[gtranslate]

চট্টগ্রাম বিভাগে নৌকা ১১৭, স্বতন্ত্র ৭২ প্রার্থী জয়ী, স্থগিত ৫


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৩০, ২০২১, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ / ১৮৮
চট্টগ্রাম বিভাগে নৌকা ১১৭, স্বতন্ত্র ৭২ প্রার্থী জয়ী, স্থগিত ৫

 

প্রচেষ্টা নিউজপেজ:

তৃতীয় ধাপের চট্টগ্রামে ১১ ১৯৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ভোটার জয়ী। বাকি ৭২ সংখ্যা বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র ভোটের দল। পাঁচটি স্থগিত করা হয়েছে।

১.কুমিল্লা :

কুমিল্লাতে ইউপিতে নৌকা, ১৪ স্বতন্ত্র জয়ী

কুমিল্লার দাউদকান্দ, বরা ওনার ৩০টি ইউনিউয়ে স্বাগতিক স্বাগতিক গণ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি ইউনিয়নের ফলাফল পৃথকভাবে বের করা হয়েছে। পাঁচটি ভোটে নৌকার শক্তি জয়ী ১১ স্বয়ং স্বতন্ত্র বিদ্রোহী (শক্তি) জয়ী থাকা। স্বতন্ত্র বিএনপি (স্বতন্ত্র) শক্তি জয়ী। একটি ফলাফল স্থিত হয়েছে. রবিবার (২৮ নভেম্বর) জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বরুড়া কংগ্রেস ভবানীপুরে নৌকার পরের খলিলুর রহমান, খোশবাস উত্তরে নৌকার নাজমুল হাসান সর্দার, আগানগরে স্বয়ং বিদ্রোহী মাজহারুল ইসলাম মিঠু, লক্ষ্মীপুরে নৌকার আবুল হাসেম, পগাছায় নৌকার মাইনল্যান্ড, মোড্ডায় নৌকার। জাকারিয়া, ঝলমে প্রয়োগকারী বিদ্রোহী নুরুল ইসলাম, আড্ডায় নৌকার জাকির হোসেন বাদল ও আদ্রায় আদ্রায় আপন বিদ্রোহী রাকিবুল হাসান লিমন ব্যক্তিগত জয়ী গ্রহণ করুন।

দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুরে নৌকার নোমান সরকার, সুন্দলপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মো. আসলাম, বিটেশ্বরে নৌকার হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, মারুকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এএসএম শাহজাহান ভূঁইয়া, জিংলাতলীতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আলমগীর হোসেন মোল্লা, দাউদকান্দি উত্তরে নৌকার কামরুজ্জামান শাহীন, গোয়ালমারীতে নৌকার আবদুল মান্নান, পদুয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মনির হোসেন, পাঁচগাছিয়া পশ্চিমে নৌকার জামাল উদ্দিন চৌধুরী, ইলিয়টগঞ্জ উত্তরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী লোকমান হোসেন মুন্সী, মালিগাঁওতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাক আহমেদ ও মোহাম্মদপুর পশ্চিমে নৌকার দুলাল সরকার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

হোমনার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, ঘাগটিয়া ইউনিয়নে বিএনপি নেতা মফিজুল ইসলাম গণি, দুলালপুর ইউনিয়নে নৌকার জসিম উদ্দিন সওদাগর, চান্দেরচর ইউনিয়নের ফলাফল স্থগিত রয়েছে, আসাদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জালালউদ্দিন পাঠান, নিলখী ইউনিয়নে নৌকার জালাল উদ্দীন, ভাষানিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাদেক সরকার, ঘারমোড়া ইউনিয়নে বিএনপি নেতা শাহজাহান মোল্লা ও জয়পুর ইউনিয়নে নৌকার তাইজুল ইসলাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

