[gtranslate]

আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ ঘরের নির্মাণ কাজে চলছে বিভিন্ন অনিয়ম! 


প্রাচেস্টা নিউজ প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৩, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ / ২১
আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ ঘরের নির্মাণ কাজে চলছে বিভিন্ন অনিয়ম! 

আবু তালেব,স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুর জেলার গঙ্গচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের খামার মোহনায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য সরকারি অর্থায়নে দুই শতাংশ জমির উপরে চলছে ৩২ টি সেমি পাকা ঘর নির্মাণের কাজ। ঘর নির্মাণ কাজে হচ্ছে বিভিন্ন অনিয়ম। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আলমবিদিতর ইউনিয়নের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ নির্মাণ কাজ চলাকালীন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেকটি ঘর নির্মাণের কাজে ১ নাম্বার ইট এর সাথে ব্যবহার করা হচ্ছে ২ ও ৩ নাম্বার ইট। ঘর নির্মাণ ও মেঝে ভরাটের জন্য প্রয়োজনীয় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে প্রকল্পের পাশের জমি থেকে। যার কারণে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বালু উত্তোলনের ফলে আশে পাশের জমি হয়ে যাচ্ছে নিচু। স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের সকল ঘরের বালু পাশের জমি থেকে তোলার ফলে আশেপাশের জমি গুলোর ক্ষতি হচ্ছে। ১ নাম্বার ইটের সাথে ২ ও ৩ নাম্বার ইট দিয়ে নির্মাণ হচ্ছে ঘর । নির্মাণের জন্য বালু ও সিমেন্টের পরিমাণ যেখানে দেয়ার কথা চারের এক সেখানে দেয়া হচ্ছে ছয়ের এক। তাই নির্মাণকৃত ঘর গুলো নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে কত দিন টিকবে ? চেয়ারম্যান আশ্রায়ণ প্রকল্পের দেখাশোনা দায়িত্বে রয়েছে ১ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ বদিয়ার রহমান। তার পরেও কিভাবে কাজের অনিয়ম হচ্ছে ? গ্রাম পুলিশ উপস্থিত থেকে কি করছে ? ঘটনা স্থানে উপস্থিত মৃত মফেল উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘর নির্মাণের জন্য ১ নাম্বার ইট এর সাথে ২ ও ৩ নাম্বার ইট দিয়ে কাজ করতেছে। তিনি বলেন, দুই ট্রাক ইট এসেছে ২ ও ৩ নাম্বার। এ সময় উপস্থিত ঘর নির্মাণ শ্রমিকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কথা আমরা জানি সব ইট ১ নাম্বার আসে কিন্তু মাঝে মাঝে ২ নাম্বার এসে যায়। তবে কম আসে। আর ২ নাম্বার ইট আসলে আমরা কি করবো ? শুধু তাই নয় এসব অনিয়মের পাশাপাশি উঠেছে আশ্রায়নের ঘর বিক্রির অভিযোগ। জানা যায়, বদিয়ার রহমান গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ঘর বিক্রির কথা। আশ্রায়ণের প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দ ঘর প্রাপ্ত হন খামার মোহনা কড়ার পাড় এলাকার ওহেল উদ্দিনের ছেলে আনসার আলী। তিনি আশ্রায়ণে দ্বায়িত্ব পালন করা গ্রাম পুলিশ বদিয়ারের সহযোগিতায় তার নামে বরাদ্দকৃত ঘরটি একই গ্রামের গৃহহীন মরিয়ম নেছার কাছে ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকায় দরে ৮,০০০/- আট হাজার টাকা নগদ নিয়ে বিক্রি করেন। মরিয়ম নেছা বলে,ঘরের জন্য তিনি ৮,০০০/- (আট হাজার) টাকা দেন। কিন্তু সাংবাদিকরা জানার পর তাকে ২,০০০/-(দুই হাজার টাকা) ফেরত দেন। বাকি টাকা দিলে আমি ঘর ছেড়ে দিবো। ঘরের মালিক আনসার আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার দুটি মেয়ে আছে তাদের নিয়ে আমি ঘরে থাকতাম। এলাকার মানুষ বলে ওখানে থাকলে আমার মেয়ে বিয়ে দিতে সমস্যা হব। তাই আমি ওখান থেকে চলে আসি। তখন গ্রাম পুলিশ বদিয়ার আমার কাছে আসে বলে ঘরে না থাকলে তার সমস্যা হবে।আর বলে ঘর না থাকলে ঘরের কাগজ ও চাবি দিতে। তা না হলে আমার নামে মামলা হবে। মামলার ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ঘরের কাগজ ও চাবি নিয়ে যায়। তারপর সে কাকে ঘর দিছে বা কত টাকা নিয়েছি আমি তার কিছুই জানিনা। বর্তমানে আমি আমার ভাইয়ের জমিতে বাড়ি করে আছি। এখন আমার ভাই ও জমি ফাঁকা করে দিতে বলেছে। এ বিষয়ে আলমবিদিতর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন সুজন বলেন, আশ্রায়ণের ঘর তৈরির অনিয়মের কথা তিনি জানি না। উপজেলা প্রশাসনের নজরদারির মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ চলছে। তবে, গ্রাম পুলিশ বদিয়ার আরো কয়েক জনের কাছে ঘরের জন্য টাকা নিয়েছে আমার কাছেও এমন অভিযোগ করেছে অনেকই।