

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই-আগষ্ট গণহত্যায় সরাসরি জড়িত থাকা এবং এতে প্ররোচনার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১২০ জনকে উল্লেখ করে ২৫০/৩০০ অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে চিহ্নিত পুলিশ কর্মকর্তা ও মিডিয়ার কতিপয় কর্মকর্তারও নাম রয়েছে।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের আগে কদমতলীতে ১৯ জুলাই ২০২৪ ইং তারিখ বিকাল ০৫.১৫ ঘটিকার সময় মোঃ মাসুদ (৪০), পিতা মৃত- আঃ গফুর, সাং- ৩৮৩৬ মেরাজনগর, ব্লক- বি, থানা- কদমতলী, জেলা-কুমিল্লা মধ্যবয়সী এক যুবককে গুলি করে। হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী হেনা বেগম (৩৭) বাদী হয়ে কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।
গত ১৯শে জুলাই সন্ধ্যায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যোগ দিলে আসামিরা তাকে কদমতলী থানার প্যারাডাইস প্যালেস নির্মানাধীন বিল্ডিংয়ের সামনে গুলি করে হত্যা করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মাসুদের মাথায় গুলি করিলে বাদীর স্বামী রাস্তায় লুটিয়ে পড়িলে আসামীরা মাসুদের মাথায় এলোপাথারী কোপাইয়া গুরুত্বর জখম করে। আশেপাশের লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে এক দিন চিকিৎসার পর অর্থাৎ ২০ জুলাই দিবাগত রাত ০১.০০ ঘটিকার সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। মাসুদের প্রাণ হারানোর প্রায় ২ মাসের মাথায় গত ০৪/০৯/২০২৪ইং তারিখে তার স্ত্রী হেনা বেগম বাদী হয়ে কদমতলী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) একটি সূত্র এই মামলার তথ্য জানায়।
কদমতলী থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহমুদুর রহমান মামলাটি এফ.আই.আর হিসেবে গন্য করেন। মামলার অগ্রগতির বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি। কদমতলী থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কদমতলী থানার ওসি।
মামলার কাগজে দেখা যায়, মামলার আসামি সংখ্যা ১২০ জন সহ অজ্ঞাতনামা ২৫০/৩০০ জন। যাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা সরকারের মন্ত্রী, এমপি এবং শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে হুকুমের আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের মন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল, সালমান এফ রহমান, হাসান মাহমুদ, শেখ সেলিমকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া সাবেক আইজপি, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার সাবেক পুলিশ কমিশনারসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। হাবিবুর রহমান, আসাদুজ্জমান মিয়া, বিপ্লব কুমার, হারুনুর রশিদ উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, মেয়র, দুদক চেয়ারম্যান, দুর্নীতিবাজ আমলা, চিহ্নিত ব্যবসায়ী, ব্যাংক মালিকের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়া জন্য আর্থিক সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আসামি হিসেবে আরও রয়েছেন তাজুল ইসলাম, হাজী জিল্লুর রহমান, এডভোকেট ফারুক ৫২ নং ওয়ার্ড সভাপতি আওয়ামী লীগ, মোঃ ফারুক মিয়া যুবলীগ নেতা, মোঃ নির্জন সভাপতি ৪নং ইউনিট ৫২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, আল-আমিন হাসান সাবেক সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রলীগ। প্রমুখ।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কদমতলী থানার ওসি বলেন, কদমতলী থানার মামলা নং- ০৬, তাং- ০৪/০৯/২০২৪ইং, ধারা- ১৪৩/৩০৭/৩২৬/৩০২/১০৯/ ১১৪/৩৪ দন্ড বিধি ধারায় এফ.আই.আর হিসেবে গন্য করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্র) মোঃ শাহিনকে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :