[gtranslate]

কবি সাহিত্যিক জুবাইদা গুলশান আরা হেনা এর বাছাইকৃত লেখা কবিতা


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ৫, ২০২৩, ৬:০১ পূর্বাহ্ণ / ৪৭
কবি সাহিত্যিক জুবাইদা গুলশান আরা হেনা এর বাছাইকৃত লেখা কবিতা

 

হেরে গেলো জীবন বেঁচে থাকলো প্রেম

      জুবাইদা গুলশান আরা হেনা 

শিরী – ফরহাদ, লাইলী- মজনু, চণ্ডীদাস – রজকিনী, ইউসুফ – জুলেখা’র সাথে আরও একটা প্রেম ইতিহাস গড়লো ঐন্দ্রিলা আর সব্যসাচী।

এ এক অন্যরকম প্রেম! অন্যরকম ভালোবাসা! যেখানে ভাষা নীরব। আইন কানুন, রীতি – নীতি, সমাজ- সংসার সব কিছুর সাথে মিলিয়ে নিয়ে নিজের প্রেমিকার নিথর দেহের সাথে মালা বদল করে সিঁদুর পরিয়ে স্ত্রী’র মর্যাদা দিয়ে প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখলেন সব্যসাচী।

ফেসবুকের সস্তা আর মিথ্যে প্রেমের জোয়ারে যখন সমাজ হাবুডুবু খাচ্ছিলো ঠিক সেই মুহূর্তেই ঐন্দ্রিলা – সব্যসাচী প্রেম শিখিয়ে দিলো। মাত্র চব্বিশ বছর বয়সের উচ্ছল তরুণ মিস্টি মেয়েটার চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দুইবার করে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে তৃতীয়বার হেরে গেলেন। মানুষ মরে যাবে আজ অথবা কাল। ঐন্দ্রিলা শর্মা শেষ বিদায়ে যে ভালোবাসাটুকু সাথে নিয়ে গেলেন ক’জনের ভাগ্যে জোটে! একজনের আবেগে একটা মজবুত প্রেম হয়না কখনো! ওরা দু’জনে দু’জনকে সব কিছু উজাড় করে ভালোবেসেছিলো। পাষাণ দেবতা এই সুখটুকু সইতে পারেনি! এ কেমন প্রেম! এ কেমন ভালোবাসা! ঐন্দ্রিলা ওপারে ভালো থেক। সব্যসাচীকে শোক বইতে পারার সামর্থ দিন মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সেই প্রার্থনা। সব্যসাচী হয়তো প্রতি রাতে তারাদের মাঝে নিজের প্রিয়াকে খুঁজতে খুঁজতে কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে যাবে। এই শূণ্যতা থেকে যাবে! এক সময় হয়তো কবি হয়ে যাবে নয়তো শিল্পীর তুলিতে ঐন্দ্রিলা’র ছবি এঁকে নিজের সাথে নিজেই কথা বলবে। প্রচলিত গানটা আবারও সত্য প্রমাণিত হলো – ” প্রেম কইরাযে প্রেমিক মরে সইগো প্রেমতো মরেনা!” এখানে প্রেমিক নয় প্রেমিকাটি মারা গেলো। প্রার্থনা করি ওপারেতে তোমাদের সাথে যেন আবার দেখা হয় তখনও ঐন্দ্রিলা সব্যসাচী’রই থাকবে।

 

