর দিয়ে কাজ সম্পূর্ণ করার পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।

একই গ্রামের আলম, মোস্তফা, রিংকু, রানা, সহ কয়েকজন মহিলার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলীদের ম্যানেজ করে রাস্তায় ব্যবহার করা হয়েছে নিন্মমানের ইট ও কিছু কিছু জায়গায় বালির বদলে মাটি। এলাকাবাসীরা আরো অভিযোগ করেন, এই কাজে অনিয়মের বাধা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয় তাদের। তাই ক্ষুব্ধ তারা। তাদের দাবি নিন্মমানের ইট, খুয়া, পাথর অপসারণ করে সিডিউল অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিটুমিন ও উন্নতমানের ইট দিয়ে অবিলম্বে নতুন করে রাস্তা নির্মাণ করা হোক।

ঝিলিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম লুৎফুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, এই রাস্তা নির্মাণে শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আমি ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পায়নি, আবার ইঞ্জিনিয়ারকে বারবার বলেও কোনো লাভ হয়নি। তারা আমার কথার কোন গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ইচ্ছে মত নিম্নমানের ইট, পাথর ও ময়লা-মাটি মিসিয়ে দায়সারাভাবে রাস্তা নির্মাণ করেছে।

অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেলিম কনস্ট্রাকশন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেলিম রেজার কাছে এ রাস্তার অনিয়মের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি কাজের অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করেন। এবং বলেন, আমার কাজ ভালো হচ্ছে। আমি কাজটি সিডিউল অনুযায়ী সঠিক ভাবেই করছি। ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি হলে সেটিও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সারিয়ে নিবো। এ কাজ এলজিইডিই বুঝে নেবে। তাদেরকে আমিই বুঝিয়ে দেব। তাছাড়া কাজের মান এলজিইডি তদারকি করেইতো বিল দেবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদরুল ইসলাম বলেন, উন্নয়ন কাজের চুক্তি মোতাবেক কাজ না হলে ও কাজে অনিয়ম হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কাজ দেখভাল করছে ইঞ্জিনিয়ার সায়েম, তার কাছেই বিস্তারিত তথ্য নিতে বলেন। তবে সরজমিনে গিয়ে সায়েম সহ এলজিইডির কাউকে পাওয়া যায়নি। সায়েমের সাথে মুঠোফোনে প্রশ্ন করলে, তিনি কেনো অনুপস্থিত ও অন্য তথ্য চাইলে না দিয়েই ফোন কেটে দেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তাছমিনা খাতুন মুঠোফোনে বলেন, ঝিলিম ইউনিয়নে সড়কের কাজে অনিয়ম হচ্ছে এমন কোনো অভিযোগ এলাকাবাসী আমাকে জানায়নি। তথাপি আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি, অভিযোগের সত্যতা পেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোজাহার আলী প্রামাণিক মুঠোফোনে বলেন, তদন্ত করে রাস্তার কাজে অনিয়ম পেলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবেনা।বিকেলে অফিসে এসে দেখা করারও পরামর্শ দেন তিনি।