[gtranslate]

ইউএনও’র ক্ষমতার দাপটের কাছে অসহায় ত্রিশাল


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৯, ২০২৩, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ / ২০
ইউএনও’র ক্ষমতার দাপটের কাছে অসহায় ত্রিশাল

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহে ত্রিশালে আইন না মেনে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তাছাড়াও আরো কিছু গাছের ডাল গাছের ডালপালাও কাটা হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এ যেন ইউএনও’র ক্ষমতার দাপটের কাছে অসহায় গাছপালাও। জানা গেছে, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) পরিত্যক্ত জমি ভাড়া করে সেখানে স্থানীয়রা প্রতিষ্ঠা করেন ত্রিশাল কিন্ডার গার্ডেন স্কুল। তবে স্কুলের এই জায়গাটি নিরিবিলি পরিবেশ থাকায় ইউএনও’র লোভ হয়ে যায়। তার নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় স্কুলটি সেখানে ১০-১২শিক্ষার্তী ভর্তির মাধ্যমে চলতি বছরেই চালু করা হয় উপজেলা প্রশাসন ল্যাবরেটরি স্কুল।  ইউএনও তার তত্বাবধানে স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের শুরুতে উপরে ফেলা হয় মেহগনি জাতীয় ৩/৪টি চারা গাছ।নতুন ভবন স্থাপনার নির্মাণ শেষে সম্প্রতি নিয়মবহির্ভূত ভাবে পুরোনো ৩০/৩৫ ফুট উচ্চতার অনেকগুলো গাছের ডাল পালাও কেটে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দুটি গাছের গোড়া থেকে ৮/১০ ফুট রেকে বাকিটুকু কেটে ফেলা হয়েছে।  কেবল গাছ কাটাই নয়, তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট উৎস ছাড়া বিশ লাখ টাকা ব্যায়ে স্কুল ভবন মিমাণের অভিযোগ সহ বিজিএফ ও বিভিন্ন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে গত ৩০ শে মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভার বহবান করলে তার ডাকে সাড়া না দিয়ে সভা বর্জন করেছে উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ।  উপজেলার কয়েকজন চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন ইউএনও’র ক্ষমতার কাছে তারা জিম্মি। তার অনিময়ের কারণে গত প্রায় ৪মাস ধরে ভিজিডি প্রকল্পের চাল হতে বঞ্চিত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কার্ডধারী হতদরিদ্ররা। এসব অনিয়ম ও ক্ষমতার দাপট ইউএনও পার পেয়ে গেলেও বিদায় লগ্নে তার সরকারী গাছ কাটার ব্যাপারটি উপজেলাব্যাপী বেশ -সমালোচনার নিষয় উঠেছে। এব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মতিন সরকার সাংবাদিকদের জানান- উপজেলা প্রশাসনের ২০ লাখ টাকা ব্যায়ে স্কুল ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও কোন বিল বাউচার নেই দপ্তরে।  তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তারুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন-উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে দরপত্রভূক্ত গাছের ঠিকাদার আমার অনুমতি ছাড়াই এই কাজ করেছেন।ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে ঠিকাদার হাসান শহীদ সোহেল জানান- দরপত্রের বাইরে ইউএনও’র নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে দুটি গাছ কাটা হয়েছে। এদিকে উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাঝেও ইউএনওকে নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান-উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে ত্রিশালে যোগদানের পর থেকেই কারো সাথে কোন পরামর্শ না করেই একক ক্ষমতা বলেই সকল কাজ সম্পন্ন করেছেন ইউএনও আক্তারুজ্জামান। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা সকলের নাগরিক অধিকার থাকলেও ইউএনও আক্তারুজ্জামান এর অনিয়ম ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে মামলার ভয় দেখানো হয়। অপরদিকে ত্রিশালে উপজেলা প্রশাসন ল্যাবরেটরি স্কুল নামক আলোচ্য এই প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ডে প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে নিজের নাম উল্লেখ করে প্রচার চালিয়েছেন ইউএনও আক্তারুজ্জামান। প্রশ্ন উঠেছে- এত টাকা বরাদ্দের এই স্কুল ভবনটির নির্মান কাজ টেন্ডার ছাড়া ও উপজেলা পরিষদের রেজুলেশন ছাড়া স্কুল নির্মান করা কিভাবে সম্ভব? ইউএনও’র নির্দেশ ছাড়া ঠিকাদার গাছ কাটবে এটাই কিভাবে বিশ্বাসযোগ্যনা। এব্যাপারে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিনিধি ইউএনওর কাছে জানতে চাইলে ইউএনও দায় এড়ানোর জন্য ঠিকাদারকে দোষারোপ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপান বলেও মন্তব্য চলছে। সুত্র জানিয়েছে-ইউএনও তার বাসার উত্তর পাশে উপজেলা পরিষদের জায়গায় স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে একটি খেলার মাঠে সীমানা প্রাচীর দিয়ে টেন্ডার ছাড়াই ৩০/৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুখু মিয়া পার্ক নির্মাণ করেছেন। আর সেই পার্কটির নামকরন করেছেন তিনি নিজেই এবং টেন্ডার ছাড়াই নির্মান কাজটি করেছেন। সরকারী নির্দেশানুযায়ী খেলার মাঠে পার্ক নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকার পরেও ইউএনও কোন অদৃশ্য ক্ষমতাবলে পার্কটি নির্মাণ করেছেন এনিয়েও চলছে বিভিন্ন মহলে কানাঘুষা। বাংলাদেশের ত্রিশালই একমাত্র উপজেলা যেখানে দু:স্থ মহিলারা ৪ মাস যাবত ভিজিডি’র চাউল পাচ্ছেননা। বিভিন্ন ইউপি থেকে প্রেরিত ভিজিডির তালিকার বেশীর ভাগ নাম কর্তন করে অনেক বিত্তশালীদের নামও সেখানে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জনশ্রুতি আছে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুক্তি রাণীর সাথে পারষ্পরিক যোগসাজসে জনপ্রতি ৫/৭ হাজার টাকার বিনিময়েএ কাজটি করা হয়েছে।  জানুয়ারী ২০২৩ হতে নতুন কার্ড ইস্যুর কথা থাকলেও অদ্যাবধি মন্ত্রনালয়ে তালিকা প্রেরন করা হয়নি। এদিকে চেয়ারম্যানরাও তাদের প্রেরিত তালিকাকে উপেক্ষা করে ইউগনও’র কাটাছেঁড়া তালিকায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছেন। অপর দিকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রেরিত ভিজিডি তালিকা বাস্তবায়ন দাবীতে গত গত ৩০ শে মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারগণ। ইউএনও’র অনিয়মে বাধা দেওয়া সরকারী কাজে বাধা ” প্রদানের মিথ্যা মামলার শিকার উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুস মন্ডল জানান- ইউনিয়নের রায়মনিতে গরীব অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর নির্মানের সময় লিন্টারে ৪টি রডের পরিবর্তে ২টি রড দেয়া হলে প্রতিবাদ করেন চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুস মন্ডল।  এই প্রতিবাদ করার কারণ ইউএনও আক্তারুজ্জামান ষড়যন্ত্র করে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের বিরুদ্ধে “সরকারী কাজে বাধা “প্রদানের মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ইউএনও’র এসব অনিয়ম আর ক্ষমতার কাছে ত্রিশালের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে বলেও জানান চেয়ারম্যান কদ্দুস মন্ডল সহ ত্রিশালের অনেকেই।