[gtranslate]

চট্টগ্রামে ১৬০ ইউপির মধ্যে আ. লীগ, ১০৯, বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র, অন্যান্য-৪৩,


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৩, ২০২১, ৩:১৩ অপরাহ্ণ / ৩৪৫
চট্টগ্রামে ১৬০ ইউপির মধ্যে আ. লীগ, ১০৯, বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র, অন্যান্য-৪৩,

 

নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম: দ্বিতীয় ধাপে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার ২৪টি উপজেলার ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১৫২টিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ১০৯টিতে, বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র, অন্যান্য-৪৩ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ৮টি স্থগিত রাখা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরে দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩টিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান প্রার্থী বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বিজয়ীদের নাম নিশ্চিত করেছেন।

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন- কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নে ইউছুফ আলী মিয়া (আওয়ামী লীগ), চরলরেন্স ইউনিয়নে একেএম নুরুল আমিন (আওয়ামী লীগ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), চরকাদিরা ইউনিয়নে মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) ও রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নে তাওহিদুল ইসলাম সুমন (আওয়ামী লীগ)। এর মধ্যে ইউছুফ আলী মিয়া, খালেদ সাইফুল্লাহ, তাওহিদুল ইসলাম সুমন বর্তমান চেয়ারম্যান। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত একেএম নুরুল আমিন কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর কাদিরাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল আমিন সাগরের ভরাডুবি হয়েছে। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। সেখানে হাতপাখা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন খালেদ সাইফুল্যা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন রাজন রাজু (মোটরসাইকেল)।

চাঁদপুর

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয় হয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নে বেলা‌য়েত হোসেন গাজী বিল্লাল, মৈশাদী‌ ইউ‌নিয়‌নে মো. নুরুল ইসলাম, আ‌শিকা‌টি ইউ‌নিয়‌নে মো. বিল্লাল হো‌সেন, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে নাছির উদ্দিন খান, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে মাসুদুর রহমান নান্টু, বালিয়া ইউনিয়নে রফিকুল্লাহ পাটওয়ারী, চান্দ্রা ইউ‌নিয়‌নে খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারী বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়াও তরপুরচন্ডী ইউনিয়নে ইমাম হাসান রাসেল ও রামপুর ইউনিয়নে আল মামুন পাটওয়ারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নোয়াখালী

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ছয়টিতে আওয়ামী লীগ এবং আটটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান।

উপজেলার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজীপুর ইউনিয়নে শাহ মো. আজিম, দূর্গাপুর ইউনিয়নে আবেদ সাইফুল কালাম, নরোত্তমপুর ইউনিয়নে মেহেদী হাসান টিপু, আলাইয়ারপুর ইউনিয়নে গিয়াস উদ্দিন, রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম ও কাদিরপুর ইউনিয়নে মো. ছালেহ উদ্দিন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছয়ানী ইউনিয়নে ওহিদুজ্জামান, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে শাহিদুর রহমান শাহিন, রসুলপুর ইউনিয়নে আব্দুর রশিদ, কুতুবপুর ইউনিয়নে কামাল হোসেন, একলাশপুর ইউনিয়নে সাহেদুর রহমান, শরীফপুর ইউনিয়নে নোমান সিদ্দিকী আমানউল্ল্যাপুর ইউনিয়নে মো. বাহারুল আলম ও গোপালপুর ইউনিয়নে মোহাম্মদ মোশেরাফ হোসেন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলার দশ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকার আট, বিদ্রোহী এক ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) দিনভর নির্বাচন শেষে রিটার্নিং অফিসাররা বেসরকারিভাবে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মো. পেয়ার আহাম্মদ মজুমদার, আমতলীতে মো. আবদুল গণি, গোমতিতে মো. তফাজ্জল হোসেন, বেলছড়িতে রহমত উল্লাহ, মাটিরাঙায় হেমেন্দ্র ত্রিপুরা নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া উপজেলার তবলছড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কাশেম ভূইয়া, বড়নালে বিদ্রোহী প্রার্থী মো. ইলিয়াছ নির্বাচিত হয়েছেন।