২.নোয়াখালী

নোয়াখালীতে সবকয়টিতে আওয়ামী লীগ পরাজয়

তৃতীয় ধাপে নোয়াখালীর সেনবাগে রবিবার (২৮ নভেম্বর) পাঁচ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ডমুরুয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী শওকত হোসেন কানন। বাকি চার ইউনিয়নের সবকটিতেই হেরেছেন নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

রবিবার রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ছাতারপাইয়া, কাদরা ও ডমুরুয়া ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কাবিলপুর ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও বীজবাগ ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা নাছরুল্যাহ আল মাহমুদ বেসরকারি এ ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর মধ্যে, ছাতারপাইয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি) মো. আবদুর রহমান, কাদরায় আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কাবিলপুরে টেলিফোন প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি সমর্থক) আনোয়ার হোসেন বাহার এবং বীজবাগে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) সেলিম উদ্দিন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

৩.চাঁদপুর

চাঁদপুরে ৭ ইউপিতে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী, (৫+৫=১০)টিতে নৌকার জয়

চাঁদপুরে ৭ ইউপিতে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী, ৫টিতে নৌকার জয় চাঁদপুরে বিভিন্ন ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ীরা।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১০ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন ভোটে এবং পাঁচজন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ী হয়েছেন। তবে বাকি সাতটি ইউনিয়নে ভোট করেই জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

রোববার (২৮ নভেম্বর) দিনব্যাপী এই দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দু-একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও শেষপর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়।

গণনা শেষে রাতে বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন।

তার দেওয়া তথ্যমতে, মতলব উত্তর উপজেলার ৯ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ছয়টিতেই স্বতন্ত্র প্রাথীরা বিজয়ী হয়েছেন। তিনটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হন। এ উপজেলার বাকি চার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া মতলব দক্ষিণ উপজেলার তিন ইউনিয়নে মধ্যে দুটিতে নৌকা ও একটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। অন্য আরেকটি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হন।

নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ষাটনল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদাউস আলম সরকার। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ১৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এ কে এম শরীফ উল্লাহ সরকার পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৯৩ ভোট।

সাদুল্যাপুরে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেবায়ের আজিম স্বপন পাঠান। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫১১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান লোকমান আহমেদ মুন্সী পেয়েছেন ৪ হাজার ৮১১ ভোট।

বাগানবাড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৯৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নান্নু মিয়া পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৫১ ভোট।

কলাকান্দা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান ছোবহান সরকার সুভা। তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম কাদির পেয়েছেন ২ হাজার ৭২৬ ভোট।

গজরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শহিদউল্লাহ প্রধান। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৬১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৯৪ ভোট।

সুলতানাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক খোকন। তিনি মোট ৪৩৬৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী হাবীবা ইসলাম সিফাত পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৯ ভোট।

ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরী। তিনি পেয়েছন ৬ হাজার ৪৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৪৮ ভোট।

ফরাজীকান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করীম। তিনি মোট ১১ হাজার ৬০০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দানেশ পেয়েছেন ৪ হাজার ৬১৭

এখলাছপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম ঢালী মুন্না। তিনি মোট ৩ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৮ ভোট। ১১৯ ভোটে হেরে জসিমন উদ্দিন পুনরায় ভোট গণনার জন্য আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে, মতলব দক্ষিণ উপজেলার ১নং নায়েরগাও উত্তর ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৯৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান সেলিম পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৮০ ভোট।

মতলব দক্ষিণ উপজেলার ২নং নায়েরগাও দক্ষিণ ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুস সালাম মামুন মৃধা। তিনি মোট ৬ হাজার ৪৪৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী নাসির আহমেদ অরুন পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৯ ভোট।

উপাধি দক্ষিণ ইউনিয়নের বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোস্তফা। তিনি মোট ৫ হাজার ৩৩০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ পাটোয়ারী পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৪০ ভোট।

বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত পাঁচ চেয়ারম্যান

মোহনপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের সামছুল হক চৌধুরী বাবুল, ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নূর মোহাম্মদ, ইসলামাবাদ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন মুকুল, দূর্গাপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোকাররম হোসেন খান ওপেল, উপাধি উত্তর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শহীদ প্রধান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ী হয়েছেন।

৪.খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে নৌকা ২ স্বতন্ত্র ২ স্থগিত ৩

তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত পার্বত্য খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও মহালছড়ির সাত ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের দুইজন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দুইজন বিজয়ী হয়েছেন। তবে দীঘিনালা ও মহালছড়ি ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

রোববার (২৮ নভেম্বর) দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে স্ব-স্ব রিটার্নিং অফিসাররা তাদের নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বোয়ালখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. মোস্তফাকে চার হাজার ভোটে পরাজিত করে হ্যাট্রিক জয় পেয়েছেন জেএসএস-এমএন লারমা সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী চয়ন বিকাশ চাকমা। তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ১৪৫ ভোট।

মহালছড়ি সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রতন কুমার শীল ৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী লাব্রেচাই মারমা পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৬ ভোট। ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রুপেন্দু দেওয়ান ইতোপূর্বে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মুবাছড়ি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) বাপ্পী খীসা ৩ হাজার ৯৫২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা) পেয়েছেন ৮৫৬ ভোট।

সহিংসতা ও জাল ভোটের ঘটনায় দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের একটি কেন্দ্র, কবাখালী ইউনিয়নের একটি কেন্দ্র ও জাল ভোটের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মহালছড়ির মাইসছড়ি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করায় সেখানে চূড়ান্ত ভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহেনসা মোহাম্মদ লতিফুল খায়ের বলেন, মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা এবং জাল ভোটের অভিযোগে দুই ইউনিয়নের চারটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ চারটি কেন্দ্রে নির্বাচনের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

৫.রাঙ্গামাটি:

রাঙ্গামাটি জেলার ৩টি উপজেলার ৮ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ৪ টিতে বিনাপ্রতিদ্বন্ধতা এবং আজ নির্বাচনে ৩টি আওয়ামী লীগ ও ১টি স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় লাভ।

৬.ফেনী

ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম দুই উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ফল ঘোষণা করা হয়।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, পরশুরামে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে মির্জানগরে বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থীর নুরুজ্জামান ভুট্টু। তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৪৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী আকবর ভূঞা আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬৪ ভোট।

বক্স মাহমুদ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঞা ৮ হাজার ৯১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকির হোসেন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৯৫৩ ভোট।

এছাড়া চিথলিয়া ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত জসিম উদ্দিন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে মহামায়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত শাহজাহান মিনু, রাধানগর ইউনিয়নে মোশারাফ হোসেন, ঘোপাল ইউনিয়নে মোহাম্মদ সেলিম নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় পাঠাননগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল হায়দার চৌধুরী জুয়েল ও শুভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুর রহমান মজনু নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুজনই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘ছাগলনাইয়া উপজেলায় দুজন চেয়ারম্যান প্রার্থী, তিনজন সাধারণ সদস্য ও একজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ী হয়েছে।

এছাড়া চেয়ারম্যান পদে একজন, পাঁচজন সাধারণ সদস্য ও চারজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে একক প্রার্থী থাকায় তাদের বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।’

৭.লক্ষ্মীপুর:

৩য় ধাপে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলার ২০ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১২টিতে নৌকা প্রার্থী ও ৮টি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে।

রোববার (২৮ নভেম্বর) রাতে জেলা নির্বাচন অফিস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

রায়পুর উপজেলার ১নং উত্তর চর আবাবিল- জাফর উল্লাহ দুলাল হাওলাদার (বিদ্রোহী প্রার্থী), ২নং উত্তর চরবংশী-আবুল হোসেন হাওলাদার (নৌকা) বিনা প্রতিদন্ধিতায়, ৩নং চরমোহনা- শফিক পাঠান (নৌকা মার্কা) বিনা প্রতিদন্ধিতায়, ৪নং সোনাপুর ইউনিয়ন- ইউছুপ জালাল কিসমত (নৌকা), ৫নং চরপাতা ইউনিয়ন-সুলতান মামুনুর রশীদ (নৌকা), ৬নং কেরোয়া ইউনিয়ন- শাহিনুর বেগম রেখা, ৭নং বামনী-তাফাজ্জল হোসেন (নৌকা), ৮নং দক্ষিন চরবংশী- রশিদ মোল্লা (বিদ্রোহী), ৯নং দক্ষিন চর আবাবিল ইউনিয়ন- হাওলাদার নূরে আলম জিকু (নৌকা), ১০নং রায়পুর ইউনিয়ন- শফিউল আলম সুমন চৌধুরী (নৌকা) বিনা প্রতিদন্ধিতায় এবং রামগঞ্জ উপজেলায় ১০ ইউপির মধ্যে ৬টিতেই বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) ও ৪টিতে নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে।

এর এর মধ্যে কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন নাসির উদ্দীন খাঁন (নৌকা), নোয়াগাঁও ইউনিয়ন সোহেল পাটোয়ারী (নৌকা), ভাদুর ইউনিয়ন নৌকার প্রার্থী জাবেদ হোসেন (নৌকা), ইছাপুর ইউনিয়ন আমির হোসেন খাঁন (স্বতন্ত্র), চন্ডীপুর ইউনিয়নে সুমন হোসেন (স্বতন্ত্র), লামচর ইউনিয়নে ফয়েজ উল্যাহ জিসান স্বতন্ত্র, করপাড়া ইউনিয়নে জাহিদ হোসেন মির্জা (স্বতন্ত্র), দরবেশপুর ইউনিয়ন নৌকার মিজানুর রহমান (নৌকা), ভোলাকোট ইউনিয়ন দেলোয়ার হোসেন দেলু (স্বতন্ত্র), ভাটরা ইউনিয়ন শেখ সামছুল আলম বুলবুল (স্বতন্ত্র) বেসরকারী ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছে।

৮.চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ২৬ ইউপিতে আ.লীগ ১৯, স্বতন্ত্র ৭

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ২ উপজেলা হাটহাজারী ও রাঙ্গুনিয়ার ২৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ১০টি ও নির্বাচিত ৯টিসহ মোট ১৯টিতে ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করেছে। এছাড়া বাকি ৭টি ইউপিতে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্ররা।

রোববার (২৮ নভেম্বর) রাতে ভোট গণনা শেষে হাটহাজারী ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ইউপি নির্বাচনের সমন্বয়ক শাহিদুল ইসলাম ও ইফতেখার ইউনুস পৃথকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

হাটহাজারী উপজেলা:

এ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে ২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া বাকি ১১ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬ টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও ৫টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

বিনা প্রাতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন, গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নে মুজিবুর রহমান এবং মেখল ইউনিয়নে সালাউদ্দিন চৌধুরী।

এছাড়া নির্বাচিত হওয়া প্রার্থীরা হলেন, ধলই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল মনসুর, মির্জাপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আখতার হোসেন, নাঙ্গলমোরা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুনুর রশীদ, ছিপাতলী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আহসান লাভু, গড়দুয়ারা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সরওয়ার মোর্শেদ তালুকদার, উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহেদুল আলম, ফতেপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন, দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী সরওয়ার চৌধুরী, চিকনদন্ডী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসান জামান বাচ্চু, শিকারপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল খালেক, বুড়িশ্চর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র মো. জাহেদ হোসেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা:

এ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের ৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া বাকি ৫টি ইউনিয়নের ৩ টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং ২ টি স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেছেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন, পারুয়া ইউনিয়নে একতেহার হোসেন, পোমরা ইউনিয়নে আলহাজ্ব জহির আহম্মদ চৌধুরী, সরফভাটায় ইউনিয়নে শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, শিলক ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম তালুকদার, পদুয়ায় ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু জাফর ও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে আলহাজ্ব ইদ্রিস আজগর, রাজানগর ইউনিয়নে ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার ও কোদলা ইউনিয়নে আবদুল কাইয়ুম।

নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন, হোছনাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দানু মিয়া, বেতাগী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিউল আলম, ইসলামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলহাজ্ব আহমেদ ছৈয়দ তালুকদার ও লালানগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম তালুকদার।

একইদিন রাউজান উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদের সবকটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় কোনও ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

৯.কক্সবাজার

কক্সবাজারে ১৬ ইউপির ৬টিতে নৌকার জয় কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়া ও উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের ৬ জন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ৩ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতাকারি ৬ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও পেকুয়া উপজেলার একটি ইউনিয়নে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলার ১০ ইউপি নির্বাচনে ৫টিতে নৌকা, ৩টিতে স্বতন্ত্র ও ২টিতে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

অপরদিকে পেকুয়া উপজেলার ৬ ইউপিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী একজন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী একজন ও স্বতন্ত্র ৩ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

রবিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই দুই উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলে।

নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন পশ্চিম বড় ভেওলাতে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (নৌকা), বদরখালীতে নূরে হোছাইন আরিফ (নৌকা), লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে খ ম আওরঙ্গজেব বুলেট (নৌকা), ঢেমুশিয়ায় মঈনুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), পূর্ব বড় ভেওলায় ফারহানা আফরিন মুন্না (নৌকা), শাহারবিল ইউনিয়নে নবী হোছাইন চৌধুরী (স্বতন্ত্র), কাকারা ইউনিয়নে মো. শাহাবউদ্দিন (বিদ্রোহী), কোনাখালীতে দিদারুল হক সিকদার (বিদ্রোহী), ভেওলা মানিকচরে জাহাঙ্গীর আলম (স্বতন্ত্র) ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ইকবাল (স্বতন্ত্র)।

অপরদিকে পেকুয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পেকুয়া সদর ইউনিয়নে বাহাদুর শাহ (স্বতন্ত্র), রাজাখালী ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম সিকদার (নৌকা), উজানটিয়ায় তোফাজ্জল করিম (বিদ্রোহী), শিলখালী ইউনিয়নে এসএম কামাল হোছাইন (স্বতন্ত্র) ও মগনামায় মো. ইউনুছ চৌধুরী (স্বতন্ত্র)।

এদিকে বারবাকিয়া ইউনিয়নে একটি ভোট কেন্দ্র স্থগিত থাকায় এই ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

১০.বান্দরবান

বান্দরবানে ৮ ইউপির ৫টি নৌকা, ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী

তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত বান্দরবানের ২টি উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫টিতে নৌকা ও ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। রোববার (২৮ নভেম্বর) রাতে ভোট গণনা শেষে স্ব-স্ব উপজেলা রিটার্নিং অফিসাররা এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

বান্দরবানে ৮ ইউপির ৫টি নৌকা, ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী এন এ জাকির

বিজয়ীরা হলেন- আলীকদম সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের নাছির উদ্দিন, ২নং চৈক্ষং ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল আবেদীন, ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কফিল উদ্দিন, ৪নং কুরুকপাতা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের ক্রাতপুং ম্রো।

অপরদিকে, রুমা উপজেলার ৪ ইউনিয়নের বিজয়ীরা হলেন- ১নং পাইন্দু ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা, ২নং রুমা সদরে নৌকা প্রতীক নিয়ে শৈমং মারমা (শৈবং) ও ৪নং গ্যালেঙ্গা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের মেনরত ম্রো এবং ৩নং রেমাক্রি প্রশংসা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের জিরা বম।

রোববার রাতে দুই উপজেলার স্ব-স্ব রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে প্রার্থীদের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কোনো রকম সহিংসতা ছাড়াই রোববার সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরামহীনভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে চলে ভোটগ্রহণ । শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৭ জন আনসার ৫ জন পুলিশ সদস্য এবং বিজিবি ও স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করে। এ ছাড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করে।

অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবারের নির্বাচনে পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে জালভোটের অভিযোগে তোলে সাধারণ সদস্য প্রার্থীরা।

১১.ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮ ইউপিতে আ.লীগের ও ১৫টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত
শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভোটগ্রহণ হয়। ছবি : এনটিভি
তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিন উপজেলার ৩৩ ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে। আঠারো (১৮) ইউপিতে নৌকা প্রতীকের এবং ১৫টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

সরাইল উপজেলার নয় ইউনিয়নের ছয়টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হন। অন্যদিকে, নৌকার জয় হয় কেবল দুটি ইউনিয়নে আর একটিতে জয় পায় জাতীয় পার্টি।

নির্বাচিতরা হলেন—সরাইল সদরে আব্দুল জব্বার (মোটরসাইকেল), পানিশ্বরে মোস্তাফিজুর রহমান মিস্টার (মোটরসাইকেল), পাকশিমুলে আবু কাউছার (আনারস), অরুয়াইলে মোশাররফ হোসেন (লাঙ্গল), চুন্টায় হুমায়ুন কবির (আনারস), কালিগচ্ছে সাঈদ হোসেন (মোটরসাইকেল), নোয়াগাঁওয়ে মনসুর আহমেদ (চশমা), শাহবাজপুরে খাইরুল হুদা চৌধুরী বাদল (নৌকা) ও শাহজাদাপুরে মোছাম্মত আসমা আক্তার (নৌকা)।

নবীনগর উপজেলার ১৩ ইউপিতে আট ইউপিতে স্বতন্ত্র এবং পাঁচ ইউপিতে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তবে বড়িকান্দি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মো. লুৎফর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় রোববার ১২ ইউপিতে ভোট হয়। এর মধ্যে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সাত জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। চার জন নৌকার প্রার্থী ভোটে এবং একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। নির্বাচিতরা হলেন, শ্যামগ্রাম ইউনিয়নে শামসুজ্জামান খান (নৌকা), বীরগাঁও ইউনিয়নে আনোয়ার হোসেন (নৌকা), ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে মো. আবু মুছা (নৌকা), সাতমোড়া ইউনিয়নে জসীম উদ্দিন আহম্মদ (নৌকা), রতনপুর ইউনিয়নে গোলাম মোস্তফা মারুফ (আনারস), শ্রীরামপুর ইউনিয়নে জাকি উদ্দিন (ঘোড়া), রসুল্লাবাদ ইউনিয়নে খন্দকার মনির হোসেন (আনারস), নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নে নূর আলম (আনারস), সলিমগঞ্জ ইউনিয়নে আশিকুর রহমান সোহেল (আনারস), লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নে মো. জাহাঙ্গীর আলম (ঘোড়া), জিনদপুর ইউনিয়নে রবিউল (আনারস) ও নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চশমা প্রতীকে নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ১১ ইউপির বড়জোর ভোট জয়ের দিন। তবে, ভোটাভুটি গ্রহণযোগ্য বিরোধিতায় আট জন ভোটা প্রার্থী নির্বাচনে তিন ইউটিউব পদের ভোটের ভোট হয়। আপনার জয় জয় পায় নৌকা। একাডেমী আলাদাভাবে ঠিকারা প্রথম বাঞ্ছারামপুর উত্তরে বহু রহিম (নৌকা), ফরদাবাদে মো. রশিদুল ইসলাম (নৌকা) ও তেজখালী ইউপিতে এ। কে. এম. আপনারুল বের (নৌকা)।

২৮ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ তিন শান্তিপূর্ণভাবে ৩৩ ইউপি নির্বাচন করতে হয়। এর মধ্যে নবনগরের বীরগাঁও ও সরাইল সদরে ইভি ভোট গ্রহণ করা হয়