      প্রকৃতি বড় শিক্ষক
জুবাইদা গুলশান আরা হেনা

কোন মানুষ যখন আপনাকে অসম্মান করে, আপনি কোন প্রতিবাদ করলেন না, এটা জ্ঞানীর লক্ষন।দ্বিতীয়বারও সহ্য করে নিলে ধরে নিতে হবে আপনি মহৎ।
তৃতীয়বারও সেই ধূর্ত লোককে শিক্ষা না দিলেতো এই অপরাধ বার বার করতে থাকবে।
কথায় আছে অফল ফলে বেশী অমানুষের কথা বেশি। হাত, পা, চোখ, নাক থাকলেইতো সবাই মানুষ হয় না। আসলে অমানুষগুলো দেখতে ঠিক মানুষেরই মতো। সম্মানিত মানুষগুলোকে অসম্মান করে কথা বলার দু’টো কারণ প্রথমতঃ ভালো মানুষগুলোর মনোবল নষ্ট করে দেয়া। দ্বিতীয়ত ঃ তাদের অপরাধের ব্যাপারে মুখ খুলতে না পারে।
অনেক বছর আগের কথা। আমার দুঃসম্পর্কের এক চাচা প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। হঠাৎ সবাই বলাবলি করতে শুরু করলেন কাকা নাকি পাগল হয়ে গেছেন। মানসিকভাবে অসুস্থ লোকদের আগে পাগল বলতো সবাই। এখন মানুষ সচেতন হয়েছে। যাই হোক, আব্বাকে দেখলাম বেশ অস্থির। চাচাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য বেশ ছোটাছুটি করছেন। আমি আব্বাকে বললাম, আব্বা ঐ চাচাতো ভালোই আছেন, হাইস্কুলে গিয়ে ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। আব্বা হেসে বললেন, এটাই তাঁর অসুখ! সে প্রাইমারির শিক্ষক, নিজের চাকরি বাদ দিয়ে অনুমতি না নিয়ে অন্য হাইস্কুলে ক্লাস নেয়ার জন্যই তাঁর জন্য ডক্টরের পরামর্শ নিতে হবে।
মানুষ যখন তাঁর ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা জানেনা এটা এক ধরনের মানসিক অসুস্থতা। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
আমি তখন ছোট। ঢাকাতে আমাদের এক আত্মীয় ছিলেন। তিনি আব্বার একটু দূরের সম্পর্কের মামা হতেন। যে কথা বলতেই হয় আব্বার আপন কোন মামা এবং আমাদের আপন কোন চাচা নাই। আব্বার সেই মামাকে আমি নানা বলে ডাকতাম। অল্প শিক্ষিত আব্বার সেই মামা বড় বড় ছেলে মেয়ে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন। তিনি বেশ উচ্ছ্বাস নিয়ে গল্প করতেন। দ্বিতীয় বিয়ের পরেরদিন সকালবেলা তিনি অনেক চিল্লাচিল্লি শুরু করলেন। তাঁর পকেটে টাকা ছিলো কে সেই টাকা নিলো? উনি লোকজনকে মজা করে বললেন, আসলে আমার পকেটে কোন টাকা- পয়সা ছিলো না। আমি জানি ছোট বউরা সাধারণত চোর হয়। ছোট বউ ভাববে টাকা চুরি করিনি তাই তিনি চিল্লা পাল্লা করে সব কিছু একাকার করে ফেলছে। যদি টাকা চুরি করে তাইলে কি করবে বুঝতেই পারছে।
ক্ষমতাহীন মানুষরা হুংকার দিয়ে আর পেশী শক্তি দিয়ে বাহাদুরি দেখায়। এই ক্ষমতা অবশ্যই স্বল্প সময়ের জন্য। মূর্খ আর ধূর্তদের সাহস বেশী থাকে। মূর্খতো দেয়ালের ওপাশে কি আছে জানেইনা। আর ধূর্ত জানে তার চালাকি অন্য কেউ বোঝেনা।
রাস্তায় হাঁটার সময় অভদ্র ছেলে পেলে বাজে কথা বললে ভালো মানুষটির কোন ক্ষতি হয় না। সমুদ্রের পানির সাথে ট্যানারির ময়লা ভেসে গেলে সমুদ্রের অথৈ পানি নোংড়া হয় না।
এজন্য বলি নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবা ভালো অন্যদের বোকা ভাবা ঠিক নয়। প্রকৃতির সবচেয়ে বড় সাফল্য ভারসাম্য রক্ষা করা। অস্থির হওয়ার কোনই কারণ নাই। সব দাম্ভিকতার অবসান আছে।

পুরুষদের না বলা কথা 

জুবাইদা গুলশান আরা হেনা

আজ আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস।এ বছরের প্রতিপাদ্য –

 “পুরুষ ও ছেলেদের সাহায্য করো।”

শুরুতেই পৃথিবীর সকল ছেলে শিশু ও পুরুষদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