অপরদিকে, গুইমারা উপজেলার গুইমারা সদরে নির্মল নারায়ন ত্রিপুরা, সিন্ধুকছড়িতে রেদাক মারমা ও হাফছড়িতে মংশে চৌধূরী নির্বাচিত হয়েছেন। তারা সবাই নৌকার প্রার্থী ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দ্বিতীয় ধাপে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নার্সিঙর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মধ্যে ৭টিতেই স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়। ভোট-গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোট-গ্রহণ। এ নির্বাচনে ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বাকি ৬টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয় পেয়েছে।

মধ্যরাতে এ ফলাফল প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বচন সমন্বয়কারী হালিয়া খাতুন। নার্সিঙর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এ ফলাফল নিশ্চিত করেন।

বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা ফলাফলে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নে স্বতন্ত্রপ্রার্থী ইকবাল চৌধুরী ‘আনারস’ প্রতীকে ৯ হাজার ৪৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এটিএম মোজাম্মেল সরকার ‘নৌকা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৩ ভোট।

নাসিরনগর সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পুতুল রাণী দাস ‘নৌকা’ প্রতীকে ৪ হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্রপ্রার্থী রফিজ মিয়া ‘চশমা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৭ ভোট।

কুণ্ডা ইউনিয়নের স্বতন্ত্রপ্রার্থী নাছির উদ্দিন ভূঞা ‘আনারস’ প্রতীকে ৫ হাজার ৯৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক স্বতন্ত্রপ্রার্থী ওমরাও খান ‘চশমা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫১১ ভোট।

ফান্দাউক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফারুকুজ্জামান ফারুক ‘নৌকা’ প্রতীকে ৬ হাজার ১০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্রপ্রার্থী সফিকুল ইসলাম ‘ঘোড়া’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৮০৮ ভোট।

হরিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্রপ্রার্থী ফারুক মিয়া ‘আনারস’ প্রতীকে ৬ হাজার ১৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক স্বতন্ত্রপ্রার্থী জামাল মিয়া ‘চশমা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১৬৯ ভোট।

গোয়ালনগর ইউনিয়নের স্বতন্ত্রপ্রার্থী আজহারুল হক চৌধুরী ‘ঘোড়া’ প্রতীকে ৪ হাজার ১৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কিরণ মিয়া ‘নৌকা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১২১ ভোট।

ভলাকুট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রুবেল মিয়া ‘নৌকা’ প্রতীকে ৮ হাজার ৭৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্রপ্রার্থী আরাফাত আলী ‘আনারস’ প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৩৩ ভোট।

চাপরতলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনসুর আলী ভূঁইয়া ‘নৌকা’ প্রতীকে ২ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্রপ্রার্থী আব্দুল হামিদ ‘চশমা’ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯০৭ ভোট।

পূর্বভাগ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আক্তার মিয়া ‘নৌকা’ প্রতীকে ৪ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্রপ্রার্থী মোহাম্মদ হোসেন ‘আনারস’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ ভোট।

গোকর্ণ ইউনিয়নে স্বতন্ত্রপ্রার্থী সৈয়দ মো. শাহীন ‘ঘোড়া’ প্রতীকে ৫ হাজার ৫১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছোয়াব মোহাম্মদ হৃতুল ‘নৌকা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৯৩ ভোট।

ধরমন্ডল ইউনিয়নে স্বতন্ত্রপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম ‘আনারস’ প্রতীকে ৬ হাজার ৭৯৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ‘নৌকা’ প্রতীকে বাহার উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ৪ হাজার ২৮০ ভোট।

চাতলপাড় ইউনিয়ন স্বতন্ত্রপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম ‘চশমা’ প্রতীকে ১১ হাজার ৩৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ আব্দুল আহাদ ‘নৌকা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৩২৯ ভোট।

গুনিয়াউক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জিতু মিয়া ‘নৌকা’ প্রতীকে ৩ হাজার ৬৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম স্বতন্ত্রপ্রার্থী শামসুল হক ‘আনার’ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭৯ ভোট।

রাঙ্গামাটি

রাঙামাটির তিন উপজেলার ১০ ইউপির পাঁচটিত নৌকা ও পাঁচটিত স্বতন্ত্রপ্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

২ টি স্থগিত ঘোষণা করা।

জানা গেছে, বিলাইছড়ি উপজেলার তিন ইউপির দুটিতে নৌকা ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

তারা হলেন, কেংড়াছড়িতে রামা চরন মারমা (রাসেল মার্মা) (নৌকা) ও ফারুয়া ইউপিতে বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা (নৌকা)। এছাড়া বিলাইছড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুনীল কান্তি দেওয়ান বিজয়ী হয়েছেন।

কাপ্তাই উপজেলার তিন ইউপির মধ্যে কাপ্তাই সদরে আব্দুল লতিফ (নৌকা) ও ওয়াগ্গায় চিনঞ্জিত তঞ্চঙ্গ্যা (নৌকা) নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া রাইখালীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মংক্য মারমা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

বরকল উপজেলার চার ইউপির মধ্যে সদরে প্রভাত কুমার চাকমা (নৌকা) নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সুবলংয়ে তরুণ জ্যোতি চাকমা, বড় হরিণায় নীলাময় চাকমা এবং আইমাছড়ায় সুবিমল চাকমা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

রাঙামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কক্সবাজার

দ্বিতীয় ধাপে কক্সবাজার জেলার ২১ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ৯টি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। বাকি দুটিতে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া জেলার সবকটি ইউপিতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলেও কয়েকটি ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আক্তারুজ্জামান (৩৫) নামে একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া কমপক্ষে তিন পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

কক্সবাজার সদর

কক্সবাজার সদর উপজেলায় পাঁচ ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে নৌকা একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। স্থগিত রয়েছে একটিতে। সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নে টিপু সুলতান (নৌকা), ভারুয়াখালীতে কামাল উদ্দিন (নৌকা), চৌফলদন্ডীতে মুজিবুর রহমান মুজিব (নৌকা) ও পিএমখালীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল্লাহ (আনারস) জয়লাভ করেছেন। এছাড়া খুরুশকুল ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।

উখিয়া

উখিয়ার পাঁচ ইউনিয়নের তিনটিতে নৌকা ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজা পালংয়ে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী (নৌকা), রত্না পালংয়ে নুরুল হুদা (নৌকা), পালংখালীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম গফুর উদ্দীন (ঘোড়া) ও জালিয়া পালংয়ে এস এম ছৈয়দ আলম (নৌকা) জয় পেয়েছেন। এ ছাড়া হলদিয়া পালংয়ে একটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত থাকার কারণে ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। তবে এই ইউনিয়নে এগিয়ে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরুল কায়েস চৌধুরী (ঘোড়া)।

রামু

রামুতে কয়েকটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা ভোটারদের মাঝে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। বৃহস্পতিবার রাতে রামু উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলাম। ফলাফলে জানা গেছে, এ উপজেলার ১১ ইউনিয়নের মাত্র চারটিতে জয় পেয়েছে নৌকার প্রার্থীরা। বাকি সাতটিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

এর মধ্যে, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো (আনারস), ঈদগড়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো (আনারস), গর্জনিয়ায় সভাপতি মুজিবুর রহমান বাবুল (নৌকা), কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাঈল নোমান (আনারস), কাউয়ারখোপে শামসুল আলম (মোটরসাইকেল), জোয়ারিয়ানালায় কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স (নৌকা), রাজারকুলে বর্তমান চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান (ঘোড়া), দক্ষিণ মিঠাছড়িতে খোদেজা বেগম রীনা (নৌকা), চাকমারকুলে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার (নৌকা), রশিদনগরে বর্তমান চেয়ারম্যান এম ডি শাহ আলম (আনারস) ও নিয়াপালং ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হক (চশমা) জয়লাভ করেছেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের মাঠে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন।’

বান্দরবা‌ন

দ্বিতীয় ধা‌পে বান্দরবা‌নের লামা ও নাইক্ষ‌্যংছ‌ড়ির ৯ ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের ফলাফলে এ ৯ ইউনিয়নের সবকটিতেই চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রা‌তে এ ফলাফল ঘোষণা ক‌রেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রেজাউল ক‌রিম। তি‌নি জানান, লামা উপ‌জেলার সাত ও নাইক্ষ‌্যংছ‌ড়ির দু‌টি ইউনিয়‌নের সবক‌টি‌তেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন।

তারা হ‌লেন, লামার গজালিয়ায় বাথোয়াইচিং মার্মা, সদরে মিন্টু কুমার সেন, ফাঁসিয়াখালীতে নূর হোসাইন, সরইয়ে ইদ্রিস কোম্পানি, আজিজনগরে মো. জসিম উদ্দিন কোং, ফাইতংয়ে মোহাম্মদ ওমর ফারুক, রুপসীপাড়ায় ছাচিংপ্রু মার্মা এবং নাইক্ষ‌্যংছ‌ড়ির বাইশারী‌তে মো. আলম ও দোছ‌ড়ি‌তে মোহাম্মদ ইমরান‌।

কুমিল্লা

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে কুমিল্লার মেঘনা ও তিতাস উপজেলায় ২২ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে ১৭জন ও পাঁচটিতে স্বতন্ত্র নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) রাতে কুমিল্লা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মেঘনা উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান (আনারস), মানিকারচর ইউনিয়নে মো. জাকির হোসেন (নৌকা), চালিভাংগা ইউনিয়নে হুমায়ুন কবির (আনারস), ভাওরখোলা ইউনিয়নে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (ঘোড়া), লুটেরচর ইউনিয়নের মো. সানাউল্লাহ সিকদার (নৌকা), গোবিন্দপুর ইউনিয়নে মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন তপন (নৌকা), বড়কান্দা ইউনিয়নে ফারুক হোসেন (ঘোড়া) ও চন্দনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আহসান উল্লাহ মাস্টার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।

তিতাস উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নে আহসান উল্লাহ (নৌকা), সাতানী ইউনিয়নে মো. শামছুল হক সরকার (নৌকা), জগৎপুর ইউনিয়নে মজিবুর রহমান (নৌকা), বলরামপুর ইউনিয়নে মো. নুর নবী (নৌকা), কলাকান্দি ইউনিয়নে ইব্রাহীম (আনারস), ভিটিকান্দি ইউনিয়নে বাবুল আহমেদ (নৌকা), মজিদপুর ইউনিয়নে মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), জিয়ারকান্দি ইউনিয়নে মোহাম্মদ আলী আশরাফ (নৌকা), নারান্দিয়া ইউনিয়নে মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া (নৌকা) ও সদর কড়িকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম মুরাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন

এদিকে দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচনে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

চট্টগ্রাম

কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় ধাপে চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ড-মীরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলায় ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের ৩১ জন এবং স্বতন্ত্র ৫জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এরমধ্যে গত বৃস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সরাসরি ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগের তিনজন, মীরসরাইয়ে আওয়ামী লীগের তিনজন এবং ফটিকছড়িতে ১১ (আওয়ামী লীগের ৬ জন ও স্বতন্ত্র ৫জন) জন। নির্বাচনের আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন মীরসরাইয়ে আওয়ামী লীগের ১৩ জন, সীতাকুণ্ডের আওয়ামী লীগের ৫ জন এবং ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের ১ জন।

ফটিকছড়ি উপজেলা: ফটিকছড়ির ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হয়েছে ১১ ইউনিয়নে। আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বর্তমান চেয়ারম্যান ওহিদুল আলম। লেলাং ও বখতপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচন হাই কোর্ট স্থগিত করায় এই দুই ইউনিয়নে মেম্বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাতে এই ১১ ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের ৬ জন এবং স্বতন্ত্র ৫জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন এবং এক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১২টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফটিকছড়ির বাগান বাজার ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী প্রার্থী) ডা. শাহাদাত হোসেন সাজু ৯ হাজার ৯৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. রুস্তম আলী পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৯৪ ভোট। দাতঁমারা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান জানে আলম ১০ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী প্রার্থী) নুরুল আলম পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৯১ ভোট।

নারায়ণহাট ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী (জাসদ নেতা) আবু জাফর মাহামুদ সিকদার ৮ হাজার ৫৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. হারুন রশীদ পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৬২ ভোট। হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী ৭ হাজার ৩৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জুলফিকার আলী ভুট্টো পেয়েছেন ৪ হাজার ৯০৬ ভোট। পাইন্দং ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম ছরওয়ার হোসেন স্বপন পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শাহ আলম সিকদার পেয়েছেন ২ হাজার ৬৪৩ ভোট।

কাঞ্চন নগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ দিদারুল আলম ৬ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রশীদ উদ্দীন চৌধুরী কাতেব পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৮৭ ভোট। সুন্দরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরী ৭ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহীদুল আজম পেয়েছেন ৪ হাজার ১৪২ ভোট। রোসাংগীরি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সোয়েব আল সালেহীন ৪ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী প্রার্থী) মো. তারেক নেওয়াজ পেয়েছেন ১ হাজার ৬৩৮ ভোট।

সমিতিরহাট ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হারুন অর রশিদ ইমন ৭ হাজার ৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নাছির উদ্দীন পেয়েছেন ১ হাজার ৮১২ ভোট। ধর্মপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী মাহমুদুল হক ৯ হাজার ৮৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মোরশেদুল আলম পেয়েছেন ১৪০ ভোট। জাফতনগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী প্রার্থী) জিয়া উদ্দিন জিয়া ৩ হাজার ৬৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল হালিম পেয়েছেন ১ হাজার ৯৫০ ভোট। আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন অহিদুল আলম জুয়েল। অন্যদিকে লেলাং ও বখতপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর রিট আপিল জটিলতায় চেয়ারম্যান পদে ৬ সপ্তাহ হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত রেখেছেন। তাই সেখানে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

মীরসরাই উপজেলা : মীরসরাই উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে গত বৃস্পতিবারের ভোটের দিন শুধুমাত্র ৩টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়েছে। অপর ১৩টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হয়েছেন আগেই। তবে গত বৃহস্পতিবার ১৬ ইউপিতে মেম্বার পদে নির্বাচন হয়েছে। যে তিন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন তারা হলেন, ৬নং ইছাখালী ইউনিয়নে নৌকার মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মোস্কফা ৯ হাজার ৫১০ ভোট পেয়েছেন। অপর বিদ্রোহী প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুল মোস্তফা (আনারস) পেয়েছেন ৩ হাজার ৩১৯ ভোট। ৯নং মীরসরাই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শামছুল আলম ৭ হাজার ৩৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন মো. সাইফুল্লাহ (ঘোড়া) ৬২ ভোট, খায়রুল বাশার ফারুক (আনারস) ৪৮ ভোট ও আজম উদ্দিন (চশমা) ৪১ ভোট। ১২নং খৈয়াছরা ইউনিয়নে বিজয়ী নৌকা প্রতীকের মাহফুজুল হক জুনু পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৩৯ ভোট। স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী জাহেদ ইকবাল চৌধুরী (ঘোড়া) পেয়েছেন ৭৯২ ভোট, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নুর নবী (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৬১২ ভোট। এছাড়া উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের প্রতি ইউনিয়নে ৯জন করে ১৪৪ জন ইউপি সদস্য ও ৪৮ জন মহিলা সদস্যসহ মোট ১৯২ জন ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

১৩ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হয়েছেন।

বিজয়ীরা হলেন, যথাক্রমে ১নং করেরহাট ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী এনায়েত হোসেন নয়ন, ২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নে সোনা মিয়া সওদাগর, ৩নং জোরারগঞ্জে মাস্টার রেজাউল করিম, ৪নং ধুম ইউনিয়নে একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, ৫নং ওচমানপুর ইউনিয়নে মফিজুল হক মাস্টার, ৭নং কাটাছরা ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ুন, ৮নং দুর্গাপুরে আবু ছুফিয়ান বিপ্লব, ১০নং মিঠানালা ইউনিয়নে এডভোকেট আবুল কাশেম, ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর হোসাইন মাস্টার, ১৩নং মায়ানী ইউনিয়নে কবির আহমদ নিজামী, ১৪নং হাইতকান্দি ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে ফজলুল কবির ফিরোজ ও ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়নে কামরুল হায়দার চৌধুরী।

সীতাকুণ্ড উপজেলা : সীতাকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে ৩টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপুল ভোটে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। একটি ইউনিয়নে ২টি কেন্দ্র স্থগিত হওয়ায় সেখানে চেয়ারম্যান নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। এই ইউনিয়নে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২নং বারৈয়াঢালা ইউপিতে রেহান উদ্দিন রেহান (নৌকা) ১২ হাজার ৫৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু জাফর (আনারস) ২ হাজার ১৫৩ ভোট পেয়েছেন।

৫নং বাড়বকুণ্ডে ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজী (নৌকা) ৭ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ.জে.এম বেলাল উদ্দিন (লাঙ্গল) ৪ হাজার ২৭৪ এবং জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া (আনারস) ১৪৩ ভোট পেয়েছেন এবং ১০নং সলিমপুরে সালাউদ্দিন আজিজ (নৌকা) ১৬ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর গফুর (আনারস) ৩ হাজার ৯৫ ভোট পেয়েছেন।

এছাড়া স্থগিত ৬নং বাঁশবাড়িয়া ইউপিতে ৭টি কেন্দ্রে শওকত আলী জাহাঙ্গীর (নৌকা) ৬ হাজার ৪২৬, আরিফুল আলম রাজু (আনারস) ২ হাজার ৯৫৭ পেয়েছেন। সেখানে ২টি কেন্দ্র স্থগিত। ওই দুই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪ হাজার ৫০০টি। এর আগে ৫টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বতায় বিজয়ী হন। তারা হলেন- ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়নে তাজুল ইসলাম নিজামী, ৪নং মুরাদপুরে এস এম রেজাউল করিম বাহার, ৭ নং কুমিরায় মোরশেদ হোসেন চৌধুরী, ৮নং সোনাইছড়িতে মনির আহমেদ এবং ৯নং ভাটিয়ারীতে মো. নাজীম উদ্দিন।

ফেনী

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টির নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৩ প্রার্থীই নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচিতরা হলেন- দরবারপুর ইউনিয়নে নিজাম উদ্দিন মজুমদার (৬,২০২), আমজাদহাট ইউনিয়নে মীর হোসেন (৬,৮৩৭) ও জিএমহাট ইউনিয়নে সৈয়দ জাকির হোসেন (৪,৩৬৯)।

এর আগে বাকি ৩টি ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন- ফুলগাজী সদর ইউনিয়নে মো. সেলিম, আনন্দপুর ইউনিয়নে হারুন মজুমদার ও মুন্সিরহাট ইউনিয়নে ভিপি নুরুল আমিন।