কবি নজরুল ইসলাম’র নারী কবিতার দু’টি লাইন দিয়ে শুরু করছি।

” কোন কাজে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারি, 

প্রেরণা দিয়েছে শক্তি দিয়েছে বিজয়ী লক্ষ্মী নারী। “

নারী ও শিশুদের নিয়ে বেশ কিছু লেখা প্রকাশ পেলেও পুরুষদের সমস্যার কথা তেমন কলমে আসেনি। এই বিশেষ দিনটিতে পুরুষদের নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করছি। উন্নত বিশ্বের আইন নারীদের পক্ষে।

আমাদের তৃতীয় বিশ্বের পুরুষদের অনেকেই ঘরে – বাইরে নির্যাতিত। ছেলে মেয়ে বন্ধুত্ব করে, প্রেম- ভালোবাসায় সিক্ত হয় দু’জন। একত্রে তিন বছর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। কোন কারণে দু’জন বিয়ের পিঁড়িতে বসতে না পারলে ঐ ছেলেটির নামে অভিযোগ করে বলবে বছরের পর বছর মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। ছেলেটিকে তখন আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। আমার প্রশ্ন একদিন জোর করে ধর্ষণ করতে পারে তাই বলে বছরের পর বছরের সম্পর্কটির পাপ- পূণ্য, ভালো – মন্দ, ন্যায় – অন্যায়ের দায় দু’জনের উপরেই বর্তায়। কোন মেয়ে অনিচ্ছুক হলে বছরের পর বছর সম্পর্ক টিকে থাকে না। আরেকটা ক্ষেত্রে দেখা যায় দীর্ঘ ০৫ ( পাঁচ) বছর প্রেম করে বিয়ের সময় মেয়েটাই বলে দেনমোহর দিতে হবে ত্রিশ লক্ষ টাকা। দেখা গেল ছেলেটা স্টুডেন্ট বা বেকার বা ছোট একটা কাজ করে। প্রেমিকা ভালোবাসার ঘায়ে জোর করে বিয়েতো করবেই আবার সুন্দর মিস্টি করে হাসতে হাসতে দেনমোহরের বোঝাটা চাপিয়ে দিয়ে কি এক পৈশাচিক আনন্দ পায়। দেনমোহর আজকাল কিছু মেয়েদের কাছে ব্যবসায়িক রূপ নিয়েছে। একটা মেয়ে বিশ লক্ষ টাকা করে দেনমোহর নিয়ে পর্যায়ক্রমে ডিভোর্স দিয়ে দিয়ে তিনটা বিয়ে করতে পারলেই ষাট লক্ষ টাকা ক্যাশ। একেবারে বিনা পুজির ব্যবসা। অনেক বড় দেনমোহর করার কারণেও স্বামী সংসারের প্রতি মমতা জন্মায় না, ডিভোর্স করতে মেয়েরা আগ্রহী থাকে। সে জানে যার দোষেই ডিভোর্স হোক না কেন দেনমোহরের টাকাটা সে পাবে। একটা ছেলে সারাজীবন চাকরি করেও এই পরিমাণ টাকা অনেকে সঞ্চয় করতে পারে না। ছেলের দেনমোহরের টাকা শোধ করতে অনেক সময় বাবা মা’র জমি জমা, গহনা বিক্রি করে দিতে হয়। আবার কিছু কিছু মেয়ে আদো আদো কথা বলে বিয়েটা করে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে একজন ভালো প্রশাসক হয়। কোন কিছু মানিনা মানবোনা। ছেলে বউয়ের ভয়ে বাবা- মা, ভাই – বোন আতংকে থাকে।

যে কাজগুলো বাবার বাড়িতে নিয়মিত করতো শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে একদম আদরের দুলালী হয়ে যায়। চাকরিও করেনা! ঘরের কাজও করেনা! দিনশেষে পরিবারের সবার দোষ ত্রুটি কানে দেয়াই প্রধান কাজ।

আমি কিছু কিছু মেয়ে বা নারীদের কথা বলছি, সব মেয়ে বা নারী এমন নয়। যারা সীমা লংঘন করে তাদের পরিনাম কখনোই ভালো হয় না৷ স্রোতের বিপরীতে চলা নারীকে জীবনসঙ্গী হিসাবে পেলে পুরুষ মানুষটির জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। নারীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ।

একটা প্রবাদ দিয়ে শেষ করবো,

 ” সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে

গুণবান পতী যদি থাকে তাঁর সনে